Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ১৯, ২০২৪

দিলীপকে তোপ কীর্তির, পাল্টা জবাবে ‘খেলা’ জমালেন গেরুয়া নেতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিলীপকে তোপ কীর্তির, পাল্টা জবাবে ‘খেলা’ জমালেন গেরুয়া নেতা

বাংলা আমার বাংলা রবে / বন্ধু এবার খেলা হবে। মন্তেশ্বরের মাটিতে পা রেখে ঘোষণা তৃণমূল প্রার্থী তিরাশির বিশ্বজয়ী ক্রিকেট দলের সদস্য বর্ধমান-দুর্গাপুরের তৃণমূল প্রার্থী কীর্তি আজাদ। সেইসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষকে ‘কলিযুগের মহিষাসুর’ বলে তোপও দাগেন কীর্তি। কম যান না এই কেন্দ্রেরই বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষও। কখনও মমতাকে আক্রমণ, তো কখনও কীর্তি আজাদকে ‘রাজনৈতিক সন্ন্যাসে’ পাঠানোর কথা বলে ‘খেলা’ জমিয়ে দিয়েছেন দিলীপ। দিলীপের ‘কুকথা’ প্রসঙ্গ তুলে কীর্তির মন্তব্য, ‘যে নারীদের সম্মান করে না, মা দুর্গাকে অসম্মান করে, মমতা ব্যানার্জির পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তার কথা বলার কোনও অধিকার নেই।’ দিলীপ ঘোষের মস্তিষ্কের স্থিরতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কীর্তি। বলেন, ‘বিজেপির উচিত ওনাকে অবিলম্বে হাসপাতালে পাঠিয়ে নিরাময়ের ব্যবস্থা করা। বিজেপি না পারলে তৃণমূলের ভাইরাই সেটা করিয়ে দেবে।’ দিলীপ জানান, ‘গোটা রাজ্যে এবার তৃণমূলের ভরাডুবি হবে। হতাশা থেকে আজেবাজে মন্তব্য করছেন তৃণমূলের প্রার্থীরা।’

কালনা মহকুমার অধীন মন্তেশ্বর বিধানসভাটি বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভার অন্তর্গত। গত লোকসভা  ভোটে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী এস আলুওয়ালিয়া জিতলেও ভোটের নিরিখে মন্তেশ্বর বিধানসভা এলাকায় আলুওয়ালিয়া পিছিয়ে ছিলেন। বিধানসভা ভোটেও মন্তেশ্বর কেন্দ্রে গোটা জেলার মধ্যে রেকর্ড ভোটে জেতেন তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি। পঞ্চায়েত ভোটেও মন্তেশ্বর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলেরই জয়জয়কার হয়। মন্তেশ্বরে লিড আরও বাড়াতে মন্তেশ্বর বিধানসভা জুড়ে চরকি পাক দিচ্ছেন কীর্তি। গত ৫ বছরে সাংসদ থাকাকালীন আলুওয়ালিয়া মন্তেশ্বরের জন্য কী করেছে, তার হিসেব চান। সেই প্রসঙ্গে মন্তেশ্বর-সহ গোটা বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা এলাকাকে তাঁর ‘কর্মভূমি’ আখ্যা দিয়ে কীর্তি বলেন, ‘সুযোগ পেলে কাজ করে দেখিয়ে দেব।’ প্রতিদ্বন্দ্বী দিলীপ ঘোষ সম্পর্কে কীর্তির প্রশ্ন, ‘উনি মেদিনীপুর থেকে পালিয়ে এলেন কেন? উনি বাংলার জন্য কিছু করেননি। করবেনও না। যদি সদিচ্ছা থাকত, তাহলে কেন্দ্র সরকার যে বাংলার হকের ১ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে, সেটা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য সংসদে সরব হতেন।’ নিজেকে ‘সাচ্চা হিন্দু’ বলে অভিহিত করেন কীর্তি। মাথার টিকি দেখান। আর বলেন, ‘আমি মৈথিলী ব্রাহ্মণ। কাশ্যপ গোত্র। কট্টর হিন্দু হলে কী হবে, সব ধর্মকে সম্মান দিই। এটা আমার ধর্মেরই শিক্ষা। দিলীপ ঘোষরা অন্য ধর্মকে ঘৃণা করেন। বিজেপি-আরএসএস হল নকলি হিন্দু।’ আর দিলীপ ঘোষের দাবি, ‘মেদিনীপুরে পদ্ম ফুটিয়েছি। বর্ধমান-দুর্গাপুরেও ফোটাব।’

মন্তেশ্বরের বিভিন্ন গ্রামে সেখানকার সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে কথা বলছেন কীর্তি। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিষেবা ঠিকঠাক মিলছে কিনা খোঁজ নিচ্ছেন। কোনও সমস্যা থাকলে জেনে নেন। সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি বিহারের লোক হলে কী হবে, আমি আপনাদের সঙ্গে এই বাংলায় থাকতে এসেছি। আপনারা আশীর্বাদ করুন। তাহলে আজীবন আপনাদের পাশে থাকব। আপনাদের সেবা করে যাব।’ এলাকায় ঘুরে কীর্তির অভিজ্ঞতা, ‘শুনেছিলাম মন্তেশ্বর তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ। এসে যা দেখলাম, যা শুনেছি তা একশো শতাংশ সত্যি।’ ষাটোর্ধ্ব কীর্তি ভোটারদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছোড়েন, ‘বেকারদের চাকরি, প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার যে গ্যারান্টি মোদি দিয়েছিলেন, সেই গ্যারান্টি কোথায় গেল?’ সেইসঙ্গে ১০০ দিনের মজুরি না দেওয়া, বাংলায় এই প্রকল্পের মজুরির পরিমাণ কমানো, আবাস যোজনার ক্ষেত্রে ‘বাংলার প্রতি বঞ্চনা’র বিরুদ্ধে সরব হন কীর্তি। আর প্রচারে বেরিয়ে দিলীপ ‘তৃণমূলের চুরি, রাজ্যকে পিছিয়ে রাখার’ প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!