- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে বাতিল স্থগিতাদেশ। বিতর্কের মাঝে মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নাটুকে আইনি পালাবদল। একক বেঞ্চের জারি করা ১৫ দিনের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ খারিজ করে দিল কেরালা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’-এর মুক্তিতে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। শুক্রবার ছবিটি দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে আদালতের নির্দেশে তা আটকে যায়। তবে নতুন রায়ে ফের খুলে গেল মুক্তির পথ।
শুক্রবার, বিচারপতি সুশ্রুত অরবিন্দ ধর্মাধিকারী এবং বিচারপতি পি. ভি. বালাকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের নির্দেশ বাতিল করে দেয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত টানা শুনানির পর শুক্রবার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের নির্দেশ ঘোষণা করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সেন্সর শংসাপত্র চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া আবেদনগুলি প্রকৃতপক্ষে জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) চরিত্রের। সে ক্ষেত্রে একক বেঞ্চ কীভাবে তা শুনল, সে প্রশ্নও ওঠে শুনানিতে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি বেচু কুরিয়ান থমাস ছবিটির মুক্তিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন। তিনি সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া যথাযথ ভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, ছবির বিষয়বস্তুতে সাম্প্রদায়িক অশান্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সে কারণেই ১৫ দিনের জন্য মুক্তি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
সে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুত উচ্চতর বেঞ্চে যান প্রযোজক বিপুল অমৃতলাল শাহ। আদালতে তাঁর বক্তব্য ছিল, মুক্তির প্রাক্কালে স্থগিতাদেশ জারি হওয়ায় প্রযোজকদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। পরিকল্পনা ছিল, ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতে প্রায় ১৫০০ এবং বিদেশে ৩০০-রও বেশি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি একযোগে মুক্তি পাবে। এই পরিস্থিতিতে মুক্তি আটকে গেলে আর্থিক ভাবে তাঁরা চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন বলেই দাবি করেন প্রযোজক পক্ষ। ছবিটিকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। টিজার ও ট্রেলার প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে আপত্তির সুর শোনা যায়। প্রশ্ন ওঠে, কী ভাবে সেন্সর বোর্ড ছবিটিকে ছাড়পত্র দিল। জীববিদ্যা বিশেষজ্ঞ শ্রীদেব নাম্বোদরি আদালতে অভিযোগ জানান, ছবির ট্রেলারে কেরালাকে অত্যন্ত নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার সুদূরপ্রসারী সামাজিক প্রভাব পড়তে পারে। শুনানির সময় আদালত প্রাথমিক ভাবে পিটিশনারের বক্তব্য ‘সম্ভবত’ গ্রহণযোগ্য বলেই মন্তব্য করেছিল। পাশাপাশি ফ্রেডি ভি. ফ্রান্সিস নামেও একটি আবেদন দায়ের হয়, যেখানে ছবির শিরোনামে ‘কেরালা’ শব্দের ব্যবহারকে ‘ঘৃণার বিপণন’-এর অংশ বলে অভিযোগ করা হয়।
ট্রেলারে দেখা গেছে একাধিক ভীতসন্ত্রস্ত তরুণীর কাহিনি। সেখানে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণের অভিযোগের ইঙ্গিত রয়েছে। জোর করে ‘মাংস’ খাওয়ানোর চেষ্টার অংশও রয়েছে। চরিত্রদের মধ্যে সুরেখা নাইয়ার ও নেহা সন্তের মতো নাম শোনা যায়। নেপথ্য কণ্ঠে সংলাপ— ‘আমাদের মেয়েরা প্রেমে পড়ে না, ফাঁদে পড়ে। আর সহ্য নয়, এবার ঘুরে দাঁড়াবে।’ কেউ আইএএস হওয়ার স্বপ্ন দেখত, কেউ প্রতিষ্ঠিত নৃত্যশিল্পী হতে চাইত, কেউ আবার প্রেমের টানে ধর্ম পরিবর্তনের কথা বলেছে— এমন বয়ানই উঠে এসেছে প্রচারসামগ্রীতে। একই সঙ্গে দেশকে মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব কারণেই ছবিটির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপনের অভিযোগ উঠেছে, আগের কিস্তির মতোই।
আইনি জটিলতার মধ্যেই বক্স অফিসে আগাম সাড়া মিলেছিল। মুক্তির আগে ‘বুক মাই শো’ প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৫ হাজার টিকিটের প্রি-সেল হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। যদিও স্থগিতাদেশ জারির পর জানানো হয়, যাঁরা টিকিট কেটেছেন তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, পিভিআর, আইনক্স এবং সিনেপোলিসের মতো বড়ো চেন এই ছবির শো তালিকাভুক্ত করেনি বলে অভিযোগ। ‘বুক মাই শো’ ও ‘ডিস্ট্রিক্ট’-এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছবির টিকিট সর্বত্র দেখা যায়নি। তবে মুম্বইয়ের বেশ কয়েকটি ম্যাক্সাস মাল্টিপ্লেক্সে বুকিং চালু ছিল। ‘বুক মাই শো’ সূত্রে খবর, স্থগিতাদেশের মধ্যেও মুম্বইয়ের ২১টি প্রেক্ষাগৃহে টিকিট ক্রয়ের সুযোগ ছিল। অন্যদিকে কলকাতায় শুক্রবার সিনেপোলিসে এ পর্যন্ত শো-এর কোনো স্লট রাখা হয়নি।
কেরালা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে আপাতত কেটে গেল আইনি অনিশ্চয়তা। যদিও বিস্তারিত রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবু শিল্পমহলের মতে দ্রুত আপিল শুনানি ও রায় চলচ্চিত্র শিল্পের বাণিজ্যিক বাস্তবতার গুরুত্বকেই সামনে আনল। কারণ মুক্তির সূচি পিছিয়ে গেলে আর্থিক ক্ষতি যে কতটা গভীর হতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ছবিটি মুক্তির সুযোগ পেলেও, বিতর্ক থামার লক্ষণ নেই। এক দিকে নির্মাতাদের বক্তব্য, তাঁদের ছবি সংবিধানপ্রদত্ত সৃজনশীল স্বাধীনতার পরিসরের মধ্যেই পড়ে। অন্যদিকে, আরেক অংশ বলছেন, এটি ঘৃণার প্রোপাগান্ডা মাত্র। এতে সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
❤ Support Us






