- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ২৫, ২০২৩
পদের লোভ নেই, অখিলেশের সঙ্গে বৈঠক শেষে বললেন নীতিশ । বিরোধী ঐক্যের নেতৃত্বে কে, উঠলো প্রশ্ন
চিত্র: সংবাদ সংস্থা
বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্য গড়তে এবার অখিলেশের গড়ে নীতিশ, তেজস্বী। দুপুরে মমতার সঙ্গে বৈঠকের পর সোমবার রাতেই লক্ষ্ণৌতে সমাজবাদী পার্টির প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন তাঁরা ।
নীতিশ অখিলেশ যাদবের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার পরে সংবাদ মাধ্যমের কাছে বলেন, দক্ষিণপন্থী দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি বিরোধী দলগুলোকে একত্রিত করার জন্যই তাদের আলোচনা চলছে। তিনি আরও বলেন, “আমার ক্ষমতা এবং পদের লালসা নেই, আমার প্রচেষ্টা হল দেশের স্বার্থে কাজ করা।” তবে জোটের নেতৃত্বে কে থাকবেন সেই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঐক্য গঠনের পরই তা নির্ধারণ করা হবে। অন্যরাও থাকবে, আমরা বসে একসঙ্গে যৌথভাবেই সিদ্ধান্ত নেব।”
ইতিমধ্যে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দেশ থেকে বর্তমান বিজেপি সরকারকে উৎখাত করতে নীতিশ কুমারের প্রতি সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। অখিলেশ বলেন, “বিজেপি ভারতের ইতিহাস পাল্টাতে চায়। তারা দেশের ইতিহাস জানে না। তারা কোনো কাজ করছে না, শুধু নিজেদের প্রচার করছে। আমরা বেশিরভাগ বিরোধী দলকে জোটবদ্ধ করে আসন্ন নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছি।”
#WATCH | Lucknow, UP: BJP is continuously trying to finish democratic values of the country. We all are here with people of India to save country from unemployment, inflation & poverty. We want BJP govt to exit so that country can be saved: Samajwadi Party chief Akhilesh Yadav pic.twitter.com/krWa2z8eig
— ANI (@ANI) April 24, 2023
আগামী সাধারণ নির্বাচনে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে নীতিশ কুমার সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছেন। নীতিশ কুমার রাজধানীতে রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গের সঙ্গে ইতিমধ্যেই দেখা করেছেন। তার কয়েকদিন পর প্রথমে মমতা তার পর একই দিনে অখিলেশের সঙ্গে তাঁর এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ । অখিলেশ যাদবের সঙ্গে দেখা করার আগে, নিতিশ কুমার ও তেজস্বী যাদব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোমবারই দুপুরে নবান্নে সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে নবান্ন থেকে নীতিশ ও তেজস্বীকে দু’পাশে বসিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “বিজেপিকে শূন্য করতে হবে। আমরা একসাথে এগিয়ে যাব। আমাদের কোনও ব্যক্তিগত অহং নেই, আমরা সম্মিলিতভাবে একসাথে কাজ করতে চাই।” অখিলেশের সঙ্গে বৈঠকের পরও নীতীশের গলায় সেই একই সুর ধ্বনিত হল।
তবে এই জোট গঠন প্রক্রিয়াকে ঘিরে ইতিমধ্যেই যে প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা হল কংগ্রেস ও তৃণমূলকে কী শেষ পর্যন্ত সহমতে আনতে সক্ষম হবেন নীতিশ কুমার ? বামেরাও কী তৃণমূলকে নিয়ে তৈরি হওয়া জোটে এসে বিজেপির বিরোধীতায় সামিল হবে? বামেদের লক্ষ্য বিজেপি ও তৃণমূল থেকে সমান দূরত্ব বজায় রাখা। আর এটা না হলে নীতিশ কুমারের জোট গড়ার জন্য এই দৌত্য অর্থহীন হয়ে যাবে বলেই রাজনৈতিক অভিজ্ঞরা মনে করছেন। আর তার ফলে বিজেপির ভোটের বাক্সই পূর্ণ হয়ে উঠবে। কেন না অতীতে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে কাউকে সামনে না রেখে যে কেন্দ্র বিরোধী জোট হয়েছে, তা বাস্তবে কোনও দিশা দেখাতে পারেনি। বিজেপি নরেন্দ্র মোদিকেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরে যেখানে ইতিমধ্যে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছে, অমিত শাহ সম্প্রতি কলকাতায় এসে এই রাজ্য থেকে লোকসভা নির্বাচনে যখন ৩৫টি আসন পাওয়ার দাবি করছেন। বলছেন, ২০২৪ এও নরেন্দ্র মোদিই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেই অবস্থায় কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে না ধরে শুধু দেশ সেবা করার স্লোগান দিয়ে জোট করলে তা বিজেপিকে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারবে সেটাই প্রশ্ন।
❤ Support Us






