Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫

জাতিগত হিংসায় গণহত্যার আশঙ্কা সুদানে! দারফুরের মসজিদে ড্রোন হামলায় হত ৭৮, জখম বহু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জাতিগত হিংসায় গণহত্যার আশঙ্কা সুদানে! দারফুরের মসজিদে ড্রোন হামলায় হত ৭৮, জখম বহু

দীর্ঘদিন ধরেই গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা বয়ে চলেছে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ সুদানের বুকে। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে যে, প্রতিটি নতুন দিন আরো অনিশ্চয়তা, আরো মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে। এর মধ্যেই আবারও রক্তাক্ত হয়েছে দারফুর। এল-ফাশের এই শহরের একটি মসজিদে ভয়াবহ ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে প্যারামিলিটারি বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে। যদিও হামলার দায় স্বীকার করেনি তারা। কোনো সরকারি বিবৃতিও আসেনি বাহিনীর মুখপাত্রের তরফে।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার, স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোরের নামাজ চলাকালীন, আচমকাই ড্রোন ভেঙে পড়ে মসজিদের উপর। চোখের পলকেই মৃত্যু হয় প্রার্থনারত বহু মানুষের। দারফুরের এক শীর্ষ চিকিৎসক জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত ৭৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ‘নামাজ পড়া চলছিল। হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারদিক। ধুলোর ঘন চাদরের নিচে চাপা পড়ে যান প্রার্থনারত মানুষজন।’

গত ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে দারফুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে চলেছে নৃশংস লড়াই। তারই সর্বশেষ পরিণতি এই মসজিদ ধ্বংস ও গণহত্যা। এল-ফাশের শহরটি সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি বলে পরিচিত। ফলে এখানকার দখল নেওয়া আরএসএফ-এর কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আগ্রাসীভাবে অগ্রসর হচ্ছে আধাসামরিক বাহিনী। লক্ষ্য একটাই—এল-ফাশেরের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এর জানা গেছিল, আরএসএফ এই শহরকে চারদিক থেকে ঘিরে তৈরি করছে কৃত্রিম প্রাচীর, যাতে কেউ শহর থেকে বেরোতে না পারে। ভিতরে আটকে থাকা মানুষদের জন্য খাদ্য, ওষুধ বা কোনওরকম সাহায্য পৌঁছনো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘ জানিয়েছে, আরএসএফ-এর এই আগ্রাসনের পেছনে রয়েছে নৃশংস জাতিগত উদ্দেশ্য। এল-ফাশেরকে ‘অ-আরব সম্প্রদায় থেকে মুক্ত’ করতে চায় তারা, এমনই দাবি উঠেছে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান ও বেসরকারি সংস্থার রিপোর্টে। এই মুহূর্তে শহরটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে, প্রতিদিন চলছে বোমাবর্ষণ, ড্রোন হামলা, নির্বিচার গুলি। চিকিৎসা নেই, খাবার নেই, নিরাপদ আশ্রয়ও নেই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন মানবিক হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে জাতিসংঘের কাছে। তাদের আশঙ্কা, এল-ফাশেরের পতন মানেই দারফুরের ইতিহাসে আর এক ভয়াবহ গণহত্যার সূচনা। যুদ্ধের নৃশংসতা প্রতিদিন গিলে খাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে সুদানে। গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক কোটি। ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক সমাজ যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, তবে আরো এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়ে পৌঁছতে আর বেশি সময় লাগবে না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!