Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২২, ২০২৫

বিহার ভোটার তালিকা থেকে কেন বাদ ৬৫ লক্ষ, শীর্ষ আদালতে হলফনামা পেশ নির্বাচন কমিশনের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিহার ভোটার তালিকা থেকে কেন বাদ ৬৫ লক্ষ, শীর্ষ আদালতে হলফনামা পেশ নির্বাচন কমিশনের

বিহারে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটার। এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে প্রবল বিতর্ক, দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, গত ১ আগস্ট যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে যাঁদের নাম ছিল না, তাঁদের নাম ও বাদ পড়ার কারণ-সহ একটি বিশদ তালিকা বিহারের ৩৮টি জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সে তালিকা গ্রামের পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস ও পঞ্চায়েত অফিসগুলিতেও টাঙানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ অনায়াসে তা দেখতে পারেন।

হলফনামায় কমিশন জানিয়েছে, তালিকা তৈরির সময় বাদ পড়া ব্যক্তিদের নামের পাশে কারণও লেখা হয়েছে— কে মারা গিয়েছেন, কে নিজের এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন, কার নাম একাধিক বার উঠেছিল ইত্যাদি। একই সঙ্গে কমিশনের দাবি, বুথ লেভেল অফিসার ও বুথ লেভেল এজেন্টদের কাছেও এই তালিকা রয়েছে, যাতে গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দারা তাঁদের কাছে গিয়ে জানতে পারেন, কেন তাঁদের নাম বাদ পড়ল। সুপ্রিম আদালতে কমিশনের বক্তব্য, ‘সুপ্রিম কোর্টের ১৪ আগস্টের নির্দেশ অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি, প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বড় দৈনিক সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন, রেডিও ও টেলিভিশনে ঘোষণার পাশাপাশি, সামাজিক মাধ্যমেও জানানো হয়েছে এই তথ্য।’

প্রসঙ্গত, বিহারে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যে সারসংক্ষিপ্ত সংশোধনী ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে যাঁদের নাম ছিল, সেই তালিকা থেকেই এবারের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধনী’ প্রক্রিয়া চলাকালীন বাদ পড়েছেন অনেকে। সংখ্যাটা ৬৫ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এ ব্যাপারে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা করেছেন আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, বিহারের প্রাক্তন বিধায়ক মুজাহিদ আলম এবং, পিউসিএল ও এডিআর-এর মতো সংগঠনগুলি। তাঁদের অভিযোগ, কমিশনের ২৪ জুনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বহু মানুষকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে, যাতে সমস্যায় পড়ছেন রাজ্যের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণ। মামলাকারীদের আরো অভিযোগ, আধার বা রেশন কার্ডের মতো সর্বজনস্বীকৃত পরিচয়পত্রকেও বাদ দেওয়া হয়েছে, ফলে তথ্যপ্রমাণ দিতে না পারায় লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন। এটা শুধু গণতান্ত্রিক অধিকারের হরণ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ, এমনটাই মনে করছেন তাঁরা।

কমিশনের পালটা দাবি, বাদ পড়া কেউ যদি মনে করেন তাঁর নাম অন্যায়ভাবে কাটা হয়েছে, তিনি দাবি-আপত্তি জানাতে পারেন। এই কাজে সহায়তার জন্য বিএলও এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নিয়োজিত। এমনকি কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আধার কার্ড জমা দিয়ে দাবিপত্র দাখিল করাও সম্ভব। ‘এসআইআর’ বিরোধী মামলার পরবর্তী শুনানি হবে শীঘ্রই, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি সূর্য কান্ত-র বেঞ্চে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!