Advertisement
  • দে । শ
  • মে ১, ২০২৩

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার ছায়া মুছে দেশের ৬২ ক্যান্টনমেন্টের নয়া নামকরণ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার ছায়া মুছে দেশের ৬২ ক্যান্টনমেন্টের নয়া নামকরণ

ভারত ব্রিটিশদের উপনিবেশ থাকাকালীন ব্রিটিশ সরকার দেশের নানা প্রান্তে বেশ কিছু ক্যান্টনমেন্ট গড়ে তুলেছিল। স্বাধীন ভারতে এবার ব্রিটিশ শাসকদের গড়ে তোলা ওই ক্যান্টনমেন্টগুলির অস্তিত্ব লোপ করা হচ্ছে। ব্রিটিস ঔপনিবেশিকতার চিহ্ন মুছে ফেলতে বর্তমানে ভারতজুড়ে থাকা মোট ৬২টি ক্যান্টনমেন্টের অস্তিত্ব বিলোপ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আর ফৌজি এলাকাগুলির পরিচয় হতে চলেছে মিলিটারি স্টেশন হিসেবে। ক্যান্টনমেন্টগুলি এবার থেকে স্থানীয় পুরসভার অন্তর্গত করা হচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, হিমাচলপ্রদেশের কাংড়া জেলাতে অবস্থিত ইওল ক্যান্টনমেন্টই ঔপনিবেশিক রীতি সর্বপ্রথম কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলেছে। দেশজুড়ে যে ৬২টি ক্যান্টনমেন্ট রয়েছে, এরপর সেই ক্যান্টনমেন্টগুলির ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত রূপায়িত হতে চলেছে। প্রসঙ্গত, ক্যান্টনমেন্ট এলাকাগুলিও এবার মিলিটারি স্টেশনে পর্যবসিত হতে চলেছে। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সাধারণ নাগরিকরাও বসবাস করেন।

সূত্রের খবর, সারা দেশের ৬২টি ক্যান্টনমেন্ট এলাকা স্থানীয় পুরসভার সঙ্গে ক্যান্টনমেন্টের অন্তর্গত সাধারণ নাগরিকদেরক বসবাসের এলাকাগুলি যুক্ত করবে। এর জেরে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মীরা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সম্পত্তিও স্থানীয় পুরসভাগুলির অন্তর্গত হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, ক্যান্টনমেন্ট এলাকাগুলি স্থানীয় পুরসভার সঙ্গে সংযুক্ত না থাকার দরুণ এতদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সরকার কাছ থেকে কল্যাণমূলক বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পবাবদ টাকাপয়সা পেত না। নতুন এই নিয়মের ফলে সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজের জন্যে অর্থ মিলবে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে উন্নয়নের কাজে গতি আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

হিমাচলপ্রদেশের ইওল পরে রাজস্থানের নাসিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। ধাপে ধাপে বাকি ক্যান্টনমেন্টগুলির ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করা হবে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে।

যে ৬২টি ক্যান্টনমে্ন্টের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, সেগুলির মধ্যে ৫৬টি ক্যান্টনমেন্টের অস্তিত্ব দেশের স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন পর্যন্ত বহাল ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশের স্বাধীনতার পরে নতুন করে আরও ছটি ক্যান্টনমেন্ট গড়ে তোলা হয়। প্রসঙ্গত, ১৯৬২ সালে সর্বশেষ নোটিফাই করা হয়েছে আজমেড় ক্যান্টনমেন্ট।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সারা দেশে সবচেয়ে বেশি জমি রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের হাতে। এই জমির পরিমাণ ১৭ দশমিক ৯৯ লক্ষ একর। তাছাড়া ৬২টি ক্যান্টনমেন্টের নিরিখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের হাতে থাকা জমির পরিমাণ ১ দশমিক ৬১ লক্ষ একর। এছাড়া সারা দেশে এবং ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাইরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের হাতে থাকা জমির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৩৮ লক্ষ একর। প্রসঙ্গত, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এতদিন পর্যন্ত ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কেউ বাড়ি করতে চাইলে কিংবা পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজের অনুমোদনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের হাতে ছিল। প্রতিরক্ষা বাজেটের একাংশ ১৯৪৭ সালের পর থেকে এপর্যন্ত ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ নাগরিকদের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!