- প্রচ্ছদ রচনা
- নভেম্বর ২২, ২০২২
বিশ্বকাপে বড় অঘটন, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ইতিহাস সৌদি আরবের
অধরা মাধুরী স্পর্শ করার স্বপ্ন নিয়ে এবার কাতার গেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ জিতেই অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা। স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপেই ধাক্কা। সৌদি আরবের কাছে প্রথম ম্যাচেই২–১ ব্যবধানে হার আর্জেন্টিনার। বিশ্বকাপে প্রথম অঘটন। টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে গেল আর্জেন্টিনার। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রথমবার জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়ল সৌদি আরব। একই সঙ্গে ৫ বারের সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে প্রথমবার জয় তুলে নিল সৌদি।
গোটা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলল আর্জেন্টিনা। আর জয় তুলে নিল সৌদি আরব।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার দাপট ছিল। মেসি বল ধরলেই ৩–৪ জন সৌদি ডিফেন্ডার ঘিরে ধরছিলেন। তার মধ্যেই বারবার জ্বলে ওঠেন। ৮ মিনিটে মেসি কর্ণার নেওয়ার সময় ওটামেন্ডিকে ফেলে দেন সৌদি আরবের এক ডিফেন্ডার। রেফারি পরে রিপ্লে দেখে পেনাল্টির নির্গেশ দেন। ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার নিরঙ্কুশ প্রাধান্য ছিল। ২২ মিনিটে সৌদির জালে আরও একবার বল ঢুকিয়েছিলেন মেসি। অফসাউডের জন্য বাতিল হয়ে যায়।
২৭ মিনিটে সৌদির জালে বল পাঠিয়েছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। রেফারি প্রথমে গোলের সিদ্ধান্ত দিলেও রিপ্লে দেখে পরে অফসাইডের জন্য বাতিল করে দেন। ৩৪ মিনিটে মার্টিনেজের আরও একটা গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়।
লিওনেল মেসি, অ্যাঞ্জেলো ডি মারিয়া, লাউতারো মার্টিনেজ সমৃদ্ধ আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের বিরুদ্ধে কাজ সহজ হবে না। এটা মাথায় রেখে রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে দল সাজিয়েছিলেন সৌদি আরব কোচ। ৪ ডিফেন্ডারের সামনে আরও ৩ জন। মেসি, মার্টিনেজরা বল ধরলেই ডিফেন্সে ৭ জন হয়ে যাচ্ছিল। রক্ষণে পায়ের ভিড়ের মাঝেও প্রথমার্ধে ৪ বার সৌদির জালে বল ঢুকিয়েছিল আর্জেন্টিনা। অফসাইডের জন্য তিন–তিনটি গোল বাতিল হয়। সৌদির কোচ জানতেন, মেসিকে আটকাতে পারলেই কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। বল ধরলেই ৩জন ডিফেন্ডার ঘিরে ধরছিলেন। তার মাঝেই বারবার ঝলসে উঠল ফুটবল রাজপুত্রর পা।
৪৮ মিনিটে জোরালো ধাক্কা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হৃদয়ে। সৌদির একটা আক্রমণেই উলঙ্গ হয়ে যায় আর্ডেন্টিনার রক্ষণ। আল ব্রিকানের পাস থেকে সমতা ফেরান আল শেহরি। ৫ মিনিট পরেই আর্জেন্টিনা ডিফেন্সকে একেবারে বেআব্রু করে দেন সালেম আল দাওসারি। পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ডানদিকে লুজ বল পেয়ে ডানপায়ের জোরালো শটে দলকে এগিয়ে দেন।
পিছিয়ে পড়ে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে আর্জেন্টিনা। মুর্হূমুহূ আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিল সৌদি বক্সে। কখনও সৌদির ডিফেন্ডারদের পায়ের ভিড়ে আটকে গেলেন মেসি, মার্টিনেজরা। কখনও আবার তিন কাঠির নীচে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন সৌদি গোলকিপার মহম্মদ আল ওয়াশিস।
৬৩ মিনিটে ওটামেন্ডির ফ্লিক গোল লাইন থেকে বাঁচান সৌদি গোলকিপার। ৭৯ মিনিটে বল ছাড়াই মেসিকে ফাউল করেন সৌদির সালেম। নিজের প্রিয় জোন থেকে সেই ফ্রিকিক বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন মেসি। ৮৪ মিনিটে ডি মারিয়ার সেন্টারে মেসির হেড ঝাঁপিয়ে বাঁচান আল ওয়াসিস। শুধু ওই ক্ষেত্রেই নয়, আরও বেশ কয়েকবার দক্ষতার শীর্ষে ওঠেন। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে আল আমরি গোল লাইন সেভ করে নিশ্চিত গোল বাঁচান। ডিফেন্ডারদের পাশাপাশি সৌদির অঘটনের নায়ক হিসেবে ইতিহাসে নাম থেকে যাবে গোলকিপার মহম্মদ আল ওয়াসিসেরও।
❤ Support Us







