Advertisement
  • দে । শ
  • মে ৮, ২০২৩

এস.এন.ইউ-এর প্রথম সমাবর্তনে হলুদের সুরচিত উচ্ছ্বাস। উৎসবে দিনভর মেতে রইলেন পড়ুয়ারা। ৫০০ উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীকে শংসাপত্র। সাম্মানিক ডি.লিট ৬ সীমান্তহীন প্রজ্ঞাকে

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা, ১০০ মেধাবীকে নিবেদিতা স্কলারশিপ, ২০ তরুণ গবেষককে বিবেকানন্দ ফেলোশিপ ।

বাহার উদ্দিন
এস.এন.ইউ-এর প্রথম সমাবর্তনে হলুদের সুরচিত উচ্ছ্বাস। উৎসবে দিনভর মেতে রইলেন পড়ুয়ারা। ৫০০ উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীকে শংসাপত্র। সাম্মানিক ডি.লিট ৬ সীমান্তহীন প্রজ্ঞাকে

বিদ্যাঙ্গনের বুলন্দ ক্যাম্পাস আর বিশ্ববঙ্গ কনভেনশন সেণ্টারে, হলুদের বিরল উচ্ছ্বাসে মিশে গেলেন সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার পড়ুয়া, অভিভাবক আর শহরের গুণীজনরা। অভূতপূর্ব সমাবেশ। সকাল দশটা থেকে বিকেল পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকল সবার অগাধ উৎসাহ। এস.এন.ইউ-এর প্রথম সমাবর্তন উৎসবকে ঘিরে ৫০০ ছাত্র-ছাত্রী, গবেষক আর সামাজিক প্রজ্ঞাকে নিজ নিজ অঙ্গনে সাফল্যের জন্য একে একে তুলে দেওয়া হল শংসাপত্র আর অনারারি ডিলিট-এর সম্মানস্মারক। ডিলিট ও বিশেষ সম্মান দিয়ে যাঁদের আজ সম্মানিত করা হল, তাঁদের তালিকা ভারী সুন্দর, সুচিন্তিতভাবে নির্মিত তার বিন্যাস এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ। রতন টাটা, ওস্তাদ আমজাদ আলি খান, মণিশঙ্কর মুখার্জি(শঙ্কর), চন্দ্রশেখর ঘোষ, অধ্যাপক সংঘমিত্রা মুখোপাধ্যায়, মারটিন ক্যাম্পচেন, দেবাশিস সেন প্রমুখ। সর্বভারতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের উদ্যোগী থেকে সঙ্গীত বিশারদ, লেখক, গবেষক, বিজ্ঞানী, রবীন্দ্র-রামকৃষ্ণ বিশেষজ্ঞ, ব্যাঙ্ক স্রষ্টা এবং প্রশাসক, কে নন? এঁদের অনেকেই পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ, সাহিত্য অ্যাকাদেমি কিংবা অন্যান্য পুরস্কারের সম্মানিত হয়েছেন, জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক স্তরে। কিন্তু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়–যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথ, স্বামী বিবেকানন্দ আর ভগিনী নিবেদিতার চেতনা ও ভাবাবেগ–যখন তাঁদের সুপথের দিশারী ভেবে সম্মান জ্ঞাপন করে,তখন এ সম্মানের দিল দরাজ স্বীকৃতি ভাবিয়ে তোলে আমাদের, অন্য রকম উৎসাহ বোধের সুকারক হয়ে উঠবার পরামর্শ দেয়।

বছর কয়েক আগে, আয়ারল্যাণ্ডের এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ভগিনি নিবেদিতার স্মৃতিতে বাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা দরকার। এ কথা বলেই তাঁর সফরসঙ্গী সত্যম রায়চৌধুরীকে বিষয়টি ভেবে দেখবার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সত্যম দেশে ফিরেই সংহত উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করলেন রাজারহাটে। প্রকৃতি আর মানবজমিনের লৌকিককে স্পর্শ করে গড়ে উঠতে থাকল নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত ক্যাম্পাস। মনোহর পরিবেশ, ওপরে খোলা আকাশ, নীচে আচ্ছাদিত সবুজের তারুণ্য। সম্ভবত, সেটা ২০১৬ সালের কথা। মাঝখানে করোনার দুর্যোগ আর বহুজনের ভাঙন পেরিয়ে এসএনইউ সরব হয়ে উঠল তার উপস্থিতির বিনম্র আবেদন পেশ করতে। কোথাও অঙ্কের গরমিল নেই। স্বপ্নের বিরতি নেই, আচার্য সত্যম রায়চৌধুরীর সংযত ইচ্ছে থেমে থাকল না। ক্রমশ প্রবল হয়ে উঠল, প্রয়োজনীয় প্রায় সব বিষয় অন্তর্ভূক্ত হল পাঠক্রমে। যোগ্য বিদ্যাদাতা আর প্রশাসকদের খুঁজে বের করলেন সত্যম। যে অভিজ্ঞতা টেকনো ইণ্ডিয়ার নির্মাণ আর বিস্তারে সঞ্চিত হয়েছিল তাঁর বহুমুখী কর্মকাণ্ডে, তাকে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলবার ব্যবহারিক তত্ত্বে প্রয়োগ করলেন তিনি। দেশ-বিদেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গড়ে উঠল এস.এন.ইউ-র মেধাচুক্তি— অর্জন আর বিনিময়ের সৌহার্দ্য। রবীন্দ্রনাথ যে স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বভারতীর মুক্ত পঠন-পাঠনকে ঘিরে, বিবেকানন্দ শিক্ষাক্ষেত্রে ভারতীয় উদারতা ছড়িয়ে দেওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছিলেন তাঁর বিভিন্ন ভাষণে, চিঠিপত্রে, যে সব ভাবাবেগকে আদর্শের ওপর দাঁড় করিয়ে আধুনিক শিক্ষার কর্মযোগী হয়ে উঠেছিলেন মহৎ প্রাণ নিবেদিতা, আমাদের মনে হয়, এরকম সমূহ শিক্ষাদর্শের সীমান্তহীন চর্চার প্রাঙ্গন হয়ে উঠছে এস.এন.ইউ ক্যাম্পাস। সোমবার প্রথম সমাবর্তন উৎসবে, প্রকারান্তরে মূর্তিত হয়ে উঠল এই মনোযোগী অভিমুখ। সঙ্গীত গুরু আমজাদ আলি খান, লেখক শঙ্কর, বেসরকারি ব্যাঙ্কের সফল রূপকার চন্দ্রশেখর ঘোষ, সংখ্যাতত্ত্ববিদ সুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যাপাল সিভি আনন্দ বোস-এর মতো বিভিন্ন গুণী আর বিদ্যানুরাগীরা প্রকারান্তরে জানিয়ে দিলেন, নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সূর্যের উদয় হচ্ছে, তা তার আগামীর সূচক হয়ে উঠছে।

প্রসঙ্গত, নিবেদিতাকে নিয়ে চন্দ্রশেখর ঘোষের তাৎক্ষণিক বয়ান আমাদের বিস্মিত করে দেয়। চন্দ্রশেখর বলেছেন, ‘নিবেদিতা একটি শক্তি আর অন্তর্দৃষ্টি। এই আত্ম-উপলব্ধি, আমি বিশ্বাস করি ছড়িয়ে পড়বে এস.এন.ইউ-এর সবরকম উদ্যোগে।’ ভুল বলেননি বেসরকারি ব্যাংকের রূপকার। এই পথেই ক্রমশ উত্তরণ ঘটছে নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় কর্ম, সত্যম রায়চৌধুরীর মর্মেও তার আক্ষরিক ছায়া-প্রতিচ্ছায়া সম্ভবত হরদম জাগ্রত। এরকম জাগরণেরই দৃষ্টান্ত হয়ে রইল নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন উৎসব। সমাবর্তন মঞ্চেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছেন, ১০০ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে নিবেদিতা বৃত্তি, দ্বিতীয়ত ২০০ তরুণ গবেষককে বিবেকানন্দ ফেলোশিপ দিয়ে তাঁদের মেধা আর নিষ্ঠাকে স্বীকৃতি জানাবেন তাঁরা। নিঃসন্দেহে মহৎ উদ্যোগ এবং এস.এন.ইউ-এর অভিমুখের এ আরেক সুপরিকল্পিত, স্বপ্নময় দৃষ্টিপাত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!