- দে । শ
- এপ্রিল ২৭, ২০২৩
পাঁচ মহিলা যাজকে ভোটাধিকার।ফ্রান্সিসের সিদ্ধান্ত ঘিরে রক্ষণশীল শিবিরে জল্পনা
পোপ ফ্রান্সিস বিতর্কে জড়াতে চলেছেন নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের জেরেই। পোপ চার্চের রক্ষণশীল অংশের বিরোধিতার মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা। পোপের উপদেষ্টা কমিটিতে যে পাঁচজন মহিলা যাজক সদস্য হিসেবে আছেন, পরামর্শ দেওয়ার অধিকার থাকলেও এতদিন তাঁদের ভোটাধিকার ছিল না। ভোটাধিকার কেবল পুরুষ যাজকদেরই হাতে ছিল।
পোপ ফ্রান্সিসের উপদেষ্টা কমিটি কাউন্সিল অব কার্ডিনাল অ্যাডভাইজার্স হিসেবে পরিচিত। ২০১৩ সালে এই কাউন্সিল গঠন করা হয়। নতুন সিদ্ধান্তে এবার থেকে কাউন্সিলের নারী সদস্যদের ভোটাধিকার তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এও অনুমান করা হচ্ছে, পোপ ফ্রান্সিস তাঁর এই সিদ্ধান্তের ফলে চার্চের রক্ষণশীল শিবিরের বিরোধিতার মুখে পড়তে পারেন।
ক্যাথলিক সংবাদ প্রকাশনা সংস্থা সংস্থা দি ট্যাবলেটের ভ্যাটিকানের প্রতিনিধি ক্রিস্টোফার ল্যাম্ব পোপ ফ্রান্সিস ভোটাধিকার দিয়ে সংস্কারমূলক যে ব্যবস্থা নিয়েছেন, সেব্যাপারে বিবিসিকে ইন্টারভিউ দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পোপের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চার্চের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই পোপ ফ্রান্সিস মহিলাদের ভোটাধিকার প্রদান করেছেন। এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে যাজকদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপদেষ্টা কমিটির সদস্যা পাঁচজন মহিলা যাজক ভোট দিতে পারবেন।
কাউন্সিল অব কার্ডিনাল অ্যাডভাইসার্সের অন্যতম প্রধান মুখ কার্ডিনাল জেন-সি হোলেরিচ বলেছেন, পোপ ফ্রান্সিস যে পরিবর্তন ঘটালেন, তা বিপ্লব না হলেও অতি প্রয়োজনীয় এক পরিবর্তন হিসেবে গণ্য করা যায়।
গত কয়েকবছর ধরেই পোপের উপদেষ্টা কমিটিতে থাকা নারী সদস্যদের ভোটাধিকার চালুর দাবি উঠছিল। কেন ওঁদের ভোটাধিকার নেই, এব্যাপারে চার্চের কাঠামোতে লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। যে শিবির ভোটাধিকারে দাবিতে লড়ছিল, তাঁদের দাবি শেষমেশ পোপ ফ্রান্সিসের সম্মতি আদায় করলেও রক্ষণশীল অংশ চার্চের অভ্যন্তরে এর বিরোধিতা করলে পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন লক্ষ্য রাখছেন রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা।
শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গিয়েছে রোমান ক্যাথলিক চার্চে বহাল থেকেছে পুরুষতন্ত্র। পুরুষশাসিত রোমান ক্যাথমিক চার্চে পোপ ফ্রান্সিসের নতুন সংস্কার ব্যবস্থা চালু করায় পুরুষতান্ত্রিক চার্চ প্রশাসনে নারীর সমানাধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক ওমেনস অর্ডিনেশন কনফারেন্স নামে একটি সংস্থার তরফে রোমান ক্যাথমিক চার্চে নারী-পুরুষের বৈষম্যের কারণ হিসেবে লিঙ্গবৈষম্যকে দায়ী করা হয়েছে।
❤ Support Us






