- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
রেল অগ্নিকান্ডের তদন্তে ফরেন্সিক দল
গত ১৩ জানুয়ারি সিগন্যাল বিভ্রাটের কারণে কাটোয়া জংশন স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায় ৭নং প্ল্যাটফর্মের লোকেশন বক্স পুড়ে যাওয়াতেই বিপত্তি। মাসখানেক বাদে রবিবার ২নং প্লাটফর্মে দাঁড়ানো আপ কাটোয়া—আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জারের কামরায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটিই প্রকট হল বলে অভিযোগ। আগুনের উৎস কী জানতে আগেই ঘুরে গিয়েছেন রেলের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের নিয়ে গড়া প্রতিনিধিদল। কারণ নিশ্চিত করতে এবার মাঠে নামল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।
৮ সদস্যের দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির ৪ জন ও রাজ্যের অধীন দুর্গাপুর রিজিওনাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরির ৪ জন। দলের নেতৃত্বে থাকা ডেপুটি ডিরেক্টর পি পাওয়াল রমেশ বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহ করা হল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পরীক্ষা করা হয়েছে। সেসব পরীক্ষার পর রিপোর্ট পাওয়া গেলে আগুনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ তবে আগুন লাগার কারণ যে শর্ট সার্কিট নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ফরেনসিক কর্তারা।
আগুন লাগার ঘটনায় রেলমন্ত্রীকে ‘রিলমন্ত্রী’ তকমা দিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। দলের তরফে সমাজমাধ্যমে লেখা হয়েছে, আমরা যে ২ ভারতের কথা বলি, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ হল, কাটোয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড। একটা ভারত হল ‘বন্দে ভারত’ কিংবা ‘বুলেট ট্রেনের’ চোখধাঁধানো প্রচার। আর একটা ভারত হল, যেখানে সাধারণ প্যাসেঞ্জার ট্রেনগুলি এক-একটা মৃত্যুফাঁদ। নেই কোনো তদারকি, নেই কোনো রুটিন চেক-আপ। উল্লেখ্য যে, কিছুদিন আগে চালু হওয়া দেশের প্রথম স্লিপার হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত কাটোয়া জংশনের উপর দিয়েই যায়। কাটোয়াতে স্টপেজও রয়েছে। কাটোয়ার বিধায়ক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি বলছিলেন, ‘একমাস আগে আগুন লাগার কারণে সিগন্যাল বিপর্যয়ের পর রেল যদি নিরাপত্তা নিয়ে সজাগ থাকত, তাহলে রবিবারের ঘটনা ঘটত না। ভাগ্যিস ট্রেনে যাত্রী ছিলেন না!’
ট্রেনের কামরায় আগুনের সঠিক কারণ জানতে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রেল। বহিরাগত কেউ আগুন দিয়েছে কিনা? সেটা ট্রেনের কামরার ভিতরে ঢুকে হোক বা বাইরে থেকে কিছু দাহ্য পদার্থ কামরায় ফেলে দিয়ে হোক। ঘটনার পিছনে অন্তর্ঘাত আছে কিনা! তাই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খোঁজ শুরু করেছে রেল। সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে জেলা পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বছর দুয়েক আগে কাটোয়া স্টেশনের সৌন্দর্যায়নের জন্য ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এরজন্য বরাদ্দ হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা। সেই কাজ চলছে। তপন মেটে, হারাধন গড়াইয়ের মত যাত্রীদের প্রশ্ন, ‘যাত্রী নিরাপত্তাই যদি না থাকে, তাহলে সৌন্দর্যায়ন ধুয়ে জল খাব?
❤ Support Us








