- প্রচ্ছদ রচনা
- মে ৬, ২০২২
বাংলার দুর্গাপুজোর ‘হেরিটেজ’ সম্মান নিয়ে ভিক্টোরিয়ার অনুষ্ঠানে ব্রাত্য রাজ্য, প্রতিবাদ উদ্যোক্তাদের
বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজনীতি করার অছিলায় আপামর বাঙালিকে অপমান করল ।
সর্বজনীন থেকে বিশ্বজনীন । বাঙালির চিরন্তন মহোৎসব দুর্গাপুজো এভাবেই এগিয়েছে বিশ্বের দরবারে । ইউনেস্কো বাংলার দুর্গাপুজোকে ‘ইনট্যানজিবল হেরিটেজ’ তকমা দিয়েছে । এই সাফল্য উদযাপন করতে শুক্রবার ভিক্টোরিয়ায় কেন্দ্রের তরফে সেই উপলক্ষেই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক। প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । তবে এই অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। কারণ, এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে নাম নেই মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের সরকারের কোনও প্রতিনিধিরই! এমনকী, দুর্গাপুজো কমিটিগুলির ফোরামের প্রতিনিধিরাও ডাক পাননি এই অনুষ্ঠানে।
৬ মে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সেন্ট্রাল হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে । ‘মুক্তি-মাতৃকা’ নামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হবে ।প্রসঙ্গত, সারা বিশ্ব থেকে বহু মানুষ বাংলায় আসেন দুর্গাপুজো দেখতে। প্রায় ছ’মাস ধরে প্যান্ডেল থেকে ঠাকুর গড়ার কাজ চলে। শুধুমাত্র দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয় রাজ্যে। আর বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসবের সাফল্য উদযাপন অনুষ্ঠানেই বাংলার প্রতিনিধিরা বাদ পড়ায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস । তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র এবং সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, ‘অমিত শাহ কি কোনও দিন বাংলায় এসে দুর্গাপুজো করেছেন? বাংলার দুর্গাপুজো সম্পর্কে কী জানেন তিনি? বাংলায় পুজোর যে-সমস্ত উদ্যোক্তা এবং শিল্পীরা আছেন, তাঁদের সৃষ্টিতেই ইউনেস্কোর সম্মান এসেছে । সম্মানিত করা উচিত ছিল তাঁদেরকেই । এই সাফল্যের পিছনে রাজ্যের ভূমিকাও ছিল অনস্বীকার্য । তাই রাজ্য প্রশাসনকে না জানানোর বিষয়টি চূড়ান্তরূপেই নিন্দনীয় ।’ ফোরাম ফর দুর্গোৎসব-এর সম্পাদক শাশ্বত বসু জানান, তাঁরাও এই অনুষ্ঠানে কোনও আমন্ত্রণ পাননি । তাই তাঁরা ওই অনুষ্ঠান বয়কট করে বিকেলে প্রতিবাদ সভায় শামিল হবেন । বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রতিবাদের কথা জানাল ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’।
কলকাতার বড় বড় দুর্গাপুজোর আয়োজনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা থাকে ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’ নামের সংগঠনটির । সরকারের সঙ্গে সমন্বয় সাধন থেকে শিল্পীদের সুবিধা-অসুবিধা, সব দিক খেয়াল রেখে সুষ্ঠুভাবে পুজোর চারদিন দর্শক আগমনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেন সংগঠনের সদস্যরা । কিন্তু শুক্রবার ভিক্টোরিয়ার অনুষ্ঠানে তাঁরাও ব্রাত্য । আর সেই কারণেই প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন । ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর তরফে সভাপতি কাজল সরকার ও সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন,
‘প্রিয় সাথী,
বাংলার দুর্গাপুজোর ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের বিগত কয়েকবছরের উদ্যোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আজ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে এই সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠান হতে চলেছে । আমাদের রাজ্য সরকার ও কলকাতার দুর্গাপূজার উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টাকে হেয় করে দেখানোর এই অভিসন্ধির প্রতিবাদ জানাতে আজ, শুক্রবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় প্রেস ক্লাবে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে । ফোরামের সদস্য প্রতিটি ক্লাবের মেম্বাররা এই সভায় উপস্থিত থাকবেন ।’প্রতিবাদের একেবারে যথার্থ পথ । ভিক্টোরিয়ার অনুষ্ঠানে বাংলার কেউই আমন্ত্রিত নন, তা জেনেই ফুঁসে উঠেছিলেন শিল্পীরা । সনাতন দিন্দার প্রতিক্রিয়া, ‘ মুখ্যমন্ত্রী সাহায্যের হাত না বাড়ালে ডানা মেলতে পারত না কলকাতার দুর্গাপুজো । কেন্দ্রীয় সরকার রাজনীতি করার অছিলায় আপামর বাঙালিকে অপমান করল। ‘
❤ Support Us








