Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • অক্টোবর ৬, ২০২৫

কয়েক সপ্তাহেই বিদায় ! প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে চাপে ফেলে ইস্তফা ফ্রান্সের সদ্য ‘নির্বাচিত’ প্রধানমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কয়েক সপ্তাহেই বিদায় ! প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে চাপে ফেলে ইস্তফা ফ্রান্সের সদ্য ‘নির্বাচিত’ প্রধানমন্ত্রীর

ফ্রান্সের রাজনীতিতে আবারও অস্থিরতা। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু। রবিবার সন্ধেয় নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা হয়, আর সোমবার সকালে তাঁর পদত্যাগপত্র! হঠাৎ করেই কেন বিদায় নিলেন লেকোর্নু! কারণ দীর্ঘ, আর এ ঘটনায় প্রবল অস্বস্তিতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গত ২ বছরে এ নিয়ে পঞ্চমবার ভেঙে পড়ল তাঁর আওয়াধীন সরকার।

সোমবার সকালে, ফ্রান্সের এলিসি প্রাসাদে ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক ঘণ্টার বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে জানানো হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু।’ এর পরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু — আর কতদিন চলবে ম্যাক্রোঁর ‘সংখ্যালঘু সরকার’ কৌশল? মারত্মক অভিযোগ তুলেছেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রো লেকোর্নু। তাঁর অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন তিনি পাননি। একাধিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছনো যায়নি। তাঁর দাবি, ‘দলগুলো আপস করতে রাজি নয়। এই অবস্থায় দেশ চালানো সম্ভব নয়।’

মজার ব্যাপার, রবিবার সন্ধ্যাতেই লেকোর্নু নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। সে তালিকায় অবশ্য বড়ো কোনো চমক ছিল না, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা আগের পদেই বহাল ছিলেন। সোমবার ছিল সেই মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। কিন্তু তার আগেই এল ‘বিস্ফোরক’ খবর। সপ্তাহের শুরুতেই এমন অস্থিরতা কেবল রাজনীতিতে নয়, প্রভাব ফেলেছে ফরাসি দেশের অর্থনীতিতেও। লেকোর্নুর ইস্তফার খবর ছড়াতেই সোমবার সকালে প্যারিসের শেয়ার বাজারে প্রবল পতন হয়। সিএসি ৪০ সূচক ১.৯ শতাংশ নেমে যায়। ৩০ বছর মেয়াদি ফরাসি সরকারি বন্ডের সুদের হার ছুঁয়েছে এক মাসের সর্বোচ্চ, ৪.৪৪১ শতাংশ। ১০ বছরের বন্ডের সুদের হার উঠেছে ৩.৫৯৯ শতাংশে। ইউরোর দাম পড়ে গেছে ০.৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের বাজেট পেশ করার কথা ছিল লেকোর্নুর। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ভাষণ দিয়ে সরকারের রূপরেখা তুলে ধরার কথা ছিল তাঁর। তার আগেই পদত্যাগে ব্যাপক ধাক্কা খেল ম্যাক্রোঁ প্রশাসন। ফ্রান্সের ঘাটতি বর্তমানে জিডিপির ৫.৮ শতাংশ। ঋণের পরিমাণ ১১৩ শতাংশ। যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত সীমার অনেক বাইরে। সেখানে ঘাটতির সীমা ৩ শতাংশ, আর ঋণের সীমা ৬০ শতাংশ।

ধারাবাহিক প্রধানমন্ত্রী ইস্তফা পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন দক্ষিণপন্থী নেত্রী মেরিন ল্য পেন। জাতীয় সমাবেশ দলের নেত্রী সাফ জানিয়েছেন, ‘এখনই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত। এই প্রহসনের সরকার আর চলতে পারে না। ম্যাক্রোঁ দেশকে এমন এক জায়গায় এনে ফেলেছেন, যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।’ সাধারণ মানুষের মধ্যেও হতাশা বাড়ছে। বারবার সরকার পরিবর্তন, বাজেট পাসে ব্যর্থতা, ঘাটতি আর ঋণের বোঝা, সব মিলিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে দেশের নাগরিকরা। অনেকেই বলছেন, ‘এত অস্থিরতা ফ্রান্সের ইতিহাসে বিরল।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ‘রাজনৈতিক সংস্কার’-এর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। কিন্তু গত ২ বছরে বারবার সরকার গঠন করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। একের পর এক প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়ে সরে দাঁড়াচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে — এবার কি ম্যাক্রোঁ নিজের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবেন? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যাই হোক না কেন, আপাতত ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। বাজারে অস্থিরতা, সংসদে বিভাজন, আর জনমনে সন্দেহ, সব মিলিয়ে এক কঠিন পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে ফ্রান্স।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!