Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ১৬, ২০২৫

রুশ তেল আমদানি হ্রাস, ভারতের পদক্ষেপে নিজের সাফল্য দেখছেন ট্রাম্প। মোদির সমালোচনায় সরব রাহুল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রুশ তেল আমদানি হ্রাস, ভারতের পদক্ষেপে নিজের সাফল্য দেখছেন ট্রাম্প। মোদির সমালোচনায় সরব রাহুল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত তাঁকে আশ্বস্ত করেছে যে খুব শিগগিরই তারা রাশিয়া থেকে সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে কয়েক মাস পর, যখন ওয়াশিংটন রুশ তেল কেনার কারণে নয়াদিল্লির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। তিনি আরও বলেন, চিনকেও একই পথে আনতে চেষ্টা করবেন, যাতে মস্কোর জ্বালানি আয় কমানো যায়।

বর্তমানে ভারত ও চিন হল রাশিয়ার সমুদ্রপথে রপ্তানিকৃত অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় দুই ক্রেতা।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে রাশিয়া থেকে আর তেল কেনা হবে না… অবশ্যই এটা একদিনে করা সম্ভব নয়, কিছুটা সময় লাগবে, কিন্তু এই প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই শেষ হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল না কেনে, তাহলে তাঁর পক্ষে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের মীমাংসা করা সহজ হবে। “যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা আবার রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে ফিরবে।”

ভারত ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে নয়াদিল্লি বারবার বলেছে, রাশিয়া ভারতের ঐতিহ্যগত অংশীদার এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে রুশ তেল কেনা অপরিহার্য।

ভারত বলেছে, আমেরিকার আরোপিত শুল্ক “অন্যায্য”, কারণ রুশ তেল আমদানি দেশের জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কের মোট হার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। রাশিয়ার তেল কেনার জন্যই ভারতকে এই “ সেকেন্ডারি টেরিফ (secondary tariff)”-এর মুখে পড়তে হয়েছে, যদিও চিনও রাশিয়ার বড় ক্রেতা, তবুও তার ওপর এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে তথ্য বলছে, রাশিয়াই এখনও ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ। পণ্য ও শিপিং মার্কেট ট্র্যাকার এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের মোট আমদানিকৃত তেলের ৩৪ শতাংশ এসেছে রাশিয়া থেকে, যদিও বছরের প্রথম আট মাসে রুশ তেল আমদানি ১০ শতাংশ কমেছে।

সেপ্টেম্বরে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি দাঁড়ায় দৈনিক ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল, যা আগস্টের তুলনায় ৭০,০০০ ব্যারেল বেশি, তবে আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম।

তথ্য আরও জানায়, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলি জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রুশ তেল আমদানি ৪৫ শতাংশ কমিয়েছে, তবে এর ফলে সামগ্রিক সরবরাহে তেমন প্রভাব পড়েনি। এই হ্রাস বাজার পরিস্থিতির কারণে, মার্কিন শুল্ক বা ইউরোপীয় সমালোচনার কারণে নয়।

অক্টোবর মাসেও ভারত–রাশিয়া তেল বাণিজ্য গড়ে ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন পরিমাণে স্থিতিশীল ছিল।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে “একজন মহান মানুষ” এবং “সময়-পরীক্ষিত নেতা” বলে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “মোদি একজন মহান মানুষ, তিনি ট্রাম্পকে ভালোবাসেন।” এরপরই তিনি রসিকতা করে যোগ করেন, “শব্দটা অন্যভাবে নেবেন না, আমি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করতে চাই না।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “ভারত এক অবিশ্বাস্য দেশ। বহু বছর ধরে দেখছি—প্রতি বছর নতুন নেতা আসতেন, কেউ কয়েক মাস থাকতেন, তারপর বদলে যেতেন। কিন্তু আমার বন্ধু মোদি বহু বছর ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এটা প্রশংসনীয়।”

এর আগে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ভারত রুশ তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সাহায্য করছে এবং তাঁর শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যাহত করছে। ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া যুদ্ধটা এক সপ্তাহেই শেষ করতে পারত। কিন্তু পারেনি, এটা তাদের পক্ষে চিত্র দেখায় না।” তিনি দাবি করেন, একসময় তাঁর মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছনো গিয়েছিল। তাঁর মতে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পারস্পরিক ঘৃণাই শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি হ্রাসের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত নিতে দিয়েছেন । তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী “ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত নিতে দেন ও ঘোষণা করতে দেন”, এবং “বারবার অপমানিত হওয়ার পরও তাঁকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়ে যান।”

রাহুল এক্স -এ লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি ট্রাম্পকে ভয় পান। তিনি ট্রাম্পকে ভারতের হয়ে ঘোষণা করতে দেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। বারবার অপমানিত হওয়ার পরও অভিনন্দন বার্তা পাঠান। অর্থমন্ত্রী আমেরিকা সফর বাতিল করেছেন, শার্ম এল শেখ সম্মেলন এড়িয়ে গেছেন, অপারেশন সিন্ধুর প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যেরও কোনও প্রতিবাদ করেননি।”

কংগ্রেসের জনসংযোগ বিভাগের সাধারণ সম্পাদক জয়ারাম রমেশও বিষয়টি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন।

তিনি এক্স-এ লেখেন, “২০২৫ সালের ১০ মে ভারতীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রথম ঘোষণা করেন যে ভারত ‘অপারেশন সিন্ধুর’ কার্যক্রম বন্ধ করেছে। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাঁচটি দেশে ৫১ বার দাবি করেছেন যে তিনি শুল্ক ও বাণিজ্যকে চাপের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ভারতকে এই অপারেশন বন্ধে বাধ্য করেছেন। অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী নীরব থেকেছেন।”

তিনি আরও লেখেন, “এখন ট্রাম্প বলেছেন, মোদি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করবে না। মনে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী এখন মূল সিদ্ধান্তগুলো আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছেন। ‘৫৬ ইঞ্চির বুক’ এখন সঙ্কুচিত।”

কেন্দ্রের তরফে এপ্রসঙ্গে বলেছে, ভারতের তেল আমদানি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী মূল্য এবং কৌশলগত স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়। ভারতের অবস্থান স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বলেই সরকার জানিয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!