- প্রচ্ছদ রচনা
- নভেম্বর ১৫, ২০২২
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বকে পথ খুঁজতে হবে, বললেন নরেন্দ্র মোদি
ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি এবং কূটনীতির পথ ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য বিশ্বকে পথ খুঁজে বার করতে হবে। বালিতে জি–২০ ভূক্ত দেশগুলির শীর্ষ সম্মেলনে একথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দর মোদি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, ‘গত শতাব্দীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিশ্বে সর্বনাশ করেছিল। এরপর সেই সময়ের নেতারা শান্তির পথে চলার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা করেছিলেন। এখন আমাদের পালা। বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দৃঢ় ও সম্মিলিত সংকল্প প্রদর্শন করা প্রয়োজন। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আগামী বছর যখন জি–২০ শীর্ষ সম্মেলনে বুদ্ধ এবং গান্ধীর পবিত্র ভূমিতে মিলিত হব, আমরা সবাই বিশ্বকে শান্তির একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে সম্মত হব।’
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে মঙ্গলবারই জি–২০ জাতিভূক্ত দেশগুলির শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা এই শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। সোমবার বালিতে পৌঁছনোর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেনও নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর জো বাইডেন এই প্রথম চিনের প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি হলেন।
ভারত যে জি–২০-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করতে প্রস্তুত, সেকথাও জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘ভারত একটি শক্তিশালী ব্লক যা বিশ্বব্যাপী জিডিপির ৮৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৭৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে। আগামী বছর ভারত শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে।’ প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেন যুদ্ধের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কোভিড মহামারী এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট রয়েছে। প্রতিটি দেশের দরিদ্র নাগরিকদের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও গুরুতর। আমাদের এটা স্বীকার করতে দ্বিধা করা উচিত নয় যে, জাতিসংঘের মতো বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলি এই বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছে। এবং আমরা সবাই তাদের মধ্যে উপযুক্ত সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়েছি। তাই, আজ বিশ্ব ডি–২০ থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা করছে।’
কোভিডের সময় ভারত কীভাবে দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে তার উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বিশ্বব্যাপী সারের ঘাটতিকে চিহ্নিত করেছেন। মোদি বলেন, ‘আজকের সারের ঘাটতি হল আগামীকালের খাদ্য সংকট। যার সমাধান বিশ্বের কাছে থাকবে না। সার এবং খাদ্যশস্য উভয়ের সরবরাহ শৃঙ্খলা স্থিতিশীল এবং নিশ্চিত করার জন্য আমাদের পারস্পরিক চুক্তি করা উচিত।’ শক্তি সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের জ্বালানি সরবরাহে কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত নয় এবং জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা উচিত। ভারত শক্তি এবং পরিবেশের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের অর্ধেক বিদ্যুৎ পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎস থেকে উৎপন্ন হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ সম্মেলনের বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হবে।
❤ Support Us








