- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১১, ২০২৩
সোনিয়া কলমে বিদ্ধ প্রধানমন্ত্রী, দেশে গণতন্ত্রের তিন স্তম্ভই আক্রান্ত
ভারতীয় গণতন্ত্রকে সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হলেন সোনিয়া । সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে তিনি লিখলেন, দেশের মানুষের মৌলিক সমস্যা থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়কে অতিরঞ্জিতভাবে পরিবেশন করছে তাঁর সরকার। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় গণতন্ত্রের তিন স্তম্ভই বর্তমান শাসনে আজ ভাঙনের মুখে। দৃষ্টান্তস্বরূপ তিনি তুলে ধরলেন সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশন ভেস্তে যাওয়ার প্রসঙ্গ। যা তাঁর মতে, সম্পূর্ণরূপে সরকারি পরিকল্পনায় সংঘটিত হয়েছে। বিরোধীরা যাতে দেশের মূল সমস্যা যেমন- বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, সমাজে ক্রমাগত বাড়তে থাকা বিভাজন ও বিদ্বেষ ও আদানি কেলেঙ্কারি নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন না করতে পারে তাই খুব পরিকল্পিত উপায়ে সংসদ অচল করে দেওয়া হল।
রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ বাতিলের প্রসঙ্গও বাদ যায়নি তাঁর নিবন্ধে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন,বিরোধী কণ্ঠ দমন করবার জন্য অভূতপুর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মোদি সরকার। সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মূল ইস্যু থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে সংসদে ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট পাশ হয়েছে। কিন্তু তাঁর ওপর কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তাই কেন্দ্রীয় বাজেট সম্পর্কে বিকল্প কোনো মতও উঠে আসছে না। তাই কেন্দ্রীয় সরকার তার ইচ্ছামতো বিল বা বাজেট সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাশ করিয়ে নিতে পারছে।তিনি বলেছেন অর্থমন্ত্রী সমগ্র বাজেট অধিবেশন বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতির কথা উল্লেখ করলেন না । তাঁর কাছে ভারতের সমস্যা রূপে এগুলো কোনোভাবেই গুরুত্ব পায়নি।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বিরোধীদের হেনস্থা করার জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে তাঁর মত। এব্যাপারে বলা প্রয়োজন, ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় তাঁকে ও রাহুলকে ডেকে পাঠিয়েছিল ইডি। এপ্রসঙ্গে বিরোধীরা সম্মিলিতভাবে সুপ্রিম কোর্টে ন্যায় বিচারের জন্য দ্বারস্থ হয়েছেন। শীর্ষ আদালতের রায়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কোন পথে পরিচালিত হবে তা অবশ্য আগাম অনুমান করা কঠিন।
দেশের বিচার ব্যবস্থার উদ্দেশেও গেরুয়া বাহিনীর চোখ রাঙানি অব্যাহত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম ব্যবস্থার বিরোধিতায় বিচারকেদের দেশদ্রোহীর তকমা দিয়েছেন। দেশের বিচার ব্যবস্থার মূল কাঠামোকে নিজদের চিন্তাধার অনুকূলে গড়ে তুলতেই কলেজিয়াম ব্যবস্থার অবলুপ্তি করতে চাইছে মোদি সরকার।
দেশে সামাজিক বিদ্বেষ ও বিভাজন বৃদ্ধিতে আররসএসকে সরাসরি দায়ী করেন। ধর্মীয় উৎসব উপক্ষে হিংসা-হানাহানি এখন বাস্তব সত্য হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এসমস্ত দেখেও না দেখার ভান করে রয়েছেন। তাওয়াং-এ চিন আক্রমণ নিয়ে তাঁরা সংসদে আলোচনা চেয়েছিলেন কিন্তু স সরকার তা হতে দেয়নি। তিনি সবশেষে জানিয়েছেন সামনের বছর লোকসভা নির্বাচন। সংবিধান ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে কংগ্রেস সম মনস্ক সব দলকে একজায়গায় আনতে চায়।দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে বাঁচাতে বিরোধীদের একজোট হওয়ার সময় এসেছে। ভারত এক ক্রান্তিকালে উপস্থিত হয়েছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রির দল সমস্ত রাজ্যে অবৈধভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চাইছেন। এ প্রবণতা সম্মিলিত প্রতিরোধেই ঠেকানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী।
❤ Support Us






