Advertisement
  • Uncategorized
  • জানুয়ারি ২১, ২০২৬

দূষণ না জীবিকা ? গ্রিন বেঞ্চের রায়ে ঝুলে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটের ভবিষ্যৎ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দূষণ না জীবিকা ? গ্রিন বেঞ্চের রায়ে ঝুলে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটের ভবিষ্যৎ

শান্তিনিকেতনের পর্যটন মানচিত্রে অন্যতম আকর্ষণ সোনাঝুরি হাটের ভবিষ্যৎ আপাতত অনিশ্চিত। জাতীয় পরিবেশ আদালত বা গ্রিন বেঞ্চের চূড়ান্ত রায়ের উপরই নির্ভর করছে এই হাট চালু থাকবে নাকি বন্ধ হবে, কিংবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে কি না। মঙ্গলবার রায় ঘোষণার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী ২ এপ্রিল ধার্য হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

একদিকে পরিবেশ রক্ষার দাবি, অন্যদিকে হাজার হাজার হস্তশিল্পী ও ব্যবসায়ীর জীবিকা—এই দ্বন্দ্বেই এখন শান্তিনিকেতন জুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। হাটকে কেন্দ্র করে বহু পরিবার নির্ভরশীল হলেও দীর্ঘদিন ধরেই সোনাঝুরি এলাকায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠছে। যত্রতত্র জঞ্জাল ফেলা, প্লাস্টিকের বেপরোয়া ব্যবহার, অপরিশোধিত তরল বর্জ্য জঙ্গলে ফেলা, গাছ কাটা ও বনাঞ্চলের ক্ষতির পাশাপাশি অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শব্দদূষণের অভিযোগও সামনে এসেছে।

এই অভিযোগ তুলে পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলার পর রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও বনদপ্তর আদালতে হলফনামা জমা দেয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বনদপ্তরের জমি দখল করে একাধিক রিসর্ট ও হোটেল গড়ে উঠেছে, যেগুলির বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়পত্র নেই। নিয়মিতভাবে অপরিশোধিত বর্জ্য বনাঞ্চলের মধ্যে ফেলা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যবহার, জঞ্জাল ফেলা, গাছ কাটা এবং কংক্রিট দিয়ে গাছের গোড়া বাঁধানোর মতো পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের বক্তব্য, “রায় পিছিয়ে যাওয়ায় সোনাঝুরি এলাকায় প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ কারও জন্য অপেক্ষা করে না। এখানে প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি হচ্ছে।”

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সাল থেকে সোনাঝুরি হাটের পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সরকারি নথিতে যেখানে ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ১,৮০০ জন, সেখানে বাস্তবে প্রায় চার হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ী হাটে বসেন বলে অভিযোগ। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর ফের বেনিয়ম শুরু হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে স্থানীয় কয়েকজন আদিবাসী শিল্পী ও আশ্রমকন্যা শ্যামলী খাস্তগীরের উদ্যোগে সপ্তাহে একদিন শনিবার সোনাঝুরি হাটের সূচনা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাটের আকার বড় হয়। বর্তমানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি কলকাতা, বর্ধমান, বাঁকুড়া ও মুর্শিদাবাদ থেকেও বহু ব্যবসায়ী এখানে পণ্য বিক্রি করতে আসেন।

অন্যদিকে, হাট ব্যবসায়ীদের দাবি, এই হাটকে কেন্দ্র করেই বহু স্থানীয় পরিবারের রুজি-রুটি চলে। ব্যবসায়ী ইনসান মল্লিক ও তন্ময় মিত্রের বক্তব্য, “সোনাঝুরি হাট এখন দেশ-বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। বনদপ্তরের নিয়ম মেনেই হাট পরিচালিত হচ্ছে। কোনওভাবেই হস্তশিল্পীদের এই হাট বন্ধ হতে দেওয়া যাবে না।”

এ বিষয়ে ডিএফও রাহুল কুমার বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি। এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”

সব মিলিয়ে পরিবেশ রক্ষা বনাম জীবিকা—এই দ্বন্দ্বের মাঝেই গ্রিন বেঞ্চের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় সোনাঝুরি হাটের হস্তশিল্পী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ২ এপ্রিলের রায়ই ঠিক করবে শান্তিনিকেতনের এই ঐতিহ্যবাহী হাটের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!