Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ২৩, ২০২২

যত কাণ্ড যোগীজির উত্তরপ্রদেশে । জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে আবেদন জেলা বিচারকের কাছে ফিরত পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট ।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যত কাণ্ড যোগীজির উত্তরপ্রদেশে । জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে আবেদন জেলা বিচারকের কাছে ফিরত পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট ।

যত কাণ্ড যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে। কখনও আগ্রার তাজমহল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে অনাকাঙ্খিত মামলা, মামলাকারীদের বিরুদ্ধে মহামান্য আদালতের ভর্ৎসনা, কখনও মথুরার মথুরা ঐতিহাসিক ঈদগাহ সরানোর ‘অসামাজিক’ আবদার। কখনও ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও নিদর্শনের নাম বদলের দাবি ইত্যাদি। এসবে শাসকের নৈশব্দ্য কিংবা পরোক্ষ আসকারার অভাব নেই। এবার টার্গেট বারাণসীর মন্দির সংলগ্ন ঐতিহাসিক মসজিদ জ্ঞানবাপী। পাঁচ মহিলা আবেদন করেছিলেন, বারানসীর সিভিল কোর্টে । তাঁদের দাবি, মসজিদের ভেতরে প্রার্থনা করতে চান। কারণ, সেখানে দেব-দেবির মূর্তি ছড়িয়ে আছে। মামলার আবেদন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে, উচ্চ আদালত তা ফেরত পাঠিয়ে বলেছে, মামলাটি জটিল এবং সংবেদনশীল । একথা বিচার করে মনে হচ্ছে, দায়রা আদালতে নয়, জেলার আদালতেই শুনানি জরুরি। দ্বিতীয়ত, একজন অভিজ্ঞ ও বরিষ্ঠ আধিকারিককে মামলার বিষয়টি শুনতে হবে ।

ইতিপূর্বে মসজিদের বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা এবং সমীক্ষার নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন উচ্তপদস্থ আধিকারীরকে । তিনি ব্যক্তিগত ক্যামেরাপারসনকে সঙ্গে নিয়ে ভেতরের ছবি বাইরে ফাঁস করে দেন । চিত্রগ্রহণের শেষ দিনে, আধিকারিকরা মসজিদ চত্বরের মধ্যে একটি পুকুরে হঠাৎ শিবলিঙ্গ আবিষ্কার করেন । এই পুকুর জলেই প্রার্থনার আগে হাত-পা শুদ্ধিকরণের অজু করা হত।
ভেতরের ছবি বাইরে ফাঁস করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকে বরখাস্ত করা হয়।পুকুরের যে অংশে শিবলিঙ্গ পাওয়া গেছে সে অংশের সুরক্ষার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর হুকুম জারি করে বলে দেয়, অজু-র জন্য অন্য স্থান নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।

পাঁচ মহিলার আবেদনের ভিত্তিতে বারাণসী সিভিল কোর্ট মসজিদের ভেতরে ভিডিও করার নির্দেশ দেয় । কিন্তু ভিডিওর বিরোধিতা করে মসজিদ কমিটি। তাঁদের দাবি ১৯৯১-সালের প্লেসেস অফ ওয়রশিপ অ্যাক্ট অনুযায়ী ভিডিও করা অসংগত।জ্ঞানবাপী মসজজিদ সমস্যা ক্রমাগত জটিল হয়ে উঠছে । ভভিষ্যতে সামাজিক সঙ্কট বাড়াবে এবং হিংসার রাজনীতির অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে । ভোটে বিভাজন যাঁদের রণকৌশল, তাঁদের জিগির বাড়বে এবং সমাজের জাত-পাতের রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদের আওতায় আরও বেশি করে জড়ো করার চেষ্টা করবে । হিসেব তাদের পরিস্কার, ক্ষত্রিয়দের সঙ্গবদ্ধ করতে অযোধ্যার রামজনম্ভূমিকে ইস্যু করেছিল । যাদব ও সমগোত্রীয় জনতাকে সন্তুষ্ট করতে মথুরাকে ইস্যু বানিয়েছে । এবার বারানসীর মন্দির সংলগ্ন মসজিদকে জড়িয়ে উচ্চবর্ণের ব্রাক্ষ্ণণদের তোয়াজ শুরু করল । এ সুপরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হিসেবের রাজনীতির মোকাবিলায় সেকুলার গণতন্ত্রের তোড়জোড় কোথায় ? উদাসীনতার কারণ কী ? ভোট হারানোর ভয়, না নিরাপত্তা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ ?

 


❤ Support Us
error: Content is protected !!