- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ১৫, ২০২৫
আবার হামাসের কবলে গাজা, ইজরায়েলের হয়ে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ, জনসমক্ষে হত্যা ৮ ফিলিস্তিনি নাগরিককে
হামাস কি ধোয়া তুলসী পাতা? কেন তাদের বন্দুকবাজির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বহু মানুষ? এসব প্রশ্ন তুলে সরব হচ্ছেন ফিলিস্তিনিদের একাংশ। গত দু-বছরে ইজরায়েল যেমন অবাধে গাজায় জলেস্থলে গণহত্যা চালিয়েছে, তেমনি প্রতিরোধের আক্রোশে খড়্গ উঁচিয়ে খুন-খারাপিতে সামিল ইরানের মদপুষ্ট হামাসও। যুদ্ধবিরতির শুরুতেই আবার প্রকাশ্যে গর্জে উঠল তাদের আগ্নেয়াস্ত্র।
গাজা উপত্যকা থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহার করেছে ইজরায়েল। যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দিয়েছে হামাস, পরিবর্তে কয়েক হাজার জেলবন্দি ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। ধ্বংসস্তুপের মাঝে বুকে শোক নিয়ে ফেলে যাওয়া ঘর খুঁজছেন সর্বহারা ফিলিস্তিনিরা। এরইমধ্যে আবার নতুন ভয় ও আতঙ্কে কাঁপছে গাজা। প্রকাশ্যে ৮ জন ফিলিস্তিনি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে হামাস। নিহতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা ইজরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন এবং যুদ্ধকালীন বিশৃঙ্খলার সুযোগে নানান অপরাধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থেকেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামাস যোদ্ধারা চোখ বেঁধে, হাত-পা বাধা ৮ জন পুরুষের উপর গুলি চালাচ্ছে; চারপাশে দর্শক-ভিড়; কেউ চিৎকার করছেন, কেউ স্লোগান দিচ্ছেন। ঘটনার সময় ও বিবরণ ভিডিও থেকেই আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে, তবু যুদ্ধঘেঁষা সময়ে, সত্যতা যাচাই করবার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সাহায্য নিয়েছি। সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয় সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, যে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে, সেটিতে আল-সাবরায় একটি বড়ো চত্বরের। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (রাদা-সহ যুক্ত নিরাপত্তা বাহিনী) এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে, তারা ইজরায়েলের সহযোগী, দেশবিরোধী অপরাধীদের ‘উপযুক্ত শাস্তি’ দিয়েছে। এবং অভিযানের অংশ হিসেবে আরো বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করেছে। যদিও নিহতদের সঙ্গে ইজরায়েলের যোগাযোগের সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ এখনো পেশ করেনি তারা। স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলি, বিশেষত গাজা ভিত্তিক সংগঠন আল-মিজান এই হত্যাকাণ্ডকে ‘বিচারবহির্ভূত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড’ বলে সমালোচনা করেছে। স্বাধীন অনুসন্ধানের দাবি তুলছে তারা।
ঐতিহাসিকভাবে হামাস দীর্ঘদিন ধরে গাজায় নির্বাহী ও নিরাপত্তা প্রভাব বজায় রেখে এসেছে; তবু সাম্প্রতিককালে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি, ইজরায়েলি আক্রমণ এবং সেনা অভিযানগুলোর ফলে গাজার অনেক এলাকা ‘শাসন শূন্য’ হয়ে পড়ে। শূন্যতার সুযোগে পরিবারভিত্তিক গোষ্ঠী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী শক্তি বাড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতির সময় গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লুটপাট, অত্যাচার, তহবিল তছরুপ এবং নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছে। হামাস এ মুহূর্তে গাজায় পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে তৎপর। বিশ্লেষকরা বলছেন, এধরণের প্রকাশ্য জোরপ্রদর্শন, জনসমক্ষে নির্বিচারভাবে মানুষকে হত্যা করার ঘটনা রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে হামাসের প্রতি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের আস্থা কমেছে, ফলে হামাস চাইছে ভয়-ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে। একইসঙ্গে এ ঘটনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সামরিক-রাজনৈতিক আলোচনায়, কাঁটা হয়ে উঠতে পারে হামাসের জন্য।
গাজায় বাসিন্দারা বলছেন, আমরা আতঙ্কিত। যুদ্ধের ধ্বংস বয়ে বেড়াচ্ছি নুব্জকাঁধে। এখন আবার নিজেদের হাতেই রক্ষা চাইতে হবে? এভাবে অন্যায়ভাবে কেউ বিচার করলে সাধারণ মানুষের আস্থা কোথায় যাবে? হামাসের এমন আচরণ নাগরিক জীবনের পুনর্গঠনে সবচেয়ে বড়ো বাধা। পশ্চিমা কূটনীতিকরা আর ইজরায়েলের আগ্রসনবাদীরা এ ঘটনাকে কাজে লাগাতে পারে। ফলে হামাসের রাজনৈতিক বৈধতা শঙ্কার মুখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সদ্য করা মন্তব্য, যেখানে তিনি বলছেন হামাসকে ‘নিরস্ত্র করা হবে’ এই ঘটনায় পালে হাওয়া পাবে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো জোর দিয়ে বলছে: যদি এই প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড সত্যি হয়, তাহলে গাজায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা যাবে, যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও সুরক্ষা নিশ্চিহ্ন করা দরকার।
বিরোধী গোষ্ঠীগুলি প্রতিশোধমূলক আক্রমণ যত বাড়বে, আবার ফিলিস্তিন জুড়ে অস্ত্র বিস্তার-সমস্যা ফুলেফেঁপে উঠবে বলে আশঙ্কা অনেকের। মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতে দীর্ঘ সময় লাগবে, হামাস সে পথে না গিয়ে শক্তিপ্রদর্শন করতে থাকলে, দখল-নিয়ন্ত্রণের সমীকরণ সাজাতে থাকলে, দেশ পুনর্গঠনের বদলে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা পুনরায় জঙ্গিবদ্ধ পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। মানবিক ত্রাণ বিতরণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা যেটুকু যা অবশিষ্ট আছে তাও শেষরক্ষা পাবে না।
❤ Support Us







