Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ৫, ২০২৩

রাজ্যকে হাইকোর্টের বেনজির পরামর্শ, হিংসা রুখতে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে। কোনো আপোষ নয়, স্পর্শকাতর এলাকায় মিছিল নয়। নেতাদের প্ররোচনামূলক মন্তব্যেও নিষেধাজ্ঞা

আইন-শৃঙ্খলা অটুট রাখতে কঠোর নবান্ন। ফাটল রুখতে অদম্য বাংলার ঐতিহ্য। ধর্মীয় মিছিল নিয়ে রাজনৈতিক অস্ত্রে শান দিচ্ছে কারা ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্যকে হাইকোর্টের বেনজির পরামর্শ, হিংসা রুখতে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে। কোনো আপোষ নয়, স্পর্শকাতর এলাকায় মিছিল নয়। নেতাদের প্ররোচনামূলক মন্তব্যেও নিষেধাজ্ঞা

হিংসা ও উস্কানির মোকাবিলায় রাজ্য সরকারকে আরো কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়ে হাইকোর্ট বলেছে, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে। শান্তি -শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কোনো আপোস নয়। রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করা থেকে উচ্চ আদালত বিরত রাখতে হবে।

আগামীকাল হনুমান জয়ন্তী। আগেভাগে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারকে উদ্যোগী হতে বলল প্রধান বিচারপতি টি এস শিবগ্নামের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। এব্যাপারে উচ্চ আদালতের পরামর্শ, যে জায়গায় ধর্মীয় মিছিল হবে, তার আগের দিন সেখানে আধা সামরিক বাহিনী নামিয়ে রুট মার্চ করাতে হবে। স্পর্শকাতর এলাকায় মিছিল করা যাবে না। অশান্তির আশঙ্কা থাকলে পুলিশকে আগেই সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে , ব্যারিকেডের ব্যবস্থাও করতে হবে।

ইতিমধ্যে, অশান্তি রুখতে রাজ্য সরকার প্রস্তুতি নিয়েছে। বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বার বার অভিযোগ করেছেন, বাংলার শান্তি রুখতে ষড়যন্ত্র চলছে। বাইরের গুন্ডাদের নিয়ে আসা হচ্ছে। হাওড়া পুলিশ প্রশাসন মুঙ্গেরের এক যুবককে গতকাল গ্রেফতার করে, নাম সুমিত সাউ। সে রামনবমীর মিছিলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। শাসক গোষ্ঠীর দাবি, সুমিত গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে জড়িত। পাল্টা দাবি তুলেছেন সুকান্ত মজুমদার। সুমিত স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেছে। সুকান্ত টুইট করে বলেছেন, তৃণমূলের চক্রান্ত ফাঁস হয়ে গেছে। নিজের লোক ঢুকিয়ে পরে তাকে গ্রেফতার করে বিজেপি ও হিন্দুদের বদনাম করার চেষ্টা করছে।
তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরী সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, উনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। ওঁকে ভালো ডাক্তার না দেখালে কিচ্ছু হবে না। কে বড়ো শুভেন্দু না উনি এ নিয়ে ঝগড়া করতে করতে ওঁর জীবনটা বেকার হয়ে পড়েছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনে লড়তে হলে সুকান্তকে শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে সুস্থ থাকতে হবে।

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বিজেপির যে কর্মীকে রামনবমীর মিছিলে বন্দুক হাতে দেখা গেছে।, তাকে বিজেপি অস্বীকার করেছে, দায় এড়াতে। অভিযুক্ত নিজেই স্বীকার করেছে, মুঙ্গের থেকে এসে বন্দুক নিয়ে মিছিল করছিল। বিজেপির অভিসন্ধি সামনে চলে এসেছে, মুখ লুকোনোর জায়গা নেই। বাইরে থেকে লোক ঢুকিয়ে বাংলায় গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা হয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিক কারণে বাংলায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ প্রায় ব্রাত্য হয়ে পড়ে। গত ৭৫ বছরে, ১৯৬৪ এবং ১৯৯২-এর ব্যতিক্রমকে বাদ দিলে কোনো বড়ো অঘটন ঘটেনি। ষাট-সত্তরের ছাত্র আন্দোলন ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের উত্থানের পর সাম্প্রদায়িকতাকে পুরোপুরি বর্জন করে বাঙালি সমাজ। কিন্তু বহিরাগতের চক্রান্ত বন্ধ হয়নি। বাম জমানার প্রায় গোড়াতে কলকাতা বন্দর এলাকায় ধর্মগ্রন্থের অবমাননা, পরে একই পবিত্র গ্রন্থের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলাসহ আর্যাবর্তের আগন্তুক রাজনীতির যাবতীয় ষড়যন্ত্রকে গোড়াতেই উচ্ছেদ করে দেয় বাঙালির সামাজিক ও রাজনৈতিক শুভবুদ্ধি। সমাজের নানা স্তরের বুদ্ধিজীবীরাও কখনো চুপ করে বসে থাকেননি। সঙ্কটের আঁচ পেলেই রুখে দাঁড়িয়েছেন, মিছিল করেছেন, সমাবেশে মিলিত হয়েছেন ছাত্র যুবাদের সঙ্গে নিয়ে। এটা শুধু বামপন্থীদের কৃতিত্ব নয়, একটিমাত্র দল ও তার ছায়া সংগঠনকে বাদ দিলে প্রতিটি ডান-বাম সংগঠনই বাংলার আবহমান ঐতিহ্যকে জাগিয়ে রাখতে চেয়েছে। ৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি ধ্বংসের পর পরিস্থিতি বড়োজোর দুদিন অস্থির হয়ে ওঠে। সেদিন টিভিতে কম্পমান আবেগে, সুদৃঢ় ভঙ্গিতে সাম্প্রদায়িক স্থিতি অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন জননেতা জ্যোতি বসু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও চুপ করে বসে থাকেননি। অশান্তি রুখতে রাস্তায় মিছিল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। একারণেই বলা জরুরি, সম্প্রীতি আর বাংলার রাজনীতি কখনো পরস্পর বিরুদ্ধ নয়।

আজ ধর্মীয় মিছিলকে কেন্দ্র করে যেসব খুচরো অঘটন ঘটেছে, তা বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে খাপ খায় না। আবহমান সম্প্রীতিকে দূষিত করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে যাঁরা তাৎক্ষণিকতার অস্ত্রে শান দিচ্ছেন, রাজনৈতিক দূষণ ছড়াচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বঙ্গীয় সমাজ, মূল স্রোতের বঙ্গীয় রাজনীতি ও প্রশাসনকে সতর্ক করল হাইকোর্ট।

ষড়যন্ত্র গভীরে। দৈত্যরা ঘুরছে। সামনে পঞ্চায়েত ভোট। বৈতরণী পেরোতেই ভুল পথ, ভুল নৌকোর দিকে যাঁরা হাঁটছেন , আখেরে নিজেদেরই রাজনৈতিক সর্বনাশ ডেকে আনছেন তাঁরা।বাংলা বাংলাতেই আছে, বাংলাতেই থাকবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!