- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫
উচ্চমাধ্যমিকে প্রথমবার সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা, ওএমআর শিটে উত্তর – পরীক্ষার্থীদের জন্য কড়া নির্দেশিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সোমবার থেকে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়। উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার খাতায় প্রথমবারের জন্য চালু সেমেস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা। উত্তর লিখতে হবে ওএমআর শিটে। সময়— ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। প্রশ্ন—পুরোটাই এমসিকিউ। নিয়মে বদল, পরীক্ষার ধরনে রদবদল, নিরাপত্তায় নজিরবিহীন ব্যবস্থা। আর এ সব কিছুর মাঝে পরীক্ষার ময়দানে নামলেন রাজ্যের প্রায় ৬.৬ লক্ষ পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে।
সারা রাজ্যে মোট পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ১০৬টি। যার মধ্যে ১২২টি চিহ্নিত হয়েছে স্পর্শকাতর কেন্দ্র হিসেবে। ফোলে কেন্দ্রে ঢোকার মুখেই মেটাল ডিটেক্টর। প্রশ্নপত্র আর ওএমআর শিটও নজরদারির আওতায়। প্রতিটি কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। পরীক্ষার হলে মোবাইল, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ, হেডফোন, সবই নিষিদ্ধ। ব্যাগপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে তবেই প্রবেশ। সঙ্গে রাখা যাবে শুধু স্বচ্ছ বোতল, স্বচ্ছ পাউচ, স্বচ্ছ ক্লিপবোর্ড। নতুন নিয়মে উত্তর লিখতে হচ্ছে ওএমআর শিটে। সম্পূর্ণ মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন। পরীক্ষার সময় মাত্র ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। সঠিক উত্তর দিতে হলে নির্দিষ্ট বৃত্ত কালো বা নীল বলপেন দিয়ে ভরতে হবে। ভুল করলে নম্বর কাটা যাবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস বা কোনো ধরনের কারচুপির আশঙ্কা রুখতে প্রশ্নপত্রে থাকছে নিরাপত্তা প্রযুক্তি। পরীক্ষার হলের বাইরে ছবি তুলে পাঠালে মুহূর্তে ধরা পড়ে যাবে কোন প্রশ্নপত্র থেকে ছবি তোলা হয়েছে। সকাল ১০টায় শুরু পরীক্ষা, শেষ সওয়া ১১টায়। পরীক্ষার্থীকে সকাল ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে ঢুকে যেতে হয়েছে। ঢোকার মুখে দেহতল্লাশি। পরীক্ষার সময় শৌচালয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। পরীক্ষার মাঝপথে হল ছেড়ে বেরোনোও নিষিদ্ধ। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘শিক্ষার্থীরা একাদশে ওএমআর শিটে পরীক্ষা দিয়েছে। তারা প্রশিক্ষিত। ফলে বিভ্রান্তির কিছু নেই। শৃঙ্খলা ভাঙলে, পরীক্ষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট পরিবহনের দিকেও। আলিপুরদুয়ার, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শেষ মুহূর্তে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রশ্নপত্র। কোথাও কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে ভোটে ব্যবহৃত লোহার ট্রাঙ্ক। সব কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রশ্নপত্র পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন সংসদের সভাপতি। এই প্রথম বর্ষাকালের মধ্যে পরীক্ষা হওয়ায় জল জমা রুখতে এবং পৌঁছনো সহজ করতে মূলত উঁচু এলাকার স্কুলগুলিকে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র বাছাইয়ের সময় পরিবহন এবং বৃষ্টির কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত।
চলতি সেমেস্টারে রাজ্যজুড়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় প্রায় ৭৯ হাজার ৫৮২ জন বেশি। ২০২৪ সালের মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ৭ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৫২ জন। কিন্তু তাদের মধ্যে ১ লক্ষ ৫ হাজারেরও বেশি পড়ুয়া উচ্চমাধ্যমিকে নাম তোলে নি। ঝরে পড়ার এ পরিসংখ্যান নিয়েও উদ্বিগ্ন শিক্ষামহল। এই প্রেক্ষাপটে নজর কাড়ছে বীরভূম। গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা। এ বছর জেলার ৯০টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৩১ হাজার ৬০৫ জন।
এ বছর পরীক্ষার শেষে পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজের স্ক্যান করা ওএমআর শিট এবং সরকারি উত্তরপত্র অনলাইনে দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারবে। এর ফলে ফল প্রকাশের আগেই তারা সম্ভাব্য নম্বর হিসেব করে নিতে পারবে। সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক অভিজিৎ নন্দন জানিয়েছেন, ‘পরীক্ষার ধরন বদলেছে, ছাত্রছাত্রীরাও পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। সেমেস্টার পদ্ধতি ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরিতে সহায়ক হবে বলেই আমরা আশাবাদী।’ রাজ্য শিক্ষা দফতরের তরফেও স্পষ্ট বার্তা, পরীক্ষার পদ্ধতিতে এ বদল শুধু নিয়ম নয়, ভবিষ্যতের দিশা। পরীক্ষার মান, স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ। প্রথম দিনের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে হওয়ায় আশার আলো দেখছেন অনেকেই।
❤ Support Us





