- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫
চাকরি হারা শিক্ষকদের যোগ্য তালিকার প্রতিবাদী মুখ হুমায়ুন ফিরোজ, পরীক্ষা দিয়ে বললেন আন্দোলন থামবে না
চাকরিহারা যোগ্যদের মধ্যে যাঁরা ‘আবার পরীক্ষা কেন দেব? আমরা পরীক্ষা দেব না’ বলে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন তাঁদের একজন হুমায়ুন ফিরোজ শেষপর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষায় বসলেন। তিনি বললেন, ‘আমরা ষড়যন্ত্রে শিকার। মন না চাইলেও পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হয়েছি।’ রবিবার হুমায়ুন পরীক্ষা দিয়েছেন বসিরহাটের ভ্যাবলা–ট্যাঁটরা স্যার রাজেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে। হুমায়ুন বসিরহাটের এনবিএস ন্যাওরা হাইস্কুলের কেমিস্ট্রির শিক্ষক। আদালতের নির্দেশে তিনি চাকরি হারান। তার চাকরি ফিরে পাওয়ার আন্দোলনে তাঁকে প্রথম সারিতে দেখা যায়। হুমায়ুন শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের যে ৫ জন আহ্বায়কের তাঁদের একজন। পরীক্ষা দিয়ে হুমায়ুন বলেন, ‘এসএসসি দিয়ে অনেক গরিব ঘরের ছেলে মেয়েরা অনেক কষ্ট করে চাকরি পেয়েছিলেন। তাঁরা কেউ এই দিনটা দেখতে চান নি। আমাদের চাকরিটা যায়নি। আমাদের চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এটা একটা রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র। এখানে সরকারের দুর্নীতি এবং বিচার ব্যবস্থার অবহেলায় আমাদের চাকরিটা হারাতে হয়েছে। তাঁরাই আমাদের পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করেছেন। আমরা কেউ চাইনি পরীক্ষা দিতে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্র ও বিচার ব্যবস্থার কাছে পরাজিত হয়ে আমরা পরীক্ষা বসতে বাধ্য হয়েছি।’ তিনি বলেন, মন থেকে আমরা এখনও মানতে পারছি না। কেন পরীক্ষা দিতে হল। ১০ বছর চাকরি করার পর সেই মানসিকতা থাকে। আমাদের মানসিক যন্ত্রনা নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছি পরীক্ষা ভালো হয়েছে।’ হুমায়ুন বলেন, ‘আমরা বিচার ব্যবস্থার ওপর ভরসা রেখে রিভিউ পর্যন্ত আশা রেখে ছিলাম, অন্তত বিচার ব্যবস্থা আমাদের দিকে ফিরে তাকাবে। যারা সৎভাবে চাকরি পেয়েছি তাদের জন্য কিছু করা উচিৎ ছিল। আমরা আগেও পরিশ্রম করে চাকরি পেয়েছিলাম। এবার চাকরি রক্ষার জন্য আবার পরিশ্রম করে পরীক্ষা দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘স্কুল করে, ছাত্রদের পরীক্ষার খাতা দেখে রাত জেগে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের প্রতি অবিচারের প্রতিবাদে আন্দোলনেও থেকেছি। এখন আশা করব আমাদের স্বপ্ন গুলি যাতে আবার চুরমার না হয়ে যায় সে জন্য পরীক্ষার পরের পর্যায়ে এসএসসি স্বচ্ছতা বজায় রাখবে।’ তিনি এও বলেন, পরীক্ষা দিয়েছি। নিয়োগের ক্ষেত্রে আশা করি স্বচ্ছতা থাকবে। তবে আমাদের আন্দোলন থেমে থাকবে না। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আন্দোলন থেমেছিল। আবার আমাদের ন্যায্য চাকরি ফিরে পাওয়ার আন্দোলন কিন্তু আরও জোরদার হবে।
❤ Support Us






