Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ১৪, ২০২৩

আদিবাসী মহিলাদের নাকে খত। দিনাজপুরের ঘটনায় শাসক শিবিরের দিকে আঙুল বিজেপির, নির্যাতিতাদের দাবি তাঁরা বরাবরই তৃণমূলের সমর্থক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আদিবাসী মহিলাদের নাকে খত। দিনাজপুরের ঘটনায় শাসক শিবিরের দিকে আঙুল বিজেপির, নির্যাতিতাদের দাবি তাঁরা বরাবরই তৃণমূলের সমর্থক

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দক্ষিণ দিনাজপুরে দলবদলকে কেন্দ্র করে অমানবিক একটি ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার যে ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, তিনজন আদিবাসী মহিলা বিজেপির স্থানীয় একটি কার্যালয় থেকে তৃণমূলের জেলা সদর কার্যালয়ের দিকে নাকে খত দিচ্ছেন।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ঘটনাটি সামনে আনে বিজেপি। বালুরঘাট থেকে ১৮ কিলোমিটার ভিতরে বাডসানসাইরে বিজেপির অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শতাধিক নারী-পুরুষ বিজেপিকে যোগ দিয়েছেন। এঁদের বেশিরভাগই মহিলা। বিজেপিতে যোগদানের ঘটনার পরেই তিন আদিবাসী মহিলাকে নাক খত দেওয়ানো হয়েছে। কিন্তু ঘটনার জন্যে কারা দায়ী তা স্পষ্ট নয়।

রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার দায় চাপিয়েছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের ওপর। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং জাতীয় তফশিলি কমিশনকে ঘটনার বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, ওই তিন তফশিলি মহিলা সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় তফশিলি কমিশনকে লেখা চিঠিতে সুকান্তবাবু এও জানিয়েছেন, ওঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বলেই ন্যক্কারজনক ঘটনার শিকার হলেন।

এদিকে যে তিন মহিলা তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে নাকে খত দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে বিজেপি যে তুলছে, তাঁরা আদৌ বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন কি? প্রশ্ন উঠছে এনিয়েও। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার আক্রান্ত তিন মহিলা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আগাগোড়াই তাঁরা তৃণমূল সমর্থক। তবে আক্রান্ত তিন মহিলা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন না। ফলে প্রকৃতপক্ষে ব্যাপার কী, তা জানা যাচ্ছে না।

বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের শাস্তি হিসেবে এই অমানবিক ঘটনা ঘটনো হয়েছে। এভাবে ওঁদের ওপর তৃণমূলে ফিরতে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

যে তিনজন মহিলার নাকে খত দেওয়ার ভিডিয়ো সামনে এসেছে তাঁদের মধ্যে একজনের স্বামী জানিয়েছেন, তিনি ২০১৩ সাল থেকে তৃণমূলের রাজনীতি করছেন। যাঁদের দায়িত্বজ্ঞান আছে, তাঁদেরই বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে দল। তিনি এও বলেছেন, আমরা খ্রিষ্টান। কেন বিজেপিতে যোগ দিতে যাবো? আমি বলছি, আমার স্ত্রী অথবা আক্রান্ত অন্য দুই মহিলা তৃণমূল ছাড়া কখনওই অন্য কোনও রাজনীতি কখনও করেননি। এদিকে স্থানীয় নেতৃত্ব আমাকে মারাত্মক চাপে রেখেছে।  আক্রান্ত আরেকজনের মা বলেছেন, তাঁদের পরিবার বরাবর তৃণমূলের পক্ষে ছিল, থাকবেও।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!