- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ২৪, ২০২৩
ডিব্রুগড় জেলে বাড়ানো হল নিরাপত্তা। অমৃতপালকে জিজ্ঞাসাবাদে হাজির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ
খলিস্তানপন্থী ধর্মগুরু অমৃতপাল পাঞ্জাব পুলিশের কাছে আত্মসমপ্রণ করেছেন। তাঁকে আসামের ডিব্রুগড়ে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে তাঁর বেশ কয়েকজন সঙ্গীরা রয়েছেন। আপাতত তিনিও তাঁদের সঙ্গে সেখানেই বন্দী থাকবেন। এনআইএ তদন্তকারীরা প্রয়োজনে সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসা বাদ করবেন। অমৃতপালদের রাখার কারণে কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে জেলের নিরাপত্তা।
হঠাৎ ডিব্রুগড়ে ধর্মগুরুকে নিয়ে যাওয়া হল কেন? এ প্রসঙ্গে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রথমে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তিহার জেলে নিয়ে যাওয়া হবে অমৃতপালদের। কিন্তু সেখানে যারা রয়েছে তাদের অধিকাংশতই কুখ্যাত গ্যাংস্টার। যাদের অনেকের সঙ্গে অমৃতপালের বেশ ভালো সম্পর্ক। এদেরকে প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেন তিনি। সেই সম্ভাবনার আঁচ পেয়ে দূরে কোথাও নিয়ে যাওয়ার ব্যপারে ভাবনা-চিন্তা করা হয়েছিল।দ্বিতীয়ত , আসামের স্থানীয় ভাষার সঙ্গে অমৃতপালের পরিচিতি না থাকায় তার পক্ষে জেল কর্মী ও অন্যন্য কারাবন্দীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে না। সংগঠন গড়ে তুলতে অসুবিধার সম্মুখীন হবেন। তাছাড়া, স্থানীয় শিখরাও খলিস্তান দাবি নিয়ে আগ্রহী নয়। তৃতীয় কারণ হল ডিব্রুগড় জেলের দুর্ভেদ্যতা। অত্যন্ত সুরক্ষিত জায়গা এটি। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ১৭০ বছরে জেল থেকে কেউ পালাতে পারেনি। আর চতুর্থত শহরের মধ্যিখানে অবস্থান। যে কারণে বন্দীদের কেউ পালানোর চেষ্টা করলে সে ধরা পড়বেই।
দুমাস আগে দলীয় সহকর্মীকে ছাড়াতে গিয়ে অঞ্জলার স্থানীয় থানায় অস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন অমৃতপাল ও তাঁর অনুগামীরা। অবশ্য তার আগের দিনই বজ্ঞাপুরাণা থানা ও অমৃতসর পুলিশ কমিশনারেটে তার নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ ধারায় তার নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে— রাষ্ট্রদ্রোহ, বেআইনি জমায়েত সংগঠিত করা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতার মনোভাব উস্কে দেওয়, ধর্মীয় সভা থেকে অবমাননাকর মন্তব্য, বিদ্দ্বেষ মনোভাবাপন্ন প্রচারপত্র বিলি, জেলাশাসকের সঙ্গে অসদাচরণ প্রভৃতি। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১ মাস যাবৎ এসব অভিযোগ অন্তরালে রাখা হয়েছিল। ১৮ মার্চ যখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে অমৃতপালকে গ্রেফতার করতে উদ্যত হয়য় পাঞ্জাব অপুলিশ তখন বিষয়টি সামনে আসে। মূলত নিরাপত্তার কারণেই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রশাসন। সরকারি সূত্রে দাবি, দায়ের হওয়া প্রতিটি অভিযোগেই দেখা গেছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা প্রচার করে নিজের স্বাধীন খলিস্তান দাবির পক্ষে জনমত গ ড়ে তুলতে চেয়েছিলেন স্বঘোষিত শিখ ধর্মগুরু। ভাষা ও ধর্মের ভিত্তিতে তিনি দেশে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএস আইর এব্যাপারে ইন্ধন থাকতে পারে -এরকম দাবি বহুবার করা হয়েছে। অমৃতপাল ধরা পড়ায় এব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
❤ Support Us






