- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৯, ২০২৫
তুলো আমদানিতে কর ছাড় ! ট্রাম্পের শুল্ক-জুজুর মোকাবিলায় মোদি দাওয়াই
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানোয় উদ্বিগ্ন শিল্প মহল। সে চাপ সামলাতে অবশেষে তুলোর উপর থেকে ১১ শতাংশ আমদানি শুল্ক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাল কেন্দ্র। সোমবার রাতে অর্থ মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, মঙ্গলবার অর্থাৎ ১৯ অগস্ট থেকে কার্যকর হবে নয়া শুল্ক ছাড়। পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রের পরিকাঠামো উন্নয়ন কর, অর্থাৎ এআইডিসি-ও মকুব করা হয়েছে। আপাতত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক হুঙ্কার যে ভারতের ছোট-মাঝারি শিল্পে প্রবল ধাক্কা দিতে পারে, তা আঁচ করেই তড়িঘড়ি ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর পথে হাঁটল নয়াদিল্লি। শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্তে খানিকটা স্বস্তি পেলেও শিল্প মহলের উদ্বেগ এখনই পুরোপুরি কাটেনি। কারণ, শুল্ক ছাড় থাকছে মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময়ের জন্য। তবে এখন এটাই বড়ো ভরসা। বিশেষত বস্ত্রশিল্পের মতো খাতে, যেখানে প্রচুর কর্মসংস্থান জড়িয়ে, সেখানে তুলোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। অ্যাপারেল এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের তৈরি পোশাক রফতানির ৩৩ শতাংশই গিয়েছে মার্কিন বাজারে। তুলোর তৈরি টি-শার্ট, মহিলাদের পোশাক ও শিশুদের পণ্যের চাহিদা সবথেকে বেশি। মার্কিন বাজারে এই তিন পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতের শেয়ার যথাক্রমে ১০, ৩৬ এবং ২০ শতাংশ। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তি শুল্ক ভারতীয় রফতানিকারকদের সামনে কার্যত একটি প্রাচীর তুলে দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে তুলোর শুল্ক মকুবের সিদ্ধান্তে বস্ত্রশিল্প খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রিমা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সরকারের পদক্ষেপকে তাই শিল্পের জন্য সহযোগী হিসাবেই স্বাগত জানানো হচ্ছে, যদিও ছাড়ের মেয়াদ সীমিত। প্রতিযোগিতার নিরিখে ভারতের অবস্থান যে ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে, তা-ও পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যে ২০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া থেকেও একই হার। আর ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে ওই হার ২০ শতাংশ। সেখানে ভারতের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ৫০ শতাংশ। যার ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্য মার খাচ্ছে।
নয়াদিল্লি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ‘অন্যায় ও অযৌক্তিক’। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে শুধু অর্থনৈতিক স্তরেই নয়, রাজনৈতিক বার্তাও দিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর ডাক আরো একবার জোরদার হয়েছে। দেশের কৃষক ও পশুপালকদের স্বার্থরক্ষার পর, এই শুল্ক ছাড়ের পদক্ষেপকে সরকারের তরফে দায়িত্বশীলতা বলেই দেখা হচ্ছে। কারণ, তুলো কেবল পোশাক কারখানার কাঁচামাল নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিও। সরকারি সূত্র বলছে, ট্রাম্প সত্যিই যদি ভারতের উপর দুই ধাপে ২৫ শতাংশ করে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, তবে চর্মশিল্প, অলঙ্কার ও বস্ত্রশিল্পে প্রবল ধাক্কা লাগবে। এ শিল্পগুলি শুধু রফতানিনির্ভর নয়, দেশীয় কর্মসংস্থানেও বড়ো ভূমিকা পালন করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় একদিকে যেমন শুল্ক ছাড়ের মতো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে আত্মনির্ভর করে তোলার বার্তাও জোরদার করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই স্বস্তি কতদিনের? ৩০ সেপ্টেম্বরের পর কী হবে, তা স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেই জানানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রকের তরফে। আপাতত শিল্পমহলের ভরসা, সাময়িক এই ছাড় অন্তত ধাক্কাটা কিছুটা ঠেকাতে পারবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া মার্কিন শুল্ক-ঝড়ে কতটা টিকতে পারবে দেশীয় শিল্প, সেই উত্তর এখনো অধরা।
❤ Support Us







