- দে । শ বৈষয়িক
- মে ১, ২০২৩
আগামী পাঁচ বছরে বিশ্ব জুড়ে কর্মসংস্থান বাড়বে, জানাল ডব্লিউইএফ। গুরুত্ব কমবে প্রথাগত পেশার
আগামী পাঁচ বছরে ভারতের কাজের বাজার ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও তথ্য শ্রেণীকরণের ক্ষেত্রে তৈরি হবে কাজের নতুন সুযোগ। ভবিষ্যতে অর্থনীতির চালিকা শক্তি হয়ে উঠবে এরাই। নতুন সমীক্ষায় পাওয়া গেল এমনই ইঙ্গিত।
কর্মক্ষেত্রের ছবিটি আগামী দিনে কেমন হতে চলেছে তার আন্দাজ পেতে ভারত সহ বিশ্বের ৮০৩ টি কোম্পানিতে সমীক্ষা চালিয়েছিল ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। সোমবার তাঁদের যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে হয়েছে, তা সত্যি হলে খোলনোলচে বদলে যাবে গোটা দুনিয়ার চাকরির বাজারের চিত্র। সমীক্ষায় বলা হয়েছে ২০২৭ সালের মধ্যে সার্বিক ভাবে কর্মক্ষেত্রে ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে । যার মধ্যে ৬ লাখ ৯০ হাজার নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার আশঙ্কার চিত্রটিও ফেলে দেওয়ার মতো নয়। এই মুহূর্তে চালু থাকা ৮ লাখ ৯ হাজার চাকরি আগামী পাঁচ বছরের সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যেতে পারে। যা চাকুরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আর্থিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
ভারতের ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, ৬১ শতাংশ কোম্পানিই মনে করে,সামাজিক , প্রশাসনিক ও পরিবেশ সংক্রান্ত নীতি কাজের জগতকে আরো বিকশিত করবে। ৫৯ শতাংশ ও ৫৫ শতাংশ সংস্থা রয়েছে যারা মনে করে, নতুন প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শিল্পক্ষেত্রে নবদিগন্ত রচনা করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য পরিসংখ্যান বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীরা। ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে তাঁদের কাজ।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বলে প্রচলিত ধারণা। কিন্তু ভারত ও চিনের জনবিস্ফোরণ তাঁদের অর্থনৈতিক অবনমনের কারণ হবে না বলে মনে করেন সমীক্ষকরা।খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের ক্ষেত্রে ভারত সহ আমেরিকা ও ফিনল্যাণ্ডে গ্রিন স্কিল সবথকে বেশি গুরুত্ব পাবে।
ডব্লুয়ইফ-এর সমীক্ষা অনুসারে, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার অর্থনীতিতে অনেকে চ্যালেঞ্জ যেমন নিয়ে আসবে, তেমনই তৈরি করবে অনেক সুযোগ। বাড়বে বৌদ্ধিক আর কায়িক শ্রমের ব্যবধান । আগামী দিনে কেরানি অথবা সচিবের প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ হ্রাস পাবে, বাড়বে তথ্য পরিসংখ্যানবিদ ও বিশ্লেষকদের কাজের গুরুত্ব। যে সমস্ত কোম্পানিতে সমীক্ষা চালানো হয়েছে তার ৭৫ শতাংশই নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করবার পক্ষে । তাই প্রযুক্তির ব্যবহার কাজের দ্রুততা ও নির্ভূল হওয়াকে সুনিশ্চিত যেমন করবে, তেমনি বহু মানুষকে চিরাচরিত চাকরি গুলো থেকে কর্মচ্যুত করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে। এর জন্য দরকার প্রশিক্ষণ। সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রতি ১০ জনে ৬ জনের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের আগেই শেষ করে ফেলা উচিত । কিন্তু এখনও পর্যন্ত কর্মীদের মাত্র অর্ধেকই নতুন প্রযুক্তির সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।
শিক্ষাক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ বাড়বে বলেই মত সমীক্ষকদের। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে শিক্ষাক্ষেত্রে কাজের পরিমাণ। ৩০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে। চাষবাসের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক। তবে অবশ্যই তা কৃষি সংক্রান্ত কারিগরি প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে।
প্রকৃতপক্ষে, ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ ও কর্মচ্যুতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে চায়। যে সব সংস্থা গুলোর ওপর সমীক্ষা চালানো হয়েছে তাঁদের ৩৬ শতাংশই চায়, উচ্চহারে বেতনের বিনিময়ে নতুন প্রতিভাকে কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ করতে। প্রতি পাঁচটির মধ্যে চারটি সংস্থাই আগ্রহী প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করতে। নিজেদের কাজের জগতকে আরো উৎপাদনশীল করে তুলতেই উদ্যোগী হচ্ছে একাধিক সংস্থা।
❤ Support Us





