- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫
সশস্ত্র সংগ্রাম স্থগিতের প্রস্তাব। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় মাওবাদীরা
বিগত কয়েক দশকের মধ্যে চলতি বছরে মাওবাদী দমনে বড় ধরণের সাফল্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ছত্তিশগড় থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছে কয়েকশ মাওবাদী। বলতে গেলে এই বছর মাওবাদীদের ওপর মারাত্মক আঘাত নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের কাছে সাময়িকভাবে সশস্ত্র সংগ্রাম স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছে মাওবাদীরা। কেন্দ্রের সঙ্গে তারা আলোচনায় বসতে চায়।।
নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমাগত দমন–পীড়নে কোণঠাসা নিষিদ্ধ মাওবাদীরা। এই পরিস্থিতিতে তারা শান্তির জন্য আবেদন করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রেস বিবৃতিতে মাওবাদীরা সাময়িকভাবে সশস্ত্র সংগ্রাম বন্ধ করার জানিয়েছে। মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র অভয়ের জারি করা এই প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা এক মাসের জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম স্থগিত রাখতে প্রস্তুত। এই সময়ের মধ্যে সরকার নিযুক্ত কমিটির সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী।
প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কারাবন্দী মাওবাদী নেতাদের আলোচনায় অংশ নিতে দেওয়া হোক। পাশাপাশি সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, এই সময়ের মধ্যে পুলিশের চাপ এবং অব্যাহত এনকাউন্টার আলোচনা প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই সরকারও যেন এই একমাসের মধ্যে কোনও ধরণের দমন–পীড়নের রাস্তায় না হাঁটে। কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া জানতে ওই প্রেস বিবৃতিতে একটা ইমেল আইডি শেয়ার করা হয়েছে। মাওবাদীরা রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, কর্মীদের নিরাপদ পথ এবং আলোচনা অর্থবহ বিষয় নিয়ে নিশ্চয়তার দাবিও জানিয়েছে। তারা তাদের কারাবন্দী এবং গোপন সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য এক মাস সময় চেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বিগত কয়েকমাসে মাওবাদী নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার পর এই বিবৃতি সামনে এসেছে।
কয়েক দশকের মধ্যে এই বছর মাওবাদীদের ওপর সবচেয়ে মারাত্মক আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ফেব্রুয়ারিতে ছত্তিশগড়ের বিজাপুরের ইন্দ্রাবতী জাতীয় উদ্যানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৩১ জন মাওবাদী নিহত হন। ছত্তিশগড়ের মাওবাদীদের অন্যতম প্রাচীন ঘাঁটি আবুঝামাদে মে মাসে বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনী ২৮ জন মাওবাদীকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে শীর্ষ নেতা নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজুও ছিলেন। এই দুই শীর্ষ নেতার মৃত্যু মাওবাদী নেতৃত্বকে অনেকটাই পঙ্গু করে দিয়েছে।
সোমবার ঝাড়খণ্ডে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে সিআরপিএফ কোবরা কমান্ডোরা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সহদেব সোরেনকে হত্যা করেছে। যার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলিতে সিআরপিএফ এবং মহারাষ্ট্র পুলিশ কমান্ডোরা বেশ কয়েকটি পিএলজিএ গেরিলাকে হত্যা করেছে, মাওবাদীদের প্রাচীনতম একটা গঠন ভেঙে দিয়েছে। মাওবাদীদের এই সংঘর্ষ বিরতির প্রস্তাব সরকারি সূত্রগুলি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
আলোচনা শুরু করার জন্য নাগরিক সমাজের মধ্যস্থতাকারীদের ব্যবহার করতে পারে। নয়াদিল্লি অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে বামপন্থী চরমপন্থা শেষ করার লক্ষ্য এখনও রয়ে গেছে। তবে ছত্তিশগড়ের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, চিঠির সত্যতা এখনও যাচাই করা হচ্ছে।
১৯৬৭ সালে বাংলার নকশালবাড়িতে সংঘটিত বিদ্রোহের মাধ্যমে মাওবাদীদের আন্দোলন শুরু হয়, যা পরবর্তীকালে ভারতের দীর্ঘতম অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়। কয়েক দশক ধরে এটা অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে নেপাল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে ভয়াবহ নকশাল করিডোর তৈরি করে। এই করিডরের ভেতরে থাকা রাজ্যগুলি হল, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা। এই তিনটি রাজ্য প্রান্তিক উপজাতি এবং গ্রামীণ সম্প্রদায়ের সমর্থনে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়। সরকারের সঙ্গে আলোচনা সফল হলে সংঘাত পীড়িত উপজাতি অঞ্চলগুলি অবশেষে ল্যান্ডমাইন এবং অ্যামবুশের পরিবর্তে স্থায়ী রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল এবং উন্নয়ন দেখতে পাবে। এই যুদ্ধবিরতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ভূমি অধিকার, বন অধিকার এবং ক্ষতিপূরণের দরজা খুলে দিতে পারে।
❤ Support Us







