- দে । শ বৈষয়িক
- মার্চ ২০, ২০২৬
টাকার দামের ঐতিহাসিক পতন। ৯৩ ছুঁল ডলারের বিপরীতে, উদ্বেগে দেশের অর্থনীতি
ভারতীয় মুদ্রা টাকা ফের এক নতুন রেকর্ড গড়ল, তবে তা নিম্নমুখী দামের ক্ষেত্রে। এই সপ্তাহ জুড়েই ধারাবাহিকভাবে টাকার অবমূল্যায়ন লক্ষ্য করা গিয়েছে, এবং শুক্রবার সেই পতন আরও তীব্র হয়। এ দিন বাজার খোলার পরই ডলারের তুলনায় টাকার বিনিময়দর প্রথমবার ৯৩-এর গণ্ডি অতিক্রম করে, যা টাকার ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্তর।
শুক্রবারের আর্লি ট্রেডে ডলারের বিপরীতে টাকার দাম নেমে যায় ৯২.৯৪-এ, যা ছিল সেই সময় পর্যন্ত সর্বকালের রেকর্ড লো। পরবর্তীতে তা আরও দুর্বল হয়ে ৯৩-এ পৌঁছে যায়। এর আগে চলতি সপ্তাহের বুধবারও টাকা বড় পতনের মুখ দেখেছিল, সেদিন ডলারের বিপরীতে বিনিময়দর দাঁড়িয়েছিল ৯২.৬৩-এ। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে সেই রেকর্ড ভেঙে আরও নিচে নেমে গেল ভারতীয় মুদ্রা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ। এই পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ব্যাপকভাবে। যেহেতু ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের বড় অংশই আমদানি করে, তাই তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে, যা সরাসরি টাকার উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এছাড়াও, ভারতীয় বাজার থেকে বিদেশি লগ্নি সরে যাওয়ার প্রবণতাও টাকার দুর্বলতার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে। ফলে মুদ্রার উপর চাপ আরও বেড়েছে।
যদিও শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে, তবুও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের উপরে রয়ে গেছে, যা এখনও উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার বড় ধস নামার পর শুক্রবার শেয়ার বাজারে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। সেনসেক্স ও নিফটি৫০ উভয় সূচকই ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবুও এই ইতিবাচক সাড়া টাকার পতন ঠেকাতে পারেনি। ফলে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির উপর চাপের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
❤ Support Us





