- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫
ভারতীয় প্রযুক্তিবিদকে গুলি করে হত্যা মার্কিন পুলিশের, পরিবারের দাবি বর্ণবৈষম্যের শিকার
তেলেঙ্গনার এক প্রযুক্তিবিদকে গুলি করে হত্যা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারাতে। রুমমেটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছে। যদিও নিহত প্রযুক্তিবিদের পরিবার বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ এনেছে এবং তাঁর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তেলেঙ্গানার মাহাবুবনগর জেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ নিজামুদ্দিনকে ৩ সেপ্টেম্বর সান্তা ক্লারায় তাঁর বাসভবনের ভেতরে ছুরি হাতে পাওয়া যায়। নিজামুদ্দিন তাঁর রুমমেটকে মারধোর করে এবং ছুরি দিয়ে আঘাত করে। বাসভবনের ভেতরে ছুরিকাঘাতের ঘটনা সম্পর্কে ৯১১ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ দ্রুত ছুটে যায়। নিজামুদ্দিনকে আটকানোর জন্য গুলি চালায়। সেই গুলিতেই নিজামুদ্দিন মারা যান।
পুলিশের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, ‘এসসিপিডি অফিসাররা হামলার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তির মুখোমুখি হন এবং তার ওপর গুলিবর্ষণ করে। এরপর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিজামুদ্দিনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। যার ওপর নিজামুদ্দিন হামলা চালিয়েছিল, তাকেও স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার আঘাতের চিকিৎসা চলছে।’ সান্তা ক্লারা কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নি অফিস এবং সান্তা ক্লারা পুলিশ বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছএ। নিজামুদ্দিনের পরিবার জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে তিনিই পুলিশের সাহায্য চেয়েছিলেন।
ফ্লোরিডার একটা কলেজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তেলেঙ্গনার ৩০ বছর বয়সী নিজামুদ্দিন। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারার একটা প্রযুক্তি অফিসে কর্মরত ছিলেন। নিজামুদ্দিনের পরিবারের দাবি, তিনি শান্ত এবং ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন। তাঁকে প্রকাশ্যে বর্ণবৈষমের শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি করেছে নিজামুদ্দিনের পরিবার। এছাড়া, চাকরি থেকে অন্যায়ভাবে বরখাস্তের অভিযোগও তুলেছে।
একটা লিঙ্কডইন পোস্টে বর্ণবৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা লিখেছিলেন নিজামুদ্দিন। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি জাতিগত ঘৃণা, জাতিগত বৈষম্য, জাতিগত হয়রানি, নির্যাতন, বেতন–জালিয়াতি, অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্তের শিকার হয়েছি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব/বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান মানসিকতার অবসান ঘটাতে হবে।’ তিনি বর্ণগত বৈষম্য, তাঁর খাবারে বিষক্রিয়া, উচ্ছেদ এবং একজন গোয়েন্দা কর্তৃক নজরদারি ও ভয় দেখানোর কথাও বলেছেন।
নিজামুদ্দিনের পরিবার তাঁর মৃত্যুর কারণ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে। তাঁর মরদেহ সান্তা ক্লারার একটা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের সাহায্যে মৃতদেহ দেশে নিয়ে আসার জন্য তাকিয়ে রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে লেখা এক চিঠিতে হাসনুদ্দিন তাঁর ছেলের মৃতদেহ মাহবুবনগরে ফিরিয়ে আনার জন্য সহায়তা চেয়েছেন।
❤ Support Us







