- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- এপ্রিল ১০, ২০২৩
ঝাড়ুদার থেকে ক্রিকেটে উত্তোরণ, রিঙ্কু সিংয়ের জীবন নাটকীয়তায় ভরা
রবিবার গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। শেষ ওভারে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিলেন নাইট রাইডার্সের মিডল অর্ডার ব্যাটারটার রিঙ্কু সিং। যশ দয়ালের ওভারে পাঁচ–পাঁচটি ছক্কা মেরে আইপিএলে ইতিহাস তৈরি করেছেন। আর তাঁকে নিয়ে রীতিমতো শুরু হয়ে গেছে চর্চা। ঝাড়ুদার থেকে ক্রিকেটে উত্তোরণ রিঙ্কুর।
কীভাবে ক্রিকেটার হয়ে উঠেছেন রিঙ্কু দাস? তার পিছনে রয়েছে অনেক গল্প। রীতিমতো লড়াই করেই তাঁকে এই জায়গায় উঠে আসতে হয়েছে। ছোটবেলায় ক্রিকেটই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। আর এই ক্রিকেটের জন্যই সেভাবে পড়াশোনা করতে পারেননি। নিজেকে সম্পূর্ণভাবে ক্রিকেট খেলার প্রতি উৎসর্গ করেছিলেন।
উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে একেবারে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা রিঙ্কু দাসের। তাঁর বাবা খানচন্দ্র সিং আলিগড়ে বাড়ি বাড়ি গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণ করতেন। আলিগড় স্টেডিয়ামের কাছেই দুই কামরার ছোট কোয়ার্টারে পাঁচ সন্তানকে নিয়ে থাকতেন রিঙ্কুর বাবা–মা। রিঙ্কুরা তিন ভাই, দুই বোন। স্কুল জীবন থেকেই ক্রিকেটের প্রতি প্রেম ছিল রিঙ্কুর। অবসর সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন। কিন্তু রিঙ্কুর বাবা চাননি ছেলে ক্রিকেট খেলুক। কিংবা ক্রিকেট খেলে সময় নষ্ট করুক। কিন্তু রিঙ্কুর প্রচন্ড নেশা ছিল ক্রিকেটের প্রতি। স্কুল পালিয়ে ক্রিকেট খেলতে চলে যেতেন। এর জন্য মাঝে মাঝে বাবার কাছে মারও খেতে হয়েছে। যখন খেলাধুলা করে সন্ধ্যেয় বাড়ি ফিরতেন, বাবা লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন। বাবার আপত্তি থাকলেও রিঙ্কুর বড় ভাই তাঁকে সবসময় সমর্থন করতেন। ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম কেনার মত সামর্থ্য ছিল না কিঙ্কুর। আশেপাশের লোকজন তাঁকে সাহায্য করতেন। এভাবেই বেড়ে উঠেছিলেন রিঙ্কু।
খেলার ফাঁকেই পরিবারকে আর্থিক দিক দিয়ে সাহায্য করার জন্য মাত্র ১৩ বছর বয়সে একটা কোচিং সেন্টারে কাপড় কাটার কাজ নিয়েছিলেন রিঙ্কু। তাঁর বড় ভাইয়ের সৌজন্যেই এই কাজটা জুটেছিল। ঝাড়ুদারের কাজো করতে হয়েছিল। ভোরে এসে মোপিং করে চলে যেতেন রিঙ্কু। কিন্তু বেশিদিন এই এই কাজটা করতে পারেননি। পড়াশোনার প্রতিও সেভাবে মনোযোগ দিতে পারেননি। সে সময় রিঙ্কু মনে করেছিলেন যে, পুরোপুরি ক্রিকেটের প্রতি নিজেকে নিয়োজিত করা উচিত। তিনি ভেবেছিলেন একমাত্র ক্রিকেটই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এছাড়া সামনে কোনও বিকল্প রাস্তা নেই।
এরপর আলিগড়ে ছোট ছোট প্রতিযোগিতায় রীতিমতো নজর কাড়তে শুরু করেন রিঙ্কু। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের জন্য চারিদিকে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়েয কিন্তু বড় সুযোগ আসছিল না।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ মাত্র ১৬ বছর বয়সে উত্তরপ্রদেশের হয়ে লিস্ট এ ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল। সেই ম্যাচে ৮৭ বলে ৮৩ রান করেছিলেন। এরপরে তিনি সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ৩১ মার্চ ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়। বিদর্ভের বিরুদ্ধে তিনি ৫ বলে অপরাজিত ২৪ রান করেন। তিনি অনূর্ধ্ব ১৬, অনূর্ধ্ব ১৯ এবং অনূর্ধ্ব ২৩ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং তারপরে অনূর্ধ্ব ১৯ স্তরে সেন্ট্রাল জোনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৬ও১৭ রঞ্জি ট্রফিতে উত্তর প্রদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক করেন। একসময় কলকাতা নাইট রাইডার্সে ট্রায়ালের সুযোগ পান। ট্রায়ালে পছন্দ হয় নাইট রাইডার্স কর্তাদের। ২০১৮ সালে ৮০ লক্ষ টাকায় তাঁকে কিনে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেই থেকেই তিনি দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। প্রথমদিকে সুযোগ না পেলেও আস্তে আস্তে নিজেকে মেরে ধরেন। আর এবছর পরপর দুটি ম্যাচ তাঁকে নায়কের আসনে বসিয়ে দিয়েছে।
❤ Support Us







