- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ৬, ২০২৫
গ্রেটা থুনবার্গ সহ ১৭১ জন ফ্লোটিলা কর্মীকে মুক্তি দিল ইজরায়েল
ইজরায়েলি নৌবাহিনীর আটক অভিযানের পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন গ্রেটা থুনবার্গ, সঙ্গে আরো ১৭০ জন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও জলবায়ু কর্মী। সোমবার, ইজরায়েল প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, ‘হামাস–সুমুদ ফ্লোটিলা’-র অংশ হিসেবে আটক হওয়া ওই ১৭১ জনকে গ্রিস ও স্লোভাকিয়ায় পাঠানো হয়েছে। তবে বিতর্ক এতে শেষ হয়নি। ইজরায়েল বলছে এসবই ‘পিআর স্টান্ট’ ও ‘ভুয়া খবর প্রচারের পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত’, পাল্টা অভিযোগ উঠছে আটক অবস্থায় কর্মীদের ‘অমানবিক ও অপমানজনক’ আচরণের শিকার হওয়ার। যার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনের মুখ গ্রেটা থুনবার্গ।
ফ্লোটিলা, অর্থাৎ ত্রাণবাহী নৌবহরটি রওনা হয়েছিল ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে গাজার উদ্দেশে। উদ্দেশ্য, অবরুদ্ধ উপকূলে প্রতীকী ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধকে চ্যালেঞ্জ জানানো। ৪২টি ছোটো-বড়ো নৌকায় প্রায় ৪৫০ জন কর্মী ছিলেন। বুধবার, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সেই বহরে হানা দেয় নেতানিয়াহুর নৌসেনা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এমন অভিযান নতুন নয়। ২০০৭ সালে গাজা অবরোধ শুরু হবার পর বারবার এমনটা হয়েছে। তবে, এবারের ঘটনাপ্রবাহ বিশেষ নজর কেড়েছে গ্রেটা থুনবার্গের উপস্থিতির জন্য। ইজরায়েলি বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘গ্রেটা থুনবার্গ-সহ ১৭১ জন উসকানিমূলক আন্দোলনকারীকে শান্তিপূর্ণভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের আইনগত অধিকার পুরোপুরি রক্ষা করা হয়েছে। যে ‘মিথ্যা’ তাঁরা ছড়াচ্ছেন, তা পূর্বপরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা।’
কিন্তু তেল আভিভের অভিযোগে ক্ষান্ত হয়নি মানবাধিকার সংগঠনগুলি। সুইস সংগঠন ‘ওয়েভস অফ ফ্রিডম’-এর দাবি, আটক কর্মীদের দীর্ঘ সময় না খাইয়ে রাখা হয়েছে, জল দেওয়া হয়নি, ওষুধ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কিছু বন্দিকে খাঁচার মধ্যে আটকে রাখা হয়। ইতালির আঞ্চলিক কাউন্সিলর পাওলো রোমানোর অভিযোগ, ‘আমাদের মাটিতে মুখ গুঁজে হাঁটু গেড়ে বসতে বলা হয়। নড়লেই মারধর। গালাগাল, হেনস্থা চলতেই থাকে।’ মালয়েশীয় কর্মী হাজওয়ানি হেলমি এবং আমেরিকান নাগরিক উইন্ডফিল্ড বিবার জানিয়েছেন, থুনবার্গকে ধাক্কা দিয়ে একটি ইসরায়েলি পতাকা পরতে বাধ্য করা হয়। তুরস্কের কর্মী আক্রমণ আরো স্পষ্ট, ‘গ্রেটাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে মারধর করা হয়। এবং জোর করে ইজরায়েলের পতাকায় চুমু খাওয়ানো হয়। এটা ছিল আমাদের সকলের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা।’
অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে সুইডেনের বিদেশ মন্ত্রক গ্রেটার পরিবারের সঙ্গে একটি ইমেল বিনিময় করেছে, যা সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে এঁকোটি ইমেলে লেখা, ‘গ্রেটা জানিয়েছেন তিনি জলশূন্যতায় ভুগছেন। পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় তাঁকে দেওয়া হয়নি। শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে।’ ইজরায়েল অবশ্য এই সব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তেল আভিভের এক মুখপাত্র জানান, ‘সকল বন্দিকে আইনি সহায়তা, জল, খাবার এবং বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আমরা মানবাধিকার রক্ষা করেছি। এসব নাটক বিশ্বমঞ্চে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য।’
জানা যাচ্ছে, রবিবার, ৯ জন সুইস নাগরিক জেনেভায় ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেনেভার প্রাক্তন মেয়র রেমি পাগানি। তাঁদের প্রত্যেকেই দাবি করেছেন, বন্দিদশা ছিল লজ্জাজনক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজির। ‘ওয়েভস অফ ফ্রিডম’-এর দাবি, ‘আমাদের কয়েকজন কর্মী অনশন ধর্মঘটে গেছেন। তাঁরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। আমরা উদ্বিগ্ন।’ ফিরে এসেছেন ইতালির ৪ সংসদ সদস্যও। তাঁদের মধ্যে এক জন, বেনেদেত্তা স্কুদারি বলেন, ‘আমাদের নৌকা জবরদস্তি থামিয়ে হস্তগত করা হয়। আমাদের গায়ে হাত তোলা হয়। এক কথায়, অপহরণ।’ এ ঘটনা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে গাজায় ইজরায়েলের নৌ অবরোধ নিয়ে। যা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে, কিন্তু ২০২৩-এর ৭ অক্টোবরের হামাস আক্রমণের পরে তা আরও কঠোর হয়েছে। বিশ্ব জুড়ে নিন্দা জানানো হচ্ছে। থুনবার্গের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে বহু সংগঠন সোচ্চার। যদিও, ইজরায়েল বারবার জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের ফ্লোটিলা অভিযানকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে উসকানি’ বলেই গণ্য তারা করে।
❤ Support Us








