- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ২০, ২০২৩
ভারত সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী। মোদি কিশিদা বৈঠকে, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনা আগ্রাসন রুখতে নয়া নীতির পরিকল্পনা
চিত্র: সংবাদ সংস্থা
সোমবার দু’দিনের জন্যে ভারত সফরে এলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। সোমবার ভারত সফরে এসে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসেন কিশিদা। এরপর দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ২০২৩ সাল ভারত ও জাপান দু’দেশের পক্ষেই গুরুত্বপূর্ণ । হিমালয় থেকে মাউন্ট ফুজির ক্ষেত্রে পর্যটন বিনিময়ের ক্ষেত্রে চলতি বছর গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, জাপানি ভাষাশিক্ষায় ভারত-জাপানের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত-জাপান মোমোরেন্ডাম অব কর্পোরেশনকে স্বাগত জানিয়েছেন কিশিদা। একইসঙ্গে কিশিদা বলেছেন, বিদ্যুত এবং বৈদ্যুতিন শিল্পে জাপান ও ভারত হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে।
দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে জানা গিয়েছে, যাতে ভারত এবং জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হয়। প্রসঙ্গত, গত বছরের মার্চে ফুমিও কিশিদা ও নরেন্দ্র মোদির সর্বশেষ বৈঠক হয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা টুইটে তাঁর ভারত সফর সম্পর্কে বলেন, চলতি বছরে ভারত জি ২০ বৈঠকের সভাপতিত্ব করছে্। অন্যদিকে, এবছর জি ৭ বৈঠকের সভাপতিত্ব করবে জাপান। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলি দেখা দিয়েছে, তার মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা হলো। জাপান ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে, তাও উঠে এসেছে আজকের সভায় ।
এদিন কিশিদা বলেছেন, হিরোসিমাতে জাপানের সভাপতিত্বে যে জি ৭ সামিট আয়োজিত হতে চলেছে তাতে মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জি ২০ বৈঠকে ফের কিশিদার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন তিনি। এর পাশাপাশি দু’দেশই খতিয়ে দেখছে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত ক্ষেত্রগুলিতে দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি।
সূত্রের খবর, নানা ক্ষেত্রে দু’দেশের অংশিদারিত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর ভিতর আছে ভারত ও জাপানের মধ্যে নিরাপত্তা ও আর্থিক সহযোগিতা সম্পর্কিত বিষয়গুলি।
ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ইস্যুতে, সাম্প্রতিক ভারতসফরে কিশিদা নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারেন। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চিনের দাপট রুখতে ভারত ও জাপানের কৌশল সম্পর্কেও আলোচনা হওয়ার কথা। কেননা ভারত ও জাপান দু’দেশই মনে করছে, আঞ্চলিক সংহতির এবং আর্থিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের এক ছাতার নীচে আসা দরকার। একইসঙ্গে জাপান উদ্বিগ্ন, যেভাবে জাপান দক্ষিণ চিন সাগরে চিন যেভাবে সামরিক সক্রিয়তা বাড়িয়েছে সেসম্পর্কে।
অন্যদিকে, জাপান চাইছে, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধেকে ঘিরে আক্রমণ করার জেরে ওপর লাগাতার নিষেধাজ্ঞা চাপাতে। যদিও এপ্রসঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে যুদ্ধবিরোধীতার কথা স্পষ্ট করলেও, রুশ বিরোধী কোনও মন্তব্য ভারত করেনি।
২০২১-২০২২ সালে ভারত ও জাপানের বাণিজ্য ক্ষেত্রে অংশিদারিত্ব ২০ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারের। ভারত জাপান থেকে আমদানি করেছে ১৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারের সামগ্রী।
সূত্রের খবর, ভারত ও জাপান যে বিষয়গুলি নিয়ে পারস্পরিক সমঝোতার রাস্তায় আসতে চাইছে, তার ভিতর রয়েছে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রযুক্তি। এছাড়া কিশিদা ও মোদি বৈঠক করবেন খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও।
ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছরে জাপানে গিয়েছিলেন। এরপর কিশিদা ভারতে এসেছেন। ২০০৬ সাল থেকেই নিয়মিতভাবে ভারত ও জাপানের ভিতর বার্ষিক সম্মেলন আয়োজিত হচ্ছে।
❤ Support Us







