Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ৯, ২০২৩

নিপীড়িত উইঘুদের জন্য লড়াইকে স্বীকৃতি। নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসের নাম সুপারিশ।ক্ষুব্ধ চিনের কড়া প্রতিক্রিয়া

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নিপীড়িত উইঘুদের জন্য লড়াইকে স্বীকৃতি। নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসের নাম সুপারিশ।ক্ষুব্ধ চিনের কড়া প্রতিক্রিয়া

২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হল  জার্মানির বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসকে। চিনের সিংজিয়াং প্রদেশে উইঘু ও তুর্কি জাতিদের দুরবস্থা নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবরই সরব। তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য একাধিক আন্দোলন করেছে সংগঠন।  ডিসেম্বরে অসলোতে নোবেল কমিটির পুরস্তকার বিতরণী অনুষ্ঠান। তবে,  কারা পুরস্কার পাবেন তা সুনির্দিষ্ট ভাবে এখনও স্থির হয়নি। 

জার্মানির  সংগঠন উইঘুর বিশ্ব কংগ্রেস দীর্ঘ দিন ধরে চিনের  উইঘুদের স্বার্থে  আন্দোলন করছে। তাদের এ লড়াইয়ের খবর জানতে পেরে  কানাডার আইন প্রণেতা  ও নরওয়ের  উদারপন্থী তরুণেরা  চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের জন্য সংস্থাটিকে মনোনীত করে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে কাজ করার জন্যই তাদেরকে এই স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত । নোবেল কমিটিকে তাদের পাঠানো মনোনয়পত্রে জানানো হয়েছে, অহিংস পথে  উইঘুর মুসলিমদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য তাদের আন্দোলনকে সম্মান জানানো প্রয়োজন। যদিও নিয়ম কানুনের  জটিলতার  কারণে  নোবেল কমিটি এ প্রসঙ্গে এখনও কোনো জবাব দেয়নি। সুতরাং এ মুহুর্তে পুরস্কার প্রাপকের নাম জানা সম্ভব নয়। 

উইঘুর মুসলিমরা  দীর্ঘদিন ধরে চিন সরকারের নিপীড়নের শিকার। শুধু উইঘুরা নয়, অন্যন্য সংখ্যালঘুরাও চিনে ভালো  নেই। বেজিং অবশ্য এসব অভিযোগ বার বার নস্যাৎ করেছে। চিনা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের মতে, দেশের বিরুদ্ধে পশ্চিমি শক্তি ষড়যন্ত্র  ও মিথ্যা প্রচার ছাড়া আর কিছু নয়। উইঘুর মানুষের  ন্যায্য দাবি দাওয়ার ভিত্তিতে আন্দোলনকে  বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বলে মনে করেন বেজিং।সেই কারণে তাদের দাবি মনোযোগ দিয়ে শুনতে তাঁরা নারাজ।তাদের অভিযোগ,  বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে। যারা চিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলেছে।  সংস্থাটির নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তিও বৃহত্তর চিন বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করে জিনপিং প্রশাসন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে চিনের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে পশ্চিমি রাষ্ট্রবর্গের এহেন প্রয়াস।  ওয়াশিংটনকে এ ব্যাপারে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে চিনা রাষ্ট্রদূত। বলা হয়েছে, বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নের জন্য  পুরস্কার দেওয়ার পরিবর্তে এখন চিন বিরোধী  রাজনৈতিক হাতিয়ার রূপে নোবেলকে  ব্যবহার করতে চাইছে আমেরিকা ও অন্যান্য পশ্চিমি দেশ সমূহ।

সম্মিলিত রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিবেদন অবশ্য অন্য কথা বলছে। গত অগস্টে প্রকাশিত সেই নথিতে বলা হয়েছে, চিন সরকার দীর্ঘ দিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। শুধুমাত্র উইঘু নয়, অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠীও বেজিং প্রশাসনের নিপীড়নের শিকার। বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসও এ নিয়ে বহু বার সোচ্চার হয়েছে। সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক সদস্যের কথায়, ভ্রান্ত অভিযোগ না  এনে বরং উইঘুদের  কল্যাণের ব্যাপারে চিন্তা করুক চিন সরকার। তাদের  সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করতে গেলে তাদের কথা শোনা প্রয়োজন।  সেই সদিচ্ছা বেজিংকে দেখাতে  হবে। 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!