Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • অক্টোবর ২২, ২০২৫

সাংবাদিকতার ‘অপরাধে’ জুটেছে শাস্তি ! কারাবন্দি দুই সাংবাদিকের হাতেই উঠল ইউরোপের শ্রেষ্ঠ মানবাধিকার পুরস্কার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সাংবাদিকতার ‘অপরাধে’ জুটেছে শাস্তি ! কারাবন্দি দুই সাংবাদিকের হাতেই উঠল ইউরোপের শ্রেষ্ঠ মানবাধিকার পুরস্কার

কণ্ঠস্বর রোধ করা গেল না। কারাবন্দি থেকেও মিলল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ মানবাধিকার পুরস্কার ‘শাখারভ পুরস্কার’-এ সম্মানিত হলেন বেলারুশের সাংবাদিক আন্দ্রেই পচোবুত এবং জর্জিয়ার সাংবাদিক ম্জিয়া আমাগলোবেলি। স্ত্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রোবের্তো মেটসোলা বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

ঘোষণার সময় পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে মেটসোলা বলেন, ‘শুধু নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বলেই আজ এই দুই সাংবাদিক মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি। তাঁদের সাহস, দৃঢ়তা এবং আপসহীনতা তাঁদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামের প্রতীক করে তুলেছে।’ পোলিশ-বেলারুশিয়ান সাংবাদিক আন্দ্রেই পচোবুত পোল্যান্ডের প্রভাবশালী দৈনিক গাজেতা ভিবোরজা-র সাংবাদিক। বেলারুশে সংখ্যালঘু পোলিশ সম্প্রদায়ের হয়ে বরাবর সরব থেকেছেন তিনি। সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই লুকাশেঙ্কো সরকারের রোষে ছিলেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ৫২ বছর বয়সি পচোবুতকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইন’-এ সাধনের’ ৮ বছরের কারাদণ্ড দেয় বেলারুশ সরকার। বর্তমানে নোভোপোলটস্ক জেলে বন্দি তিনি। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতি হচ্ছে।

অন্যদিকে, ম্জিয়া আমাগলোবেলি জর্জিয়ার একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠাতা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে বিবাদের ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিক্ষোভে উস্কানি দিয়েছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করেছেন, হুমকি দিয়েছেন এমনকি সহিংসতা ছড়িয়েছেন। গত আগস্টে সে দেশের আদালত তাঁকে ২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, এ মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং চলমান গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের ষড়যন্ত্রের অংশ।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালে চালু হওয়া ‘শাখারভ পুরস্কার’ সোভিয়েত বিজ্ঞানী ও রাজবন্দি আন্দ্রেই শাখারভের নামে নামাঙ্কিত। প্রতিবছর এটি প্রদান করা হয় সেইসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে, যারা মানবাধিকার, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। পুরস্কারের সঙ্গে থাকে ৫০,০০০ ইউরোর আর্থিক সম্মাননা। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রাসবুর্গ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার সাংবাদিকদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বেলারুশের বিরোধী নেত্রী সিয়াতলানা সিখানৌস্কায়া, যিনি ২০২০ সালে একই পুরস্কার পেয়েছিলেন, এ বছরের নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘এই পুরস্কার সমস্ত রাজনৈতিক বন্দিদের উদ্দেশ্যে একটি স্পষ্ট বার্তা— তোমরা একা নও, এবং সৎ-সাহসী সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়।’

প্রসঙ্গত, এবছর শাখারভ পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন ফিলিস্তিনে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করা সাংবাদিক ও মানবিক সহায়তাকর্মীরা এবং সার্বিয়ার ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা একাধিক ছাত্রনেতা। তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তরফে। উল্লেখ্য, অতীতে এ পুরস্কারে সম্মানিতদের অনেকেই পরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। নেলসন ম্যান্ডেলা, মালালা ইউসুফজাই, ডেনিস মুকওয়েজি, নাদিয়া মুরাদের মতো ব্যক্তিত্বরা এই পুরস্কার পেয়ে বিশ্বের মানবাধিকারের ইতিহাসে নিজস্ব ছাপ রেখে গেছেন। গত বছর শাখারভজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!