- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১০, ২০২৩
কর্ণাটকে ২২৪ বিধানসভা আসনে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন শান্তিতেই
ত্রিমুখী লড়াই নিয়ে বুধবার বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে কর্ণাটকে। কর্নাটকের জনতা আজ ঠিক করে দেবেন আগামী পাঁচ বছর দক্ষিণের এই রাজ্যের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে। সকাল ৭ টায় শুরু হয়েছে, চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ভোটের জন্য কর্ণাটক রাজ্য জুড়ে কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে। ২২৪ আসনের বিধানসভার নির্বাচন একটি পর্বেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই রাজ্যে । রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই নির্বাচনের ত্রিমুখী লড়াইয়ে কংগ্রেস দলের সভাপতি হিসাবে মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে এই ভোট অ্যাসিড টেস্ট ।
নির্বাচনী কমিশন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল ৭টায় নির্বাচন শুরু হয়ে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোনও সংঘর্ষ, রক্তক্ষয়, প্রাণহানির খবর নেই। কর্ণাটকের এই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বাংলাকে অনেকটাই লজ্জা দিচ্ছে। বাংলায় নির্বাচন মানেই রক্তক্ষয়, সংঘর্ষ, প্রাণহানি যেন রেওয়াজে দাঁড়িয়েছে। এমনকি পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে নবজোয়ার যাত্রা শুরু করেছেন, সেখানেও পঞ্চায়েতের দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করতে গিয়ে তৃণমূলের বিবদমান দুই গোষ্ঠী প্রায় রোজ মারামারি করছে, যা সামলাতে পুলিশ, কম্ব্যাট ফোর্সকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কর্নাটকের ৫৮,৫৪৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। মোট ৫ কোটি ৩১ লক্ষ ৩৩ হাজার ০৫৪ জন ভোটার রয়েছে। ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ কোটি ৬৭ লক্ষ ২৮ হাজার ০৫৩ জন, মহিলা ভোটার ২ কোটি ৬৪ লক্ষ ৭৪ জন এবং অন্যান্য হলেন ৪ হাজার ৯২৭ জন।
কর্ণাটকের কুর্সিতে কারা বসছে তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। তবে সঠিক অর্থে কারা কর্ণাটকের আগামী পাঁচ বছরের শাসন ক্ষমতা পাবে তা জানা যাবে আগামী ১৩ মে । ওই দিন ভোটের ফল প্রকাশ হবে।
কর্নাটক নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা বাসভরাজ বোম্মাই। তিনি শিগগাঁও বিধানসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন । প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বরুণা বিধানসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেডিএস নেতা এবং কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী রামনগর জেলার চানাপাটনা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি ডি কে শিবকুমার কনকপুরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন। প্রাক্তন বিজেপি নেতা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগদীশ শেত্তার হুবলি ধারওয়াড়,সেন্ট্রাল বিধানসভা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এগুলি ছাড়াও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা বিএস ইয়েদুরাপ্পার ছেলে বিওয়াই বিজয়েন্দ্র শিকারপুরা আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ছেলে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে চিত্তপুর বিধানসভা আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন।
কর্ণাটকে গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সংখ্য়াগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে এসেছিল। তবে সেখানে জোট করে সরকার গঠন করেছিল কংগ্রেস এবং জেডিএস। জোটের মুখ্য়মন্ত্রী হন তৃতীয় স্থানে থাকা দল জেডিএসের এইচ ডি কুমারস্বামী। একবছর যেতে না যেতেই সেই জোট সরকারে ভাঙন ধরিয়ে, নিজস্ব রাজনৈতিক কায়দায় কর্ণাটকের কুর্শি বিজেপি দখল করে নেয়।
২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই কর্ণাটকে নিজেদের ক্ষমতা জারি রাখতে বিজেপি ধারাবাহিক প্রচার চালায়। প্রচারে থেমে থাকেনি কংগ্রেস, জেডিএস । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা সবাই কর্ণাটকে ভোটের প্রচারে একাধিক সভা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাই প্রায় ১৮টি সভা করেছেন কর্ণাটকে। অমিত শাহ রোড শো করেছেন ৬টির বেশি। অন্যদিকে কংগ্রেসের জমি শক্ত করতে মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও লাগাতার প্রচার করেছেন এবার কর্ণাটকের নির্বাচনে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি ডি কে শিবকুমারও প্রচারে কোনও কমতি রাখেননি।
কর্ণাটক বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে ১৫০ টি আসন পেতে হবে। এই ১৫০ টি আসন পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এবার এই রাজ্যে প্রচার চালিয়েছে বিজেপি। এদিকে কংগ্রেসও দাবি করছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কর্ণাটকে এবার তারাই ক্ষমতায় ফিরছে। বিধানসভায় মোট ২২৪ টি আসন রয়েছে এবং সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ১১৩ টি আসন পেতে হবে।
❤ Support Us






