- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫
প্রয়াত হুরিয়ত কনফারেন্সের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল গনি
মারা গেলেন হুরিয়ত কনফারেন্সের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল গনি ভাট। বুধবার সোপোরে নিজের বাসভবনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়ছিল ৯০ বছর। হুরিয়ত কনফারেন্সের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতৃত্বের মধ্যেও আব্দুল গনি ভাট নিজেকে একজন মধ্যপন্থী ব্যক্তি হিসেবে মেলে ধরেছিলেন।
গত কয়েক বছর ধরে বেশ অসুস্থ ছিলেন ভাট। বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। অসুস্থ অবস্থাতেই বারামুল্লা জেলার সোপোরে নিজের বাড়িতেই থাকতেন ভাট। বুধবার সন্ধেয় সেখানেই মারা যান। আব্দুল গনি ভাটের ছেলেই প্রথম বাবার মৃত্যুর খবর জানান হুরিয়ত চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ ওমর ফারুককে।
আব্দুল গনি ভাট ১৯৩৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শ্রীনগরের শ্রী প্রতাপ কলেজ থেকে ফার্সি ভাষায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্সি ভাষায় স্নাতকোত্তর এবং আইন ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথমে সোপোরে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। এরপর ১৯৬৩ সালে তিনি পুঞ্চের সরকারি কলেজে ফার্সি ভাষার অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি সরকারি চাকরিতে ছিলেন। পরে নিরাপত্তার কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এরপর ১৯৮৬ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন আব্দুল গনি ভাট। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ডানপন্থী দলগুলিকে নিয়ে একটা জোট মুসলিম ইউনাইটেড ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৭ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় জনসাধারণের সাড়া পাওয়া সত্ত্বেও এমইউএফ পরাজিত হয়। বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁকে বেশ কয়েক মাস কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। এই চতুর রাজনীতিবিদ জম্মু ও কাশ্মীরে মুসলিম কনফারেন্সকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। ১৯৯৩ সালে হুরিয়ত কনফারেন্স গঠিত হলে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন।
কাশ্মীরে জঙ্গিবাদ তুঙ্গে থাকাকালীন সৈয়দ আলি শাহ গিলানি এবং মাসারাত আলমের মতো বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে ভাটকে শান্তির দূত হিসেবে বিবেচনা করা হত। তিনি কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসাকে সমর্থন করেছিলেন। অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট সরকার এবং পরে মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের সময় হুরিয়ত কনফারেন্সকে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় বসাতে ভাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
আব্দুল গনি ভাট ছিলেন পদত্যাগী হুরিয়ত কনফারেন্সের শেষ চেয়ারম্যান, যিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বহুদলীয় জোটকে ভেঙে ফেলে। প্রাক্তন হুরিয়ত চেয়ারম্যান রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে তাঁর অসম্মতির কথা জানান। তিনি কাশ্মীরে ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী বনধের বিরুদ্ধেও কথা বলেন।
তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও আব্দুল গনি ভাটের মৃত্যুতে গভীর শোকজ্ঞাপন করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। এক্স–এ এক পোস্টে শোকজ্ঞাপন করে তিনি লিখেছেন, ‘প্রবীণ কাশ্মীরি নেতা এবং শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল গনি ভাট সাহেবের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে দুঃখিত। রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও তাঁকে একজন অত্যন্ত ভদ্র ব্যক্তি হিসেবে মনে রাখব।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘যখন বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করত যে সহিংসতাই একমাত্র পথ, তখন তিনি আলোচনার পথ অবলম্বন করার সাহস দেখিয়েছিলেন। এর ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়।’ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) প্রধান মেহবুবা মুফতি বলেছেন যে, তাঁদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হলেও, তিনি সবসময় কঠিন সময়ে ভাটকে স্মরণ করেছেন। মুফতি বলেন, ‘কাশ্মীরের অস্থির ইতিহাসের মধ্যে তিনি ছিলেন মধ্যপন্থার একজন কণ্ঠস্বর। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট পণ্ডিত, শিক্ষক এবং বাস্তববাদী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী বুদ্ধিজীবী। তিনি কাশ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের একজন দৃঢ় সমর্থক ছিলেন এবং তাঁর প্রভাব ছিল গভীর।’
❤ Support Us






