Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জানুয়ারি ৪, ২০২৫

ফের উত্তপ্ত মণিপুর, পুলিশ সুপারের দফতরে আগুন। আহত সুপার, সংঘর্ষে নিহত ৩

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফের উত্তপ্ত মণিপুর, পুলিশ সুপারের দফতরে আগুন। আহত সুপার, সংঘর্ষে নিহত ৩

কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সহিংস চেহারা নিলো মণিপুরে। শুক্রবার কাংপোকপিতে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সুপার এ প্রভাকর অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। জেলা শাসকের অফিসেও চলে ভাঙচুর।

ফের উত্তপ্ত মণিপুর। আগুনের আঁচ যেন কিছুতেই নিভছে না সেখানে। ইন্ডিয়ান রিজ়ার্ভ ব্যাটেলিয়ন (আইআরবি)-এর চৌকির পরে এবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা চালাল কয়েকশো বিক্ষোভকারী। বৃহস্পতিবার রাতে মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় চলে এই আক্রমণ, ভাঙচুরের পাশাপাশি দফতরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। জেলা শাসকের অফিসেও চলে ভাঙচুর। পূর্ব ইম্ফল জেলার সাইবল গ্রাম থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী হটানোর দাবিতে বিক্ষোভ সহিংস চেহারা নেয়। সংঘর্ষে ৩ জন হামলাকারীর পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে, পুলিশ সুপার সহ আহত ৩০ জন।

হিংসায় রেশ টানতে গত কয়েক মাস ধরে মণিপুরের নানা অঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে সেনা ও পুলিশের যৌথ বাহিনী। কুকি অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে উদ্ধার হয় বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র।এর আগেও অশান্তিতে ইন্ধন এবং মেইতি জনগোষ্ঠীর মহিলা এবং শিশুকে হত্যার অভিযোগে কুকি জনগোষ্ঠীর কয়েকজনকে গ্রেফতার এবং নিকেশ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী । যদিও এনিয়ে ক্ষোভ বাড়ে কুকিদের মধ্যে, তাদের অভিযোগ রাষ্ট্রের চক্রান্তের শিকার তারা, যাদের গ্রেফতার বা হত্যা করা হয়েছে তারা সবাই নিরীহ গ্রাম রক্ষী । এবারে সমারিক অভিযানের আগ্নেও অস্ত্র উদ্ধারের পর, কুকি জনগোষ্ঠীর তরফে সেই কথাই আবারও বলা হচ্ছে । গত ৩১ ডিসেম্বর কাংপোকপি জেলার সাইবল গ্রামে অভিযান চালাতে গিয়ে মহিলাদের বাধার মুখে চলে নিরাপত্তাবাহিনী। অভিযোগ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়। এই ঘটনার পর ত্থেকেই রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে কুকি সংগঠনগুলো। সেই বিক্ষোভ এদিন চরম আকার নেয়।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই হামলার পর দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয় নিরাপত্তাবাহিনী। বিক্ষোভকারীদের প্রতিহত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে হামলার ঘটনা যেদিন ঘটল, যেদিনই মণিপুরের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছেন দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা।
গত বছর মে মাসে মণিপুরে কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত হিংসা ছড়িয়ে পরে। এ পর্যন্ত ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গৃহহীন হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। মণিপুর হাই কোর্ট মেইতি জনগোষ্ঠিকে তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করতে নির্দেশ দেয়। এর পরেই বিভিন্ন জনজাতি সংগঠনগুলি প্রতিবাদে রাস্তায় নামে । এই ঘটনা থেকেই মণিপুরে মেইতি এবং কুকি জ়ো-সহ কয়েকটি তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছিল। হিংসা ঠেকাতে কেন্দ্র সরকার একাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছিল। কিন্তু তাতেও হিংসা থামানো যায়নি।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!