- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২০, ২০২৫
তিলোত্তমার বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা কুণাল ঘোষের
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণ চিকিৎসক তিলোত্তমাকে যৌন নির্যাতন করে খুনের ঘটনার পর তদন্ত ঘিরে যখন ক্রমশ চাপা ক্ষোভ জমে আছে নির্যাতিতার পরিবারের মনে। সে অভিযোগের ঢেউ ছুঁয়ে গেছে রাজ্যের শাসকদলের অন্দরমহলে। আর সে আবেগঘন ক্ষোভ, ক্ষোভ থেকে জন্ম নেওয়া বিস্ফোরক অভিযোগ, এবার গড়াল আদালতে। তিলোত্তমার বাবার এক সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে আইনি পথে পা বাড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। বুধবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে নির্যাতিতার বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন তিনি। কুণালের অভিযোগ, ‘তথ্যপ্রমাণহীন ও মিথ্যা মন্তব্য করে আমার এবং রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে।’
গত ৯ আগস্ট, রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানাতে নবান্ন অভিযান করেন তিলোত্তমার বাবা-মা। বিজেপি-সহ কিছু রাজনৈতিক নেতারাও সেই কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে তিলোত্তমার বাবা বলেন, ‘সিবিআই তদন্ত করছে না। কারণ রাজ্য সরকার টাকা খাইয়ে দিয়েছে। আর কুণাল ঘোষ সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে সেটেলমেন্ট করে এসেছেন।’ এহেন মন্তব্যেই চরম আপত্তি জানান কুণাল ঘোষ। আইনি পদক্ষেপের আগে ফেসবুক পোস্টে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘উনি যেটা বলেছেন, তার প্রমাণ দিতে হবে। সহানুভূতি থাকা মানে এই নয় যে, কেউ যা খুশি বলে দেবেন। ওনারা মিথ্যাচার ও নাটকের সব সীমা পার করেছেন।’ এরপরই, ১২ আগস্ট নির্যাতিতার বাবার কাছে আইনজীবী অয়ন চক্রবর্তীর মাধ্যমে পাঠানো হয় লিগ্যাল নোটিস। সেখানে ৪ দিনের সময়সীমা দিয়ে বলা হয়, ‘মন্তব্য প্রত্যাহার করুন, না হলে মানহানির মামলা হবে।’
নির্ধারিত সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার পরই এ দিন ব্যাঙ্কশাল আদালতে মামলা দায়ের করেন তৃণমূল নেতা। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এ মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনসমক্ষে মানহানি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে আমাকে আক্রমণ করার চক্রান্তের অংশ।’সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল লেখেন, ‘আমার সহানুভূতি রয়েছে তিলোত্তমার পরিবারের প্রতি। তাঁরা ন্যায়বিচার চাইছেন, আমরাও চাই। কিন্তু এমন অভিযোগ করে কেউ পার পেয়ে যাবেন, সেটা ভাবলে ভুল করবেন। রাজনৈতিক প্ররোচনায় এমন মন্তব্য করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আইনি পথেই জবাব দেব।’ তাঁর আরো দাবি, ‘তিলোত্তমার বাবার সঙ্গে বিজেপির একাংশের ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ পেয়েছে। তাঁদের কথাতেই উনি এমন মন্তব্য করেছেন। সেটি শুধু মানহানিকর নয়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে উদ্বেগজনকও বটে।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসক তিলোত্তমার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সে মামলার তদন্তের দায়িত্ব নেয় সিবিআই। সিবিআই সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে ‘দোষী’ উল্লেখ করে চার্জশিট পেশ করে। তার ভিত্তিতে আদালতে সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। কিন্তু এতে সম্মতি ছিল না নির্যাতিতার পরিবারের, তাঁদের অভিযোগ, ওই ঘটনায় কেবল সঞ্জয় নয়, আরো অনেকে যুক্ত। রাজ্য সরকার ও সিবিআই প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতে চাইছে। সুপ্রিম কোর্টে ফের মামলা করেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘সিবিআই তদন্ত বন্ধ করতে চাইছে, নিরুৎসাহিত করছে।’ এ অভিযোগকে কেন্দ্র করেই আন্দোলনে নামেন তাঁরা। কিন্তু সে আন্দোলনে রাজনৈতিক দলের জড়িত থাকা, এবং সরাসরি কুণাল ঘোষের নাম জড়িয়ে মন্তব্য, বিষয়টিকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়। ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের একাংশের মতে, ‘তিলোত্তমার পরিবারের প্রতি সহানুভূতি থাকলেও এমন অমূলক অভিযোগ করে সংবাদমাধ্যমে প্রচার চালানো, তা-ও আবার রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিতে, তা যথেষ্ট সন্দেহজনক।’ বিজেপির তরফে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, ‘সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। তিলোত্তমার বাবা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কথা বলেছেন। এতে কুণালের এত ভয় পাওয়ার কী আছে?’
❤ Support Us







