- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ৪, ২০২৫
প্যাংগং হ্রদে শিবাজি মূর্তি স্থাপন । লাদাখের সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, প্রতিবাদ ভূমিপুত্রদের
প্রায় সাড়ে ৪ বছরের দীর্ঘ ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা মিটিয়ে লাদাখের প্যাংগং হ্রদে শিবাজি মূর্তি স্থাপন ভারতীয় সেনাবাহিনীর। তা নিয়েই লাদাখে আবহাওয়া উত্তপ্ত। স্থানীয় সম্প্রদায়ের অভিযোগ মুর্তি স্থাপনের আগে তাঁদের সাথে কোনো আলোচনা করা হয়নি। লেকের কাছে শিবাজির মুর্তি স্থাপনের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
লাদাখের প্যাংগং হ্রদের কাছে সেনার ছত্রপতি শিবাজির মূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চিনের সাথে দীর্ঘ সীমান্ত সমস্যা কাটিয়ে ২৮ ডিসেম্বর প্রায় ১০ ফুট লম্বা মূর্তিটির উদ্বোধন করেছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিতেশ ভাল্লা। ভারতীয় সেনার ‘ফিস্ট অ্যান্ড ফিউরি কোর’ নামে পরিচিত সেনাদলটি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ধারাবাহিকভাবে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় চিনা হামলার মোকাবিলায় তাঁরাই ছিলেন। এই সেনাদলই হ্রদের তীরে দূরদর্শিতা এবং অটল ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসাবে শিবাজি মূর্তি স্থাপন করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ এ নিয়ে তাঁদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। লাদাখের সংস্কৃতিতে শিবাজির প্রাসঙ্গিকতা কতটা সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
মূর্তি নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, পূর্ব লাদাকের চুশুলের কাউন্সিলর কনচোক স্ট্যানজিন বলেন, “এই মূর্তি প্রতিষ্টা লাদাখের অনন্য সংস্কৃতি এবং পরিবেশের নিজস্বতাকে বিঘ্নিত করবে।” এপ্রসঙ্গে তিনি যুক্তি পেশ করে বলেছেন, ” এই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের নজরে এসেছিল, আমি তৎখনাত X- হ্যান্ডেলে আমার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম। প্যাংগং-এ একটি শিবাজি মূর্তি স্থাপন এই অঞ্চলের সাথে প্রাসঙ্গিক নয়। আমাদের লক্ষ্যা লাদাখের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং আমাদের অনন্য স্থানীয় সংস্কৃতিকে বাইরের প্রভাব থেকে রক্ষা করা।”
As a local resident, I must voice my concerns about the Shivaji statue at Pangong. It was erected without local input, and I question its relevance to our unique environment and wildlife. Let's prioritize projects that truly reflect and respect our community and nature. https://t.co/7mpu3yceDp
— Konchok Stanzin (@kstanzinladakh) December 29, 2024
লাদাখ বৌদ্ধ সমিতির সভাপতি চেরিং ডরজে লাকরুক এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে বলেছেন যে, ” শিবাজি মূর্তিটি লাদাখের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ” এটি শিবাজীর বীরত্বকে সন্দেহ করার প্রশ্ন নয়… কিন্তু, তার মূর্তি মহারাষ্ট্রে স্থাপন করা হলে আরও উপযুক্ত হবে। যেখানে এটি স্থানীয় ঐতিহ্যের সাথে খাপ খায় না।” গত মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ” কেউ একজন হটকারীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি যে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে স্থানীয় অনুভূতি বিবেচনা করা উচিত ছিল। লাদাখ বৌদ্ধ সমিতি এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে না।”
জন্মু কাশ্মীরের মন্ত্রী অভিজ্ঞ নেতা মজার ছলে বলেছেন, “এই মূর্তি চিনের ড্রাগনদের দূরে রাখাবে, মনে করাবে শিবাজির অসিম সাহসের কথা। আফজাল খাঁ কে হত্যা করতে শিবাজির বিচক্ষণ বুদ্ধি ও কৌশল স্মরণ করাবে আমাদের।”
যদিও মূর্তি প্রতিষ্ঠায় একেবারেই না খুশ লাদাখের রাজনীতিবিদ ও অ্যাক্টিভিস্ট সাজ্জাদ কারগিলি, তাঁর মতে এটি ‘সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ’ এর দৃষ্টান্ত। “লাদাখের নিজস্ব যে সংস্কৃতি তাতে সেনা হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। মহারাষ্ট্রের ইতিহাসে শিবাজির অসামান্য ভূমিকা থাকলেও লাদাখের ইতিহাসে তিনি অপ্রাসঙ্গিক। মূর্তি প্রতিষ্ঠা নয় প্রয়োজন লাদাখের নিজস্ব সংস্কৃতিকে রক্ষা করা। জেনারেল জরওয়ার সিং। খিরি সুলতান, আলি শের খান, গয়েল খাতুন এঁরা এখানকার মানুষের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাম।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি আসে নি।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে জন্মু-কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ছত্রপতি শিবাজীর অনুরূপ একটি মূর্তি উন্মোচন করেছিলেন।
❤ Support Us







