- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ১৪, ২০২৫
জেন-জি বিক্ষোভে টলমল পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার! দেশ ছাড়লেন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে রাজোয়েলিনা
নেপাল, ফ্রান্সের পর জেনারেশন জি-র ক্ষোভে কেঁপে উঠল আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার। জনরোষের মুখে, সেনাবাহিনীর একাংশের ‘বিদ্রোহ’-এর পরে, দেশ ছাড়লেন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে রাজোয়েলিনা। তবে তাঁর পদত্যাগ এখনো নিশ্চিত নয়। দেশ ছাড়ার আগে গোপন ডেরা থেকে জাতির উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘মাদাগাস্কার ধ্বংস হতে দেব না।’
সূত্রের খবর, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে সোমবার ভোরে একটি ফরাসি সামরিক কাসা বিমানে করে গোপনে মাদাগাস্কার ত্যাগ করেন রাজোয়েলিনা। মাদাগাস্কারের বিরোধী নেতা সিতেনি র্যান্ড্রিয়ানাসোলোনিয়াইকো সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ‘আমরা প্রেসিডেন্টের দফতরের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নিশ্চিত করেছে যে তিনি দেশ ছেড়েছেন।’ ফরাসি রেডিও আরএফআই-র দাবি, ম্যাক্রোঁ সরাসরি এই ‘উদ্ধার অভিযান’-এ সহযোগিতা করেছেন। যদিও কায়রোয় গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে সম্মেলনে যোগ দিয়ে মাক্রোঁ জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চান না। তবে যোগ করেন, ‘মাদাগাস্কারে সংবিধান মেনে চলা জরুরি। যুব সমাজের ক্ষোভকে কেউ যেন অস্ত্র করে না তোলে।’
গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে জল ও বিদ্যুৎ সঙ্কট ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয় মাদাগাস্কারে। ক্রমেই বাড়তে থাকে জনরোষ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, প্রশাসনের উদাসীনতা, বেকারত্ব— সব কিছুর প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন মূলত তরুণ প্রজন্ম। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রফতানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে ভ্যানিলা, নিকেল, কোবাল্ট, চিংড়ি ও টেক্সটাইল। তবে অর্থনীতির হাল ক্রমেই খারাপ হয়েছে। ১৯৬০ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মাথাপিছু জিডিপি কমেছে ৪৫ শতাংশ। আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রে গড় বয়স ২০ বছরের নিচে। প্রায় ৩০ কোটি জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশই দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন। রাজধানী আন্টানানারিভোর কেন্দ্রীয় স্কোয়ারে সমবেত হাজার হাজার মানুষ এখন একক স্লোগানে সরব— ‘প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ চাই!’ বিক্ষুব্ধ জনতা বলছে, ‘ওরা নিজেদের সম্পদ বাড়িয়েছে, আর আমরা চরম দারিদ্রে শুধু দিন গুনেছি।’
প্রেসিডেন্ট অ্যান্দ্রের সঙ্গে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান এনৎসে এবং ধনকুবের রাজনীতিক মায়মি রাভাতোমাঙ্গা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১ অক্টোবর এনৎসে-র সরকারকে বরখাস্ত করে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা করেন রাজোয়েলিনা। কিন্তু বিক্ষোভের আগুন তাতে দমেনি। সেনাবাহিনীর সিএপিএসএটি ইউনিট রাস্তায় আন্দোলনকারীদের সমর্থনে নেমে পড়লে বিক্ষোভ দুর্দম হয়ে ওঠে ওঠে। সেনা জানিয়ে দেয়, তাঁরা আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালাবে না, বরং নিরাপত্তা দেবে। একই সঙ্গে তারা নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগ করে সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। প্রেসিডেন্ট ‘অভ্যুত্থানের চক্রান্ত’ তত্ত্ব দিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেননি। রাজোয়েলিনার বড় ভরসা ছিল সেনাবাহিনীর এই অভিজাত ইউনিট, যারা ২০০৯ সালে তাঁকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল।
সোমবার, সেনাবাহিনী ও জেন্ডারমারির (প্যারামিলিটারি) একটি অংশ ও আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকারের দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেয়। সে অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকেরা। সিনেট প্রেসিডেন্ট, যিনি এতদিন বিরোধীদের টার্গেটে ছিলেন, তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জ্যঁ আন্দ্রে এনদ্রেমাঞ্জারি। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদ খালি হলে নির্বাচনের আগে সিনেট সভাপতি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এপর্যন্ত মাদাগাস্কারে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন। এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগ করতে এখনো নারাজ রাজোয়েলিনা। তবে মাদাগাস্কারে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কার্যত অনিশ্চিত।
❤ Support Us







