Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ২২, ২০২২

মহারাষ্ট্রে মহাসঙ্কট, ইস্তফা দেবেন উদ্ধব? বসছে মন্ত্রিসভা, হাসপাতালে রাজ্যপাল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মহারাষ্ট্রে মহাসঙ্কট, ইস্তফা দেবেন উদ্ধব? বসছে মন্ত্রিসভা, হাসপাতালে রাজ্যপাল

মহারাষ্ট্রে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সঙ্কট কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ৷ উদ্ধব ঠাকরের সরকারকে বিপদে ফেলে শিবসেনারই মন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে রাজ্য ছেড়েছেন কমবেশি চল্লিশ জন বিধায়ক৷ মাত্র এক সপ্তাহ আগেই শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের ছেলে তথা মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী আদিত্যের অযোধ্যা সফরের সঙ্গী ছিলেন তিনি। তার পরই হঠাৎ বিদ্রোহ। জানালেন ৪০ বিধায়ক রয়েছে তাঁর সঙ্গে। একনাথের দাবি, শিবসেনা বালাসাহেব ঠাকরের নীতি ভুলতে বসেছে। কিন্তু তিনি তা পারবেন না। তাঁর মতো আরও অনেক বিধায়ক চান, দল তার পুরনো ঐতিহ্য বয়ে চলুক। তাঁর এই কাজে মহারাষ্ট্রের আরও ৪০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন একনাথ ।

বুধবার মহারাষ্ট্রের ক্যাবিনেট মন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং শিবসেনার ৪০ জন বিদ্রোহী বিধায়কে গুজরাটের সুরাটের হোটেল থেকে অসমের গুয়াহাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে । জানা গিয়েছে প্রায় সাত জন নির্দল বিধায়ক, যারা সুরাটের লে মেরিডিয়ান হোটেলে ছিলেন, তাঁরাও শিন্ডের সঙ্গে গুয়াহাটিতে এসেছেন ।

বুধবার ভোররাতে এই বিধায়কদেরকে একটি বাসে করে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই তাঁদেরকে বিজেপি-শাসিত রাজ্য অসমে নিয়ে যাওয়া হয়। একনাথ শিন্ডে সুরাট বিমানবন্দরে বলেন, ‘আমরা বালাসাহেব ঠাকরের শিবসেনা ছেড়ে যাইনি এবং ছাড়বও না। আমরা বালাসাহেবের হিন্দুত্বকে অনুসরণ করে চলেছি এবং একে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব ।’

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের পাঠানো শিবসেনা নেতা মিলিন্দ নার্ভেকর এবং রবীন্দ্র ফাটক হোটেলে বিদ্রোহীদের সাথে আলোচনা করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাঁদেরকে অসমে নিয়ে যাওয়া হয়।মহারাষ্ট্রে মহা বিকাশ আগাড়ি সরকার গঠনের জন্য কংগ্রেস এবং এনসিপির সঙ্গে হাত মেলানোয় শিবসেনাকে মঙ্গলবার আক্রমণ করেন শিন্ডে।

এই মুহূর্তে বাকি বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে গুয়াহাটিতে রয়েছেন বিক্ষুব্ধ মন্ত্রী একনাথ শিন্ডে৷ উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরেও ফিরতে রাজি হননি তিনি৷ বরং বিজেপি-র সঙ্গে জোট সরকার গড়ার জন্য শর্ত দিয়েছেন জানা গেছে ।

সংকটের মাঝেই নয়া মোড় মহারাষ্ট্রে । এবার বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন সঞ্জয় রাউত । বুধবার সকালে একটি টুইট করেন শিবসেনা নেতা । যা নিয়ে জল্পনা আরও উসকেছে । শিবসেনা সাংসদ একটি টুইটে লেখেন, ‘মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।’ এই টুইট নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে । এর আগে সকালেই উদ্ধব ক্যাবিনেটের বিদ্রোহী মন্ত্রীকে পুরনো বন্ধু হিসেবে সম্বোধন করতে শোনা গিয়েছিল সঞ্জয় রাউতকে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নিছক মজার ছলেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘রাজনৈতিক ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী। সবচেয়ে বেশি কী হতে পারে! ক্ষমতা চলে যাবে!’ এই বক্তব্য হইচই ফেলে দিয়েছিল সকালেই। তারপরই সঞ্জয় রাউতের এই টুইটে কার্যত নড়ে গিয়েছে মহারাষ্ট্র । তবে কী এবার ক্ষমতা হারাতে বসেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে? শুরু হয়ে গিয়েছে জল্পনা। সূত্রের খবর, এদিন সকালে প্রায় ঘণ্টাখানের একনাথ শিন্ডের সঙ্গে কথা বলেন সঞ্জয় রাউত ।

সরকারে টানপড়েনের মাঝেই অসুস্থ মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল। করোনা হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন তিনি। এদিকে দুপুরেই মন্ত্রিসভার বৈঠক রয়েছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন উদ্ধব ঠাকরে। টুইটারে তেমনই ইঙ্গিত দিলেন শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত।

কে এই একনাথ শিন্ডে?

পশ্চিম মহারাষ্ট্রের প্রভাবশালী নেতা একনাথ শিন্ডে। ভোট-রাজনীতিতে পা দিয়েছিলেন ১৯৯৭ সালে। ২০০৪ সালে প্রথম মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটে জেতেন তিনি। তার পর ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৯-এর বিধানসভা ভোটেও জিতেছিলেন শিন্ডে। বিধানসভায় এক সময় বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

২০১৪ সালে বিজেপি-শিবসেনা জোট সরকার যখন মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায়, তখন রাজ্যের মন্ত্রীও হন শিন্ডে। পরে ২০১৯-এ মহা বিকাশ অঘাড়ি সরকারের নগরোন্নয়ন ও পূর্ত দফতরের মন্ত্রী হন তিনি। বিধানসভার দলনেতার দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকে।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!