Advertisement
  • স | হ | জ | পা | ঠ
  • মে ৩, ২০২৪

ওরাংওটাং এর আত্ম চিকিৎসা, হতবাক জীব বিজ্ঞানীরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ওরাংওটাং এর আত্ম চিকিৎসা, হতবাক জীব বিজ্ঞানীরা

‘রুকুস’, একটি ওরাংওটাং, বাস তার ইন্দোনেশিয়ার অভয়ারণ্যে, যার নাম গুনুং লিউসার জাতীয় উদ্যান (Gunung Leuser National Park)। হঠাৎ উঠে এসেছে খবরের শিরোনামে। নিজের অজান্তে একটি কাজ সে করে ফেলেছে যা সাড়া ফেলে দিয়েছে বিশ্বের তাবড় জীব বিজ্ঞানী মহলে।

গুনুং লিউসার জাতীয় উদ্যানের একটি গবেষক দল ২০২২ সালের জুন মাসে গবেষণা চলাকালীন ‘রুকুস’-এর চোখের নীচে একটি বড় ক্ষত দেখতে পান। সম্ভবত, নিজেদের গোষ্ঠীকোন্দলের ফল । জোর যার মুলুক তার।ওরাংওটাংদের মধ্যে এই প্রাকৃতিক বিবাদ নতুন নয়। আহত হয়ে মনের দুঃখে চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে শুরু করলে পরের দিন বিজ্ঞানীদের ব্যাপারটি নজরে আসে।

তাঁরা দেখেন একটা গাছের ডাল আর পাতা চিবোচ্ছে রুকুস। গাছটি হল আকার কুনিং((Fibraurea tinctoria)), বিজ্ঞানী মহলে যার খ্যাতি প্রদাহ ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য। স্থানীয়রা এই গাছকে ম্যালেরিয়া আর ডায়াবেটিসের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করে।মন্ত্রমুগ্ধের মত গবেষকরা দেখতে থাকেন তার কীর্তি। সে প্রথমে চিবিয়ে চিবিয়ে ওই পাতাটির একটি লেই তৈরি করে। সেই লেই থেকে নিঃসৃত রস সে নিজের ক্ষতস্থানের ওপর প্রায় সাত মিনিট ধরে লাগাতে থাকে। তারপর লেই দিয়ে ঢেকে দেয় তার ক্ষতস্থান। তারপর আধঘণ্টা ধরে সে শুধু ওই গাছটির পাতা চিবিয়ে খেয়েছে। তারপর কেটে গেছে পাঁচ পাঁচটি দিন। স্বভাবগত ও পেশাগত কৌতূহলী বিজ্ঞানীরা দেখা করতে গেলেন রুকুসের সঙ্গে। গিয়ে তাঁরা অবাক। প্রকৃতির নিজস্ব ঔষধের ঔষধি গুনে সেই ক্ষত একেবারে হাওয়া। যেন মনে হচ্ছেনা এই গত পাঁচদিন আগেও সেখানে কোন ক্ষত ছিল !

গবেষক দলের একজন ডঃ লিউমর বলেন, ‘ নিরামিষাশী শিম্পাঞ্জীদের প্রিয় খাদ্যের তালিকায় এই গাছের পাতা নেই। আমার মনে হয় রুকুস জানত এর ওষুধ। তাই ইচ্ছে করে সে এই গাছের পাতা খেয়েছে। অন্তত তার ক্ষতস্থানে চিকিৎসা করার পদ্ধতি  দেখে তাই মনে হচ্ছে।’

গবেষকরা আরও জানান,  চিকিৎসা পরবর্তী সময়ে রুকুস নিজেকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রেখেছিল। এতটা বিশ্রাম এর আগে তাকে নিতে দেখা যায়নি। দিনের অর্ধেক সময়ে সে শুধু ঘুমিয়ে কাটিয়েছে। বিশ্রাম যে রোগের অন্যতম ওষুধ সেটাও জানে রুকুস। ‘ঘুমের সময় দেহে গ্রোথ হরমোনসহ, প্রোটিন সংশ্লেষণ হয়। কোষ বিভাজন বাড়ে,’ বললেন ডঃ লিউমর ।

গ্রেট এপ বানর প্রজাতি যে প্রাকৃতিক গাছ গাছড়া থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে তা বিজ্ঞানীদের অজানা নয়। ১৯৬০ সালে জীববিজ্ঞানী জন গুডাল প্রতক্ষ্য করেছেন শিম্পাঞ্জীদের চিকিৎসা পদ্ধতি। কিন্তু কোন ওরাংওটাং কে এমন করতে এর আগে কেউ দেখেনি।

বিজ্ঞানীদের অনুমান রুকুস এর আগে হয়ত তার দলের অন্যান্য কাউকে এটি ব্যবহার করে উপকৃত হতে দেখেছে। আরেকটি সম্ভাবনার কথাও তারা বলেছেন, ওই গাছের পাতার সংস্পর্শে কোনোভাবে এসে পড়েছিল সে এবং তার ক্ষতস্থানে তা লেগে যাওয়ার জন্য সে আরাম পায়, যাতে তার মনে একবার ওই গাছের পাতা প্রয়োগ করার  ইচ্ছা জাগে।

এমন নয় যে এর আগে মনুষ্যেতর প্রাণীদের মধ্যে নিজেকে নিজে চিকিৎসা করার ব্যাপারটা প্রথম। মানুষের সবচেয়ে কাছের আত্মীয় গ্রেট-এপ পরজীবীদের থেকে নিজেকে বাঁচাতে বিভিন্ন ভেষজ চিকিৎসা করে থাকে।

জার্মানির  ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউটের জীববিজ্ঞানী এবং গবেষক দলটির প্রধান  ডঃ ইসাবেলা লিউমর বলেন, ‘এই ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে এরা আমাদের খুব নিকট আত্মীয়, আমাদের দুই প্রজাতির মধ্যে প্রচুর মিল। আমাদের মধ্যে বৈসাদৃশ্যের চেয়ে সাদৃশ্যের উদাহরণ অনেক বেশি।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!