Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ২০, ২০২৬

রাজ্যে স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন করে নির্বাচন হচ্ছে, ইস্তেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে কমিশন ও কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্যে স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন করে নির্বাচন হচ্ছে, ইস্তেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে কমিশন ও কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতার

২০২৬-এর নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে শুক্রবার কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এবার চক্রান্ত সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। ওরা চাইছে বাংলা দখল করে বাংলা রাজ্যটাকেই তুলে দিতে। নরেন্দ্র মোদি সরকারে আসার আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার একটিও পালন করেনি। উল্টে এলআইসি থেকে শুরু করে সব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রি করে দিচ্ছে।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যে অঘোষিত জরুরি অবস্থা করে দিয়েছে। রাষ্ট্রপতি শাসন করে বাংলায় মোদিজিকে নির্বাচন করতে হচ্ছে ? লজ্জা,লজ্জা,লজ্জা। আসলে ওরা চায় না বাংলা রাজ্যটা থাকে। বাংলার ছেলে-মেয়েরা সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। তাই ভারত সরকার বাংলার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে বাংলাকে শেষ করতে চাইছে। দেশটা চালাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাই মোদির হাত থেকে দেশকে রক্ষা প্রধান কাজ।”

এর পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল কর্মীরা বুথে বুথে মানুষকে পাহারা দেওয়ার জন্য বড় যোদ্ধা। তাই সাধারণ মানুষদের বলবো, সময় নেই, বাংলাকে রক্ষা করতে হলে বিজেপিকে শিক্ষা দিন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভয়ে থেমে যাবেন না। ওরা সীমান্ত থেকে লোক ঢুকিয়ে দাঙ্গা করার চক্রান্ত করছে। জোর করে রাষ্ট্রপতি শাসন মুখে না বলেও সেই মতো আচরণ করছে। জনগণ সব দেখছে।”

সব সম্প্রদায়ের প্রতি বার্তা দিয়ে মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায় মোদির সরকারকে স্বৈরাচারী, অত্যাচারী, মহিলা,শ্রমিক, ছাত্রযুব বিরোধী সড়ক ও দাগনার সরকার বলে সমালোচনা করে। ঈদ ও নবরাত্রির শুভেচ্ছা জানিয়ে মামাত বলেন, “এই দাঙ্গাকারী, সংবিধান হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। সংবাদপত্রের মালিকদের হুমকি দিচ্ছে, কি লিখবে তা ঠিক করে দিচ্ছে। মানুষদের এস যাই আর, আধার কার্ড, এলপিজি-র লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তাই বলছি যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।”

তৃণমূল নেত্রী এদিন বলেন, “সবার সব কিছু আমরা করে দিয়েছি। বাড়ি করে দিয়েছি। বিধবা ভিটা ও বয়স্ক ভাতা করে দেব যা বাকি আছে। একটা সার্ভে চলছে। আমরা ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভান্ডার করে দিয়েছি, সাধারণ মহিলারা ১৫০০, অন্যান্যরা ১৭০০ টাকা সারা জীবন পাবেন। আমরা মুখে বলে কাজ করি। এ ছাড়া কন্যাশ্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের ১০০ -র বেশি স্কিম আছে। আমরা ২ কোটি ছেলে-মেয়েদের চাকরি দিয়েছি। কেন্দ্রে ৪০% বেকারি বেড়েছে। বাংলায় ৪০% কর্মসংস্থান হয়েছে। দারিদ্রসীমার হার কমেছে। অসংগঠিত শ্রমিক, স্বনির্ভর গোষ্ঠী সম্মানের সঙ্গে কাজ করছে।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাণিজ্যের কান্ডারী বাংলা। পাওয়ার হাব, লেদার হাব হয়েছে। দেউচাপচামী হলে ১০০ বছর বিদ্যুতের ঘাটতি থাকবে না। রঘুনাথপুরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। ওয়াগন থেকে ইঞ্জিন, জাহাজ কোম্পানি সব হয়েছে। দেড় কোটি মানুষ ক্ষুদ্র শিল্পে কাজ করে। ২০ লক্ষ স্বরনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা আছে। তাদের জন্য বিপিনি করেছি। কৃষির সাফল্য এসেছে। আলু ,ধান সহায়ক মূল্য দিয়ে কিনছি। মাছ ছাসে উন্নতি হয়েছে। ইলিশ উৎপাদন হচ্ছে। এবার দুয়ারে চিকিৎসা করবো। দুয়ারে সরকারের মতো। প্রতি বছর ব্লকে স্বাস্থ্য শিবির হবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব ৯৫% ছাড়িয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষায় জাতির ভবিষ্যৎ বলে বলেন, “শিক্ষকদের আমার সরকার বিপদে ফেলবে না।” এছাড়াও বলেন আগামী দিনে আরও ৭ থেকে ১০টি জেলা তৈরি হবে। পৌরসভা হবে।” নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “আমরা দলের পক্ষ থেকে যে ইস্তাহার তৈরি করেছি সেটা ৬টি ভাষায় করা হয়েছে।” ইস্তাহার প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী আঙুল তুলে টু হয় ভিক্টরি বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”ইদের পর থেকে প্রচার শুরু হবে। এস আই আর-এর যে নাম বিবেচনায় ছিল তার মধ্যে ২৩ লক্ষ নিস্পত্তি হয়েছে, এর থেকে ১০ লক্ষ বাদ হবে বলে শুনেছি। আমাদের ধিক্কার দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। বেঁচে বেঁচে একটা সম্প্রদায়ের নাম বাদ দিয়েছে। প্রথমেই ৫৮ লক্ষ দাবি দিয়েছে। বিজেপি বলেছিল ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেবে। ২২/২৩ লক্ষের নাম যাচাই করতে এতদিন লাগলে ভোটের মধ্যে সব নাম যাচাই হবে তো? পরিকল্পনা অনেক। ইভিএম-এ কারচুপি হবে নাতো? এতো অবজার্ভার, ১০ লক্ষ সেনা, এদের কোথায় রাখবো? কি খাওয়াবো? আর এরা খাবে কি? রান্নার গ্যাস পাবে কোথায়? এরাই অস্ত্র, টাকা আমদানি করবে। আমি লড়াই করে চলেছি। তবে বাংলার মানুষের অধিকার যাতে রক্ষা হয় তাই লড়ছি। সামনাসামনি লড়তে না পেরে পিছনের লোক দিয়ে করিয়ে এখন প্রকাশ্যে এসে গেছে\ আমি চিঠি দিয়েছি, কারণ প্রমাণ থাকবে।”

এদিন মুখ্যমন্ত্রী শশী পাঁজর বাড়ি আক্রমণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “এরা মানুষের মস্তিষ্ক দখল করে নিয়েছে। ভালো কাজে লাগাচ্ছে না। তৃণমূল কংগ্রেস জোড়া ফুল চিহ্ন নিয়ে মানুষের জন্য লড়ছে। সবার জন্য দরকার বাংলার তৃণমূল সরকার। তাই সবার আশীর্বাদ, দোয়া চাইছি। এবার প্রচারের ময়দানে দেখা হবে।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!