Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • এপ্রিল ২৪, ২০২৩

জয়প্রকাশের স্মৃতিকে উস্কে দিয়ে বিজেপির ঘাড়ে মমতার নিঃশ্বাস। নীতিশও বুঝিয়ে দিলেন, বিরোধী ঐক্য ছাড়া গদি থেকে বিজেপির উচ্ছেদ অসম্ভব

বিজেপি শূন্য দিল্লি চায় বৃহত্তর ভারত। সাম্প্রদায়িক  মেরুকরণে জোর দেবে গেরুয়া শিবির 

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জয়প্রকাশের স্মৃতিকে উস্কে দিয়ে বিজেপির ঘাড়ে মমতার নিঃশ্বাস। নীতিশও বুঝিয়ে দিলেন, বিরোধী ঐক্য ছাড়া গদি থেকে  বিজেপির উচ্ছেদ অসম্ভব

আরম্ভর বিশ্লেষণ:   নবান্নে এসে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার  ও  উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব ।  দুপক্ষেরই  একই মত, বিজেপিকে আগামী লোকসভা নির্বাচনে  গদিচ্যুত করতে হবে।  একমাত্র   শক্তিশালী বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলেই  এটা সম্ভব।  কংগ্রেস বা অন্য কোন দলের নেতৃত্বে জোট গড়ে উঠবে সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত নন। এরকম কোনো আভাসও দেননি।

সোমবার বেলা ১টার দিকে কলকাতা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের স্বাগত জানান দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু এবং পুর ও নগরান্নোয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। নবান্নে ২টোর সময় পৌঁছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের র সঙ্গে তাঁরা সাক্ষাত করেন। দুপক্ষের মধ্যে সৌজন্য বিনিময়ের পর দীর্ঘ এক ঘণ্টা বৈঠক হয় বৈঠক শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিহারে ওঁরা ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন রবং বিজেপি বিরোধী  লড়াইয়ের নির্দিষ্ট  বার্তা দিয়েছেন।  দেশ জুড়ে বৃহত্তর জোটের কথা ভাবতে হবে। জয়প্রকাশ নারায়ণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নীতিশ কুমারকে পাটনায় সব  বিরোধী দলের বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন মমতা। অচিরে বিজেপিকে ‘হিরো থেকে জিরো’-তে নিয়ে যেতে হবে।  বিরোধীদের ঐক্যমত্য  গড়ে তোলা প্রয়োজন। নীতিশ কুমার প্রত্যুত্তরে বলেছেন, যা হবে দেশের ভালোর কথা ভেবেই হবে।  শাসকদল শুধু নিজেদের প্রচারে ব্যস্ত। অন্যকিছু নিয়ে  তাঁদের চিন্তা নেই। দেশের ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তন নিয়েও বিজেপির সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হন নীতিশ।

লোকসভা ভোটের এখনও একবছর বাকি।  বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখতে  রাজী নন মমতা। আগেও  ঐক্য গঠনের চেষ্টা করেছিলেন। সে প্রচেষ্টা অব্যাহত। একথাই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী। এবার আগাম প্রস্তুতি শুরু করতে চাইছেন। সমস্যা হল নেতৃত্ব দেবে কে?  তৃণমূল বা অখিলেশের সপা কংগ্রেস নেতৃত্ব মানতে নারাজ। বিরোধী ঐক্যের ছবি এখনও দানা বাঁধেনি। জেপির কথা মমতা আজ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, নীতিশ ও লালু  জয়প্রকাশের  যোগ্য শিষ্য। ১৯৭৪ সালে বিহারের ছাত্র আন্দোলন ও জরুরি অবস্থার মুহুর্তে জেল খেটেছেন।, অনেক আত্মত্যাগ করেছেন। সরাসরি এভাবেই তাঁদের জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ।  জয়প্রকাশের নীতি ও আদর্শভিত্তিক লড়াইয়ে ডান থেকে বাম সবাইকে একই বৃহত্তর  মঞ্চে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।    ইন্দিরা গান্ধীর মতো শক্তিশালী নেত্রী টিকে থাকতে পারেননি।টেকেনি  জেপির ‘আদরের ইন্দু’-র  স্বৈরাচারী ক্ষমতামত্ততা।  তখনকার তুলনায় ভারত বহু বেশি দুর্যোগের সম্মুখীন।   দেশের ইতিহাস, জনগণের  মতপ্রকাশের স্বাধীনতা  সবই সংকটাপন্ন।   গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা বাঁচাতে হলে  আরও এক জেপির ধাঁচে  আরো এক জবরদস্ত  আন্দোলন দরকার এবং ক্ষুদ্র দলীয় দ্বার্থের বাইরে গিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সংশয় বা রাজনৈতিক মতভেদকে বৃহৎ স্বার্থে পরিত্যাগ করতে হবে।  লড়তে হবে এক হয়ে, হাতের ওপর হাত রেখে।

বিরোধী ঐক্য গড়তে চাইছে প্রায়  প্রতিটি অবিজেপি দল। কাশ্মীর থেকে মিজোরাম পর্যন্ত একই লহর বইছে।  নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রকে উচ্ছেদ করতে প্রস্তুত বিরোধীরা।  এব্যাপারে  যে ঐক্য থাকা দরকার, তার উপস্থিতি এখনও অধরা। জয়প্রকাশ নারায়ণের ইন্দিরা বিরোধী আন্দলনের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা বুঝিয়ে দিলেন তাঁর  লক্ষ্য সংশয়হীন। জেদ তীব্র এবং কেন্দ্রীয়  শাসকরাও এবার বুঝতে পারবে বাংলার নেত্রী বিরোধীদের সর্বসম্মত ঐক্য গড়ে তুলে তাঁদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে চাইছে। কয়েকমাস আগে অমর্ত্য সেন বলেছিলেন মমতা প্রধানমন্ত্রী হওয়্যার যোগ্য, বিজেপিকে হঠাতে হলে, শক্তিশালী বিরোধী ঐক্য দরকার। অমর্ত্য কংগ্রেস কিংবা অন্য কোনো দলের নাম উচ্চারণ করেননি। কংগ্রেস ঐক্য নিয়ে এখনও  স্পষ্ট ভাষায় মুখ খোলেনি। তাহলে কি তাদের ধারণা, তারাই নেতৃত্ব দেবে কিংবা একার শক্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়বে। এরকম স্বপ্ন অলীক কল্পনা। কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভিত্‌ ক্রমাগত দুর্বল হয়ে উঠছে। গুটিকয়েক রাজ্যে ক্ষমতায় আছে। সেসব রাজ্যে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত নয়।  একসময় বিরোধীরা কংগ্রেস এবং বিজেপিকে বাদ দিয়ে বিরোধী ঐক্য গড়ে  তোলার চেষ্টা করেছে। ইন্দিরা তখন প্রধানমন্ত্রী আর বিরোধী  সম্মেলনের নেতৃত্বে ছিলেন জ্যোতি বসু।  সে চেষ্টা সফল হয়নি। ইন্দিরার মৃত্যুর পর, রাজীবের পাঁচ বছর টিকে থাকলেন। সেসময় তাঁর  বিরুদ্ধে  একদলীয় আধিপত্য দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। তখন বিরোধী ও ঐক্যের কাণ্ডারী হিসেবে দেখা গেল নির্মোহ রাজনীতির সূত্রধর বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংকে। ডান-বাম সকলে এমনকি জনতা দলের মুখোশ পরে  গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরাও  ‘রাজীব হঠাও’ আন্দোলনে ।সফল হলেন। কংগ্রেস  হেরে গেল, ক্ষমতায় বসল জনতা দল। সরকারে যোগ দিল বামপন্থী ছাড়া ও সংশ্লিষ্ট সব দল।  তখন থেকেই  কোয়ালিশন যুগের আরম্ভ। যা কখনও সফল, কখনও বিফল হয়েছে। মমতা বুঝতে পেরেছেন আঁতাতের শক্তপোক্ত রাজনীতি ছাড়া একাধিপত্যবাদী  বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা অসম্ভব।  বিজেপি রাজনৈতিক শিবির ভাগের খেলায় অভ্যস্ত। প্রয়োজনে নীতির বাইরে গিয়ে তাঁরা জনপ্রতিনিধি কেনায় ওস্তাদ।বিজেপির এসব নীতিহীন  নীতিকে সামাল দিতে হলে, বিরোধী আন্দলনে জয়প্রকাশ নারায়ণের ভাবমূর্তির দ্বারস্থ হতে হবে। এটাই আপাত দৃষ্টিতে বিরোধী ঐক্য তৈরির অমোঘ মন্ত্র। সম্ভবত, বিরোধীরা এপথেই এগোবেন। এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠল আজকের মমতা-নীতিশ বৈঠকে।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!