- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১৫, ২০২৩
হিংসা বাড়ছে মণিপুরে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর দরবারে বীরেন সহ ৪ মন্ত্রী
নতুন করে উত্তরপূর্ব মণিপুরে আবার হিংসা শুরু হয়েছে। আবার নতুন করে হিংসা শুরু হওয়ায় দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং এবং তাঁর মন্ত্রিসভার চারজন সদস্য। পাশাপাশি মোদির সঙ্গেও আজ দিল্লিতে বৈঠকে বসবেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই মণিপুরের হিংসায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে। তবে বিগত কয়েকদিন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল। ফের রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে হিংসা শুরু হয়েছে। এদিকে এই হিংসার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী বদল নিয়ে জল্পনাও শুরু হয়েছে। মণিপুরের হিংসার আগের থেকেই এন বীরেন সিংকে গদিচ্যুত করার দাবি করে আসছিলেন বিজেপির একাংশ। তবে বীরেন সিং রাজ্যের অন্যতম বড়ো মৈতেই নেতা। পাশাপাশি তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা পরীক্ষিত। এই আবহে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কী করবে সে নিয়ে রয়েছে জল্পনা। রবিবার রাত ৮টার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বীরেনের বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা অবশ্য জানা যায়নি।
ইতিমধ্যে মৈতেই সম্প্রদায়ের সদস্যরা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেনকে সমর্থন করবে বলে হাত বাড়িয়েছে রেখেছে। এক দিন আগেই মৈতেই সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য দিল্লির যন্তর মন্তরে বিপুল সংখ্যায় জড়ো হয়ে ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস বা এনআরসি কার্যকর করার দাবি জানায়। তাদের এই দাবির সমর্থনে যুক্তি ছিল, এনআরসি চালু করলে অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা যায় এবং তাদের নির্বাসিত করা যাবে।
গত শনিবার মধ্যরাতে কিছু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয় বিষ্ণুপুর এবং চূড়াচাঁদপুর সীমান্তে। এদিকে বিষ্ণুপুর থেকে একজনর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরপরই সেখানে বিএসএফ জওয়ানদের মোতায়েন করা হয় পরিস্থিতি নিয়্ন্ত্রণে আনতে। সরকারি ভাবে জানা গিয়েছে, এই মাসের ৩ তারিখ থেকে যে হিংসার সূচনা হয়েছে, তাতে এখনও পর্যন্ত মোট ১৮০৯টি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়েছে। এদিকে শনিবার রাতেই একটি পৃথক ঘটনায় কাংপোকপি জেলায় দু’টি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে জাতিগত হিংসার ঘটনা শুরু হয়েছে মণিপুর। মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল। তবে নতুন করে আবার রাজ্যে দেখা দেওয়ায় রাজ্য প্রশাসন শঙ্কিত হয়েই অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বর্তমানে ভারতীয় সেনা এবং অসম রাইফেলসের কয়েক হাজার সেনা জওয়ান মোতায়েন রয়েছে মণিপুরে। এখনও পর্যন্ত ৪৬ হাজার জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর। এর মধ্যে চূড়াচাঁদপুর, মোরে, কাকচিং এবং কাংপোকপি জেলা থেকেই অধিকাংশ মানুষকে সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এদিকে হিংসায় এখও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ইম্ফল পূর্ব এবং পশ্চিম জেলাগুলি বিক্ষিপ্তভাবে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এই আবহে সেরাজ্যের ২ মন্ত্রী সহ ১০ জন কুকি বিধায়ক আলাদা রাজ্য এবং আলাদা প্রশাসনের দাবিতে সরব হয়েছেন। এই হিংসার জন্য বিজেপির একটি বড় অংশ মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেনকেই দায়ী করছে।
এদিকে দু’দিন আগেই এন বীরেন মন্ত্রিসভার দুই মন্ত্রী সহ রাজ্যের কুকি-জোমি সম্প্রদায়ের অন্তর্গত মণিপুর বিধানসভার ১০ জন বিধায়ক একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে কেন্দ্রীয় সরকারকে ভারতীয় সংবিধানের অধীনে একটি “পৃথক প্রশাসন” তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। যদিও এই সম্প্রদায়ের মানুষরা মণিপুর রাজ্যের প্রতিবেশী হিসাবে সবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করে।
❤ Support Us







