- প্রচ্ছদ রচনা
- জুন ৭, ২০২২
বিস্ফোরক পদার্থ । তথ্য লুকিয়ে রাখার খবর ফাঁস ।
কলকারখানায় বিস্ফোরক অগ্নিকাণ্ড প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়। শিল্প এলাকায়, বিশেষ করে গার্মেন্টস কারখানা বহুবার আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে। কারণ, যথাযথ অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। ইদনীং বাংলাদেশ সরকার কঠোর হয়েছে। শিল্পকারখানায় আকছার অগ্নিকাণ্ড হ্রাস পেয়েছে । কিন্তু বন্দর এলাকায় অবস্থাটা যে কী ভয়াবহ, তা সর্বশেষ প্রামাণ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার ডিপোতে হঠাৎ আগুনের বিস্ফোরণ। সর্বশেষ খবর এই ডিপোতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও রাসায়নিক পদার্থ মজুদ রাখার অনুমতি ছিল না । বিনা অনুমতিতে ডিপোতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ২৪টি কন্টেইনার রাখা ছিল। একথা জানিয়েছেন, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরের প্রতিমন্ত্রী।
অনেকে লেবাননের বন্দর এলাকার ভয়াবহ দুর্ঘটনার সঙ্গে সীতাকুণ্ডের ঘটনার তুলনা করছেন বটে। কিন্তু দুই ঘটনার ধ্বংসকাণ্ডে বিস্তর ফারাক রয়ছে। লেবাননের বিস্ফোরণে গোটা শহর তছনছ হয়ে যায়। ভেঙে পড়ে অসংখ্য বহুতল । আর্থিক সঙ্কটও ঘনিয়ে আসে। বিদেশি হায্যের আশ্রয় নিতে হয়। বাংলাদেশের বিস্ফোরণ এতটা ভয়াবহ না হলেও তার আয়তন ও শক্তি নেহাত নগণ্য নয়। ঘটনাস্থলে ৪১ জনের মূত্যু, আহত ৩০০ এবং বহু কন্টেনারের ধ্বংসাবশেষ প্রমাণ করছে যে, অসর্তকা জনক দুর্যোগের পরিণতি আরও ভয়ঙ্কর হতে পারত । সর্বশেষ খবর, যাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁদের কেউ কেউ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এরকম একজনের খবর মিলেছে । নাম খালেদুর রহমান । সোমবার রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে পাঠানো হয়েছে । ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক এস এম আইউব হোসেন এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ।
রাসায়নিক পদার্থ মজুদ রাখার অনুমতি না থাকা সত্বেও কীভাবে কন্টেনার রাখা হয়েছিল, গাফিলতির দায় কার —এ নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে ।প্রাথমিক তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কয়েকটি কন্টেইনারে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড মজুদ থাকার বিষয়টি ভিত্তিহীন নয়। চট্টগ্রাম এলাকার পরিবেশ অধিদপ্তরের অঞ্চলিক পরিচালক মফিদুল আলম বলেছেন, বিএম কন্টেইনার ডিপোতে রাসায়নিক পদার্থ রাখার কোনও লাইসেন্স ছিলনা । দমকল দফতরের সূত্রে জানা গেছে, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড মজুদ রাখার তথ্য কাউকে জানানো হয় নি। লুকিয়ে চুরিয়ে রাখা হয়েছিল বলেই এরকম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে । সীতাকুণ্ডের যে ডিপোতে বিস্ফোরণ কাণ্ড ঘটেছে, তা ২৬ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত । বহুদিন ধরে এখানে কন্টেনার রাখা হয়। কিন্তু আড়ালে আবডালে বিস্ফোরক পাদার্থ রাখার খবর কেউ টের পাননি। তার মানে নিয়মিত তদন্তে গাফিলতি ছিল। দ্বিতীয়ত, সরকারের যে সব প্রতিষ্ঠান বা বিভাগের বিষয়গুলো দেখভাল করার কথা, তারাও এখন ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন ।
❤ Support Us








