Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৫, ২০২৪

ভোটপর্ব মিটলেও রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ব্যাহত হবে পড়াশুনার কাজ, উদ্বেগ শিক্ষকদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোটপর্ব মিটলেও রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ব্যাহত হবে পড়াশুনার কাজ, উদ্বেগ শিক্ষকদের

পূর্ব বর্ধমান জেলায় ভোট চুকেছে মোটামুটি নির্বিঘ্নেই। গণনাপর্বও মিটেছে শান্তিতে। তবুও ঝুঁকি নিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন। শান্তি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী যাতে আরও কিছুদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় থাকে, সে ব্যাপারে সুপারিশ করে কমিশন। সেই সুপারিশ মেনে ফল প্রকাশের পর উল্লাস বা বিজয় মিছিলকে ঘিরে ঝামেলা-অশান্তি এড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কেন এমন সিদ্ধান্ত? নির্বাচন কমিশনের অন্দরের খবর, পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকেই গণনা-পরবর্তী হিংসা রুখতে বাহিনীকে রাখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার গণনার বর্ধমান পূর্ব ও বর্ধমান-দুর্গাপুরের গণনা কেন্দ্রে ২ কোম্পানি করে বাহিনী ছিল। ৬ কোম্পানি বাহিনীর সদস্যদের কাজ ছিল এলাকায় এলাকায় টহল দেওয়া। বাকি ৮ কোম্পানিকে ভাগ করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কাজে লাগানো হবে। উল্লেখ্য, জেলায় ভোটের দিন (১৩ মে) মোট ১৫৫ কোম্পানি বাহিনীকে কাজে লাগানো হয়েছিল। ভোটে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া বড়ো কোনও গণ্ডগোল হয়নি। তবে ফল প্রকাশের পর পূর্বস্থলী ১নং ব্লকের নসরৎপুরের বিজেপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বাইক-বাহিনীর বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট পূর্বস্থলী দক্ষিণ ৪ নং মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি সত্যরঞ্জন বসাক জানান, ‘আমাদের অফিসের তালা ভেঙে ঢুকে টিভি, চেয়ার, সাইনবোর্ড ভাঙচুর করেছে। কিছু দরকারি নথি নষ্ট করেছে।’ অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি দলের কর্মীদের ‘শান্ত ও সংযত’ থাকার আবেদন জানিয়েছেন।

গত বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরনোর পরে জামালপুরের নবগ্রামে ৩ জন (২ জন তৃণমূল ও একজন বিজেপি কর্মী) ও কেতুগ্রামের শ্রীপুরে একজন বিজেপি কর্মী রাজনৈতিক হিংসার বলি হন। ঘটনার তদন্তে এসেছিল সিবিআই। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ২ সিপিএম কর্মী খুন হন খণ্ডঘোষের লোদনায়। ২০১৯-র লোকসভা ভোটের পর জেলায় বেশকয়েকটি তৃণমূলের কার্যালয় দখলের অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। সেইসঙ্গে কৃষিজমি দখল, গ্রাম থেকে তাড়ানোর মত ঘটনাও ঘটেছিল। এবার তাই আগেভাগেই তৎপর নির্বাচন কমিশন।

গতকাল সন্ধ্যায় কালীঘাটে, নিজের বাসভবনের সামনে, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে নির্বিঘ্নে ভোট পর্ব মিটলেও কেন রাখা হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী সে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।পাশাপাশি তিনি বলেন, রাজ্যে গোটা ভোট প্রক্রিয়াতেই কোথাও রাজ্য পুলিশকে কোনো বুধে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়নি নির্বাচন কমিশন। গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াতেই রাজ্য প্রশাসনের পদস্থ আধিকারীকদের বদিলও করা হয়েছে।

১৯ জুন পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন । এদের মধ্যে ১১৫ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৬০ এসএসবি, ৩৬ কোম্পানি আইটিবিপি, ১৭ কোম্পানি সিআইএসএফ জওয়ানরা থাকবেন । জলপাইগুড়িতে ৬ , আলিপুরদুয়ারে ৫ , কোচবিহারে ১৩ , দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭ , রায়গঞ্জে ৬ , ইসলামপুরে  ৬ , দার্জিলিংয়ে ৬, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ৫ , কালিম্পংএ ৪ , জঙ্গিপুরে ৫ , মালদহে ১২ , আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটে ১১ , বীরভূম ১৮ , কৃষ্ণনগরে ১০ , মুর্শিদাবাদে ১৬,  রানাঘাটে ৭ , বারাসতে ৭ , বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে ১৫ , বসিরহাটে  ১২, বনগাঁয় ১০, চন্দননগরে ১০, হুগলীতে ১২, হাওড়ায় ১১, হাওড়ায় ৮ , পশ্চিম মেদিনীপুর ১৫ , বাঁকুড়ায় ১০ , ঝাড়গ্রামে ১৩, পূর্ব মেদিনীপুর ২০, পুরুলিয়া ১০ , বারুইপুরে ১০ , বিধাননগরে ৭, ডায়মন্ড হারবারে ৮ এবং সুন্দরবনে  ৭ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকছে।রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে গরমের ছুটির পর রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা হলে, ব্যাহত হবে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশুনার কাজ। ইতিমধ্যেই সে নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের শিক্ষক শিক্ষিকারা। মুখ্যমন্ত্রীও গতকাল এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!