- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জুলাই ১২, ২০২৫
বাংলাদেশে নতুন রোহিঙ্গা জনস্রোত, জাতিসংঘের রিপোর্ট উদ্বেগ। সতর্ক নয়াদিল্লি
জাতিসংঘের শরণার্থী বিভাগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এলো উদ্বেগের ছবি । গত ১৮ মাসে জুন্টার দমন থেকে বাঁচতে প্রায় ১,৫০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। ২০১৭ সালের পরবর্তী সময়ে এটিকেই সবচেয়ে বৃহৎ শরণার্থী প্রবাহ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা। আট বছর আগে, মায়ানমার সেনাবাহিনীর হামলায় প্রায় ৮ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিলেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে প্রায় ১,৫০,০০০ রোহিঙ্গা জনজাতির মানুষ প্রবেশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন তাঁরা। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র বাবার বালোচ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর আগমন বাংলাদেশের মানবিক পরিস্থিতিকে আরো সংকটাপন্ন করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশের কক্সবাজারে বর্তমানে ২৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় দশ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। এই শিবিরগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ উদ্বাস্তু শিবির হিসেবে পরিচিত। এরই মধ্যে এই ক্যাম্পগুলোতে নতুন ১,৫০,০০০ রোহিঙ্গা যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। গত ১৮ মাসে যে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা নতুনভাবে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের অধিকাংশই বসবাস করছে শিবিরের অবৈধ অংশে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে নতুন শরণার্থীদের যোগ হওয়ার ফলে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, শিশুদের শিক্ষা এবং অন্যান্য মৌলিক সহায়তা প্রদান এক চরম সংকটের মুখে। অক্টোবরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ডিসেম্বরে খাদ্য সহায়তা বন্ধ হতে পারে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, যদি দ্রুত অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহ না করা যায়, তবে সেখানে ২ লক্ষের বেশি শিশুর শিক্ষা কার্যক্রমও স্থগিত হয়ে যাবে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা নতুন শরণার্থীদের সহায়তার জন্য বায়োমেট্রিক সনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করেছে। জুন মাসের মধ্যে ১,২১,০০০ রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে শনাক্ত করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে সনাক্ত হওয়া শরণার্থীদের খাদ্য, চিকিৎসা এবং অন্যান্য সহায়ক সেবা প্রদান সহজ হবে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। ২০১৭ সালে মায়ানমারের সেনা অভিযানের পর, বাংলাদেশ প্রায় ৭,৫০,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী ট্যাগ গ্রহণ করেছিল, যার ফলে বাংলাদেশের কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ উদ্বাস্তু শিবির হয়ে ওঠে। তবে, সাম্প্রতিক প্রবাহের পর, পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এরকম চলতে থাকলে ইউনূস সরকারের পক্ষে একা পরিস্থিতি সামল দেওয়া কার্যত অসম্ভব।
প্রসঙ্গত, গত দেড় বছর ধরে মায়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’-এর নেতৃত্বে ‘আরাকান আর্মি’ বৃহত্তর অংশের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করেছে। শুক্রবার এক বিমান হামলায় মায়ানমারে ২০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৩টি শিশু রয়েছে। এদিন ভোর ১টা নাগাদ মায়ানমারের সাগাইং জেলার লিন তা লু গ্রামে বিমান বাহিনী একটি মঠের উপর বোমা হামলা চালায়। যেখানে আশ্রয় নেওয়া অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের বসবাস ছিল বলে জানা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে, দীর্ঘদিন ধরে চলা মায়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো তীব্র হয়ে উঠছে। জান্তা সরকারের হাতে ক্ষমতা দখলের পর থেকে, বিশেষ করে সাগাইং অঞ্চলে, একের পর এক বিমান হামলা ও সেনা অভিযান চলছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। গত মে মাসেও এই অঞ্চলের একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে ২২ জন ছাত্র ও শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছিল। এসব কারণেই রোহিঙ্গারা আবারো বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, নতুন আগতদের অধিকাংশই রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের মংডু, বুথিডং, পালেতাওয়ার শহর থেকে পালিয়ে এসেছেন।
তবে কেবল বাংলাদেশ নয়, নতুন রোহিঙ্গা স্রোতে কপালে ভাঁজ পড়েছে নয়াদিল্লির কপালেও। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, মায়ানমার থেকে বাংলাদেশ হয়ে বহু রোহিঙ্গা মানুষ পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম হয়ে ভারতে ঢুকে পড়েন। ছড়িয়ে যান দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, কেরালা-সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। বসতি স্থাপন করে সরকারি সুবিধাও ভোগ করেন তাঁরা। সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দেশজুড়ে অবৈধ শরনার্থীদের চিহ্নিত করবার ব্যাপারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও সেই চিহ্নিতকরণ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলি । কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ, পরিচয় সংক্রান্ত নথি ঠিকভাবে যাটাই না করেই, শুধুমাত্র ভাষিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ।
❤ Support Us






