- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২০, ২০২৫
প্রকাশিত নিট পিজি ২০২৫-এর ফলাফল
স্নাতকোত্তর ডাক্তারি পড়াশোনায় ভর্তির জন্য নেওয়া নিট-পিজি ২০২৫ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করল ন্যাশনাল বোর্ড অব এগজামিনেশন ইন মেডিকেল সায়েন্সেস। চলতি বছরের ৩ অগস্ট দেশের মোট ৩০১টি শহরে ১০৫২টি কেন্দ্র জুড়ে একযোগে কম্পিউটার ভিত্তিক এই প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় আড়াই লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেন। তাঁদের মধ্যে ১ লক্ষ ২৮ হাজার ১১৬ জন সফল হয়েছেন বলে জানিয়েছে পর্ষদ।
ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় পর্ষদের নিজস্ব ওয়েবসাইট https://natboard.edu.in তে। পরীক্ষার্থীরা তাঁদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও গোপন সংকেত ব্যবহার করে ফলাফল দেখতে পারবেন। যদিও ব্যক্তিগত নম্বরপত্র পাওয়া যাবে ২৯ অগস্ট থেকে। সে নম্বরপত্র শুধুমাত্র ৬ মাসের জন্য বৈধ থাকবে এবং শুধুমাত্র ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য ব্যবহারযোগ্য। গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার প্রশ্ন, উত্তরসহ, নিরীক্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়োজিত অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞেরা। পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো প্রশ্নই কারিগরি ভাবে ত্রুটিপূর্ণ নয়। ফলে নম্বর পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ নেই। তবে তা সত্ত্বেও যদি কোনো পরীক্ষার্থী তাঁর প্রাপ্ত নম্বর বা স্থান নিয়ে অসন্তুষ্ট হন, তা হলে অবিলম্বে জাতীয় পর্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা যোগাযোগ করতে পারেন জাতীয় পর্ষদের সাহায্যকেন্দ্রে, যার নম্বর ০১১-৪৫৫৯৩০০০। অথবা NBEMS যোগাযোগ পোর্টাল গিয়েও অভিযোগ জানাতে পারেন।
এবারের নিট-পিজি পরীক্ষায় সাধারণ ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের জন্য যোগ্যতার ন্যূনতম নম্বর নির্ধারিত হয়েছে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পঞ্চাশতম শতাংশস্থানে থাকা পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী, যার মান ২৭৬। অনগ্রসর জাতি, তফশিলি জাতি ও উপজাতি পরীক্ষার্থীদের জন্য সেই সীমা নির্ধারিত হয়েছে ২৩৫ নম্বরে। একই সীমা প্রযোজ্য তাঁদের মধ্যে প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও। ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রীয় ৫০ শতাংশ কোটার অধীনে ভর্তির জন্য পৃথক মেধা তালিকা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় পর্ষদ। ওই তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর শুরু হবে সর্বভারতীয় পরিসরে কেন্দ্রীয় কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া। পাশাপাশি, প্রতিটি রাজ্য নিজস্ব সংরক্ষণ নীতি, স্থানীয় বিধিনিষেধ ও নিয়মাবলী অনুযায়ী রাজ্য কোটার জন্য পৃথক মেধা তালিকা প্রকাশ করবে। চলতি বছর, দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে আসনের সংখ্যা মোট ৪৯ হাজার ৭৯০টি। এর মধ্যে ৩০ হাজার ৩৮৪টি আসন রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং ১৯ হাজার ৪০৬টি আসন রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
জাতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞান পর্ষদ জানিয়েছে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চূড়ান্ত ভর্তি নির্ভর করবে যোগ্যতার সমস্ত মাপকাঠি পূরণ হওয়ার উপর। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ যদি অনৈতিক পদ্ধতিতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে থাকেন, তবে পত্রপাট ফলাফল বাতিল করা হবে। পরীক্ষার্থীর প্রার্থিতা তখনই বৈধ বলে গণ্য হবে, যখন তিনি জাতীয় চিকিৎসা কমিশনের বিধি অনুযায়ী স্বীকৃত এমবিবিএস ডিগ্রি বা সাময়িক পাশের সনদধারী হবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১ বছরের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করবেন। ভর্তি নেওয়া যাবে দেশের সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়, স্বনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়, সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, পোস্ট-এমবিবিএস ডিএনবি ও জাতীয় পর্ষদের স্বীকৃত ডিপ্লোমা কোর্সে। তবে নিট-পিজি পরীক্ষার আওতাভুক্ত নয়, দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস, চণ্ডীগড়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, পুদুচেরির জওহরলাল ইনস্টিটিউট অফ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, বেঙ্গালুরুর নিইমহ্যান্স এবং ত্রিভানদ্রমের শ্রীচিত্রা তিরুনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি।
সংসদের উচ্চকক্ষে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া পটেল জানিয়েছেন, ‘২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনে বা এমবিবিএস আসন বাড়ানোর অনুমোদন স্থগিত হয়নি। বরং জাতীয় চিকিৎসা কমিশনের অধীনস্থ চিকিৎসা মূল্যায়ন ও মূল্যায়ন বোর্ড (মার্ব) প্রতিটি আবেদন যথাযথ পদ্ধতিতে খতিয়ে দেখে অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় অনলাইন পদ্ধতিতে। আবেদনের পর ডিজিটাল যাচাই, আধারভিত্তিক উপস্থিতি রেকর্ড, হাসপাতালে রোগীর তথ্য যাচাই, লাইভ ভিডিও নজরদারি কিংবা হঠাৎ পরিদর্শনের মতো নানা ধাপে পর্যালোচনা করা হয়। সমস্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণের পরেই অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
❤ Support Us








