- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫
“সন্ত্রাসের সঙ্গে আপস নয়”, এসিও মিটে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
চিনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার জন্য চিহ্নিত করে লজ্জিত করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সেই সময় কক্ষে উপস্থিত ছিলেন যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাহলগামে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ তোলেন, যেখানে ২৬ জন নিরীহ মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য বন্ধু দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, “কিছু দেশ প্রকাশ্যে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, SCO-এর ভিত্তি তিনটি মূল স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে: নিরাপত্তা (Security), সংযোগ (Connectivity), এবং সুযোগ (Opportunity)।
তিনি বলেন, “প্রথম স্তম্ভ, অর্থাৎ নিরাপত্তা নিয়ে আমি বলতে চাই—নিরাপত্তা, শান্তি এবং স্থিতিশীলতা প্রত্যেক দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং চরমপন্থা এই পথের বড় চ্যালেঞ্জ। সন্ত্রাসবাদ কোনো এক দেশের সমস্যা নয়, এটি পুরো মানবজাতির জন্য হুমকি। তাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যের উপর ভারত বরাবরই গুরুত্ব দিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, “সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কোনও দ্বৈত নীতি বরদাস্ত করা যাবে না। আমাদের একক কণ্ঠে বলতে হবে—সন্ত্রাসবাদের সব রূপ ও রঙের বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হবে। এটি মানবতার প্রতি আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত গত চার দশক ধরে সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহতা সহ্য করে চলেছে এবং বহু মায়েরা তাঁদের সন্তানদের হারিয়েছেন।সম্প্রতি আমরা পাহলগামে সন্ত্রাসবাদের একটি জঘন্য রূপ দেখেছি। যারা এই সময়ে আমাদের পাশে থেকেছেন, আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। এটি শুধু ভারতের আত্মার উপর আঘাত নয়, বরং মানবতায় বিশ্বাসী প্রত্যেক দেশের প্রতি একটি খোলা চ্যালেঞ্জ। তাহলে প্রশ্ন উঠছে—কিছু দেশের দ্বারা সন্ত্রাসবাদকে প্রকাশ্যে সমর্থন কি গ্রহণযোগ্য?”
এখন সকলের নজর রয়েছে সম্মেলনের যৌথ বিবৃতির দিকে, যেখানে দেখা যাবে চিনসহ ইউরেশিয়ার অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্র ভারতীয় অবস্থানকে সমর্থন করে কিনা।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা প্রতিটি দেশের অধিকার এবং সন্ত্রাসবাদ শুধু ভারতের নয়, বরং পুরো বিশ্বের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “কিছু দেশের দ্বারা সন্ত্রাসবাদকে প্রকাশ্যে সমর্থন কি আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব? আমাদের স্পষ্টভাবে বলতে হবে—সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও দ্বিমুখী নীতি চলবে না।”
প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ় অবস্থান আসে প্রায় চার মাস পর, পাহলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের পাল্টা পদক্ষেপ ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রেক্ষিতে।
❤ Support Us







