- দে । শ
- এপ্রিল ২৮, ২০২৩
জমি বিতর্কে বিশ্বভারতীর উচ্ছেদ নোটিশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ অমর্ত্য । বিশ্বভারতীর বিরুদ্ধে মুখর বুদ্ধিজীবিরা
অনেকদিন ধরেই বিশ্বভারতীর সঙ্গে তাঁর ১৩ ডেসিমেল জমি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এবার সরাসরি বিশ্বভারতীর উচ্ছেদের নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হলেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ৬ মে-র মধ্যে অমর্ত্য সেনকে তাঁর শান্তিনিকেতনের বাড়ি খালি করার নোটিশ দিয়েছে। তাতে উল্লেখ ছিল, তিনি বাড়ি খালি না করলে বলপ্রয়োগ করা হবে। এই নোটিশের বিরুদ্ধেই এবার আদালতের দ্বারস্থ হলেন অমর্ত্য সেন।
প্রতীচীর বাড়ি নিয়ে সিউড়ি আদালতে বিশ্বভারতীর বিরুদ্ধে অমর্ত্য সেনের মামলার শুনানি ১৫ মে। এদিকে অমর্ত্য সেনের মত নোবেলজয়ীকে এই ভাবে হেনস্থার ঘটনার প্রতিবাদে একজোটে বিরোধিতা করেছেন রাজ্যের বুদ্ধিজীবীরা। শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিকরাও বিশ্বভারতীর এই কাজে ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নন্দনে অমর্ত্য সেনের সঙ্গে বিশ্বভারতীর জমি বিতর্ক ও তাকে ঘিরে নোবেল জয়ীকে বিশ্বভারতীর উচ্ছেদের নোটিস দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে অমর্ত্য সেনের পাশে দাঁড়ালেন বাংলার বিদ্বজ্জনরা। বৃহস্পতিবার নন্দন থ্রি-তে সভা করে, বিশ্বভারতীর বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করে সামাজিক মর্যাদা রক্ষা সমিতি নামে একটি সংগঠন। এই মঞ্চ থেকে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের হেনস্থা করার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, দেবশঙ্কর হালদার, অনিতা অগ্নিহোত্রীর মতো বিদ্বজ্জনরা।
এই প্রতিবাদ সভা থেকে দাবি উঠেছে, যিনি আচার্য ক্ষিতিমোহন সেনের নাতি। যাঁর নাম রেখেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নোবেলজয়ী সেই অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলে উচ্ছেদের নোটিস কী ভাবে দিতে পারল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্য়ালয় কর্তৃপক্ষ।
বেশ কয়েক মাস ধরেই অমর্ত্য সেনের শান্তিনিকেতনের বাড়ি প্রতীচী নিয়ে টানাপোড়েন চলছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। অমর্ত্য সেনকে প্রথমে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ নোটিস ধরিয়ে জানায় প্রতীচীর বাড়ির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ডেসিমেল জমি ঢুকে রয়েছে। সেই জমি তাঁর ছেড়ে দিতে হবে।
তারপরেই পাল্টা বিশ্বভারতীকে চিঠি দিয়ে অমর্ত্য সেন জানান যে তাঁর প্রতীচীর বাড়িতে করোও কোনও জমি ঢুকে নেই। বিশ্বভারতীর লিজ দিয়েছিল বাড়িটি। সেই লিজ শেষ হওয়ার আগেই এই ধরনের নোটিস কেন তাঁকে দেওয়া হচ্ছে ? তারপরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্তিনিকেতনে গিয়ে নোবেল জয়ীর হাতে জমির কাগজ তুলে দিয়ে আসেন। অমর্ত্য সেনকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা তিনি ঘোষণা করেন ।
আর এই ঘটনার কিছুদিন পরেই অমর্ত্য সেনকে বাড়ি খালি করে দেওয়ার নোটিস ধরায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অমর্ত্য সেনকে ৬ মে-র মধ্যে বাড়ি খালি করে দিতে হবে, না হলে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাঁকে উচ্ছেদ করা হবে বলেও ওই নোটিশে হুঁশিয়ারিও দেয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। অবশেষে এই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সিউড়ি আদালতে মামলা দায়ের করলেন অমর্ত্য সেন। এই মামলার ১৫ মে মামলার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। এই শুনানির আগেই অর্থাৎ ৬মে-র মধ্যে নোবেল জয়ীকে বাড়ি খালি করে দিতে নোটিশ দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এবার দেখার ১৫ মে-র আগে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কী করে সেই উচ্ছেদের নোটিশ কার্যকর করে।
❤ Support Us







